বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর পূর্বাভাস দেওয়ার পর বাংলাদেশে খরা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস সামনে রেখে বিশেষজ্ঞরা সমকালকে বলেছেন, শুধু ত্রাণ আর পুনর্বাসনের ওপর ভরসা না করে আগাম প্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস এবং কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় সময়মতো পদক্ষেপ এখনই দরকার।
বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, এল নিনোর প্রভাবে দেশে শুষ্কতা, খরা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে, তবে বন্যা বা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিও থেকে যায়। তাঁর ব্যাখ্যায়, তাপপ্রবাহের সঙ্গে খরা দেখা দিলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়; পানির সংকটে সেচের চাহিদা ও কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যের বাজারে পড়তে পারে। তাপমাত্রা ও বৃষ্টির ধরন বদলালে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
হাইড্রো-ক্লাইমেট অ্যান্ড ওশান সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহন কুমার দাশ জানান, ১৯৫১ থেকে ২০১৭ সালের তথ্য নিয়ে দেশের পাঁচটি উপকূলীয় জেলায় করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনোর বছরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিক বছরের চেয়ে গড়ে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এল নিনোর পূর্বাভাস পেলেই কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করা এবং অঞ্চলভিত্তিক আবহাওয়া ও মৌসুমি বৃষ্টির পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ড. সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, এল নিনোর বছরে বৃষ্টি প্রায়ই অনিয়মিত হয়: কোথাও কম, কোথাও অতিবৃষ্টি। হিমালয়ের পাদদেশ ও উজানে ভারী বৃষ্টি হলে ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা ও মেঘনার পানি একসঙ্গে বেড়ে বড় বন্যাও হতে পারে। তাঁর পরামর্শ, বৃষ্টি, বন্যা ও খরার মৌসুমি পূর্বাভাস আরও কার্যকর করা, যাতে মার্চ-এপ্রিল বা মে মাসে খরা বা তীব্র গরমের আশঙ্কা থাকলে কৃষকদের আগেই সতর্ক করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এখনো ত্রাণকেন্দ্রিক প্রবণতা রয়ে গেছে; ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তে যুক্ত করা, সংস্থাগুলোর সমন্বয়, স্থানীয় প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কবার্তা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থান, অসংখ্য নদনদী, জলবায়ু পরিবর্তন ও জনসংখ্যার চাপ দেশকে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত করেছে।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মূল অনুষ্ঠান এবং বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় নানা কর্মসূচি নিয়েছে।
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)