ভারতে ভোক্তা মূল্যসূচকভিত্তিক খুচরা মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৪.৮% থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৫.৫% হয়েছে, আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৬.০% থেকে বেড়ে ৭.৭%। ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের (Crisil Intelligence) অক্টোবরের মূল্যায়নের বরাতে এ তথ্য দিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম।
সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে পেঁয়াজ থেকে: রবি মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়ায় সরবরাহ টান, পেঁয়াজের মূল্যস্ফীতি ৪৮.৮% থেকে লাফিয়ে ১০৮.১%। তাজা সবজি ও কন্দজাতীয় ফসলের মূল্যস্ফীতি সামগ্রিকভাবে ১০.৮%, আগস্টে যা ছিল ১.০%, মূলত ভিত্তি-প্রভাবের কারণে। আলু ও টমেটোর দাম এখনো কমছে, যথাক্রমে মাইনাস ১১.৫% ও মাইনাস ৮.৬%, তবে আগের চেয়ে কম হারে। ক্রিসিলের ধারণা, জুনে বৃষ্টি কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে এবং উৎসবের চাহিদা যোগ হয়েছে, তাই অক্টোবরের প্রথমার্ধে পেঁয়াজের দাম চড়া থাকবে; মাসের শেষে খরিফ ফসল বাজারে এলে কিছুটা কমবে।
খাদ্যশস্যের মূল্যস্ফীতি ৩.৯% (আগস্টে ২.৮%), ডাল ৪.৭% (৩.৬%)। চিনির মূল্যস্ফীতি ২২.২% থেকে ২৮.০%। আন্তর্জাতিক বাজারে একসঙ্গে দাম বাড়া চাল, গম, ভুট্টা, ভোজ্যতেল ও চিনি সেপ্টেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের জন্য দায়ী, এপ্রিলে যা ছিল প্রায় ১৫%। ভোজ্যতেলের মূল্যস্ফীতি ৯.৪%; এফএওর ভোজ্যতেল মূল্যসূচক এক বছরে বেড়েছে ১৮.৩%। সেপ্টেম্বরের শেষে কিছু ভোজ্যতেলের আমদানি শুল্ক কমানোয় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।
দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য ও ডিমের মূল্যস্ফীতি ৫.১% (৪.৮%); উচ্চ ভিত্তির কারণে মাংসে তা ১২.০% থেকে নেমে ৮.৭%, মাছে ৭.৯%। ক্রিসিলের বৃষ্টিঘাটতির প্রভাব-সূচক অনুযায়ী যেসব এলাকায় বৃষ্টি কম এবং সেচ সীমিত, সেখানে বাজরা, অড়হর, ভুট্টা, চীনাবাদাম, ধান ও সয়াবিন ঝুঁকিতে আছে; রবি ফসল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
ক্রিসিল ২০২৭ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ২০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৩% করেছে এবং ডিসেম্বরে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নীতি সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে, কারণ সোনা-রুপা বাদে মূল মূল্যস্ফীতিও ২.৯% থেকে বেড়ে ৩.২% হয়েছে।
ছবি: McKay Savage / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম





মন্তব্য
(০)