ঘানার আহাফো আনো নর্থ (Ahafo Ano North) জেলায় ভিডিও দেখিয়ে গ্রামে গ্রামে আলোচনার এক উদ্যোগে কৃষক, উপকরণ বিক্রেতা, স্প্রেকর্মী, ব্যবসায়ী ও গ্রামপ্রধানেরা এক জায়গায় বসে কথা বলছেন সবজিতে অতি বিপজ্জনক বালাইনাশকের অপব্যবহার এবং এর পেছনের চাপ নিয়ে।
ক্যাবির (CABI) প্ল্যান্টওয়াইজপ্লাস (PlantwisePlus) কর্মসূচি জেলা কৃষি বিভাগের সঙ্গে মিলে উদ্যোগটি চালাচ্ছে। এটি ঘানার টমেটো ও সবজি উৎপাদনের প্রধান আটটি জেলায় চলা বৃহত্তর আচরণ পরিবর্তন কর্মসূচির অংশ। স্থানীয় ভাষায় অভিনেতাদের ছোট ভিডিওতে অনিরাপদ স্প্রের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষতি এবং নিরাপদ পদ্ধতি দেখানো হয়; প্রতিটি প্রদর্শনীর পর হয় আলোচনা।
আলোচনায় বোঝা গেছে, সমস্যা শুধু জ্ঞানের ঘাটতি নয়। ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সবজি বিচার করেন চেহারা দেখে, নিরাপদ বিকল্প দামি ও দুর্লভ, প্রশিক্ষিত স্প্রেকর্মী পাওয়া কঠিন, সুরক্ষা সরঞ্জামও প্রায়ই ব্যবহার হয় না। পাইকারেরা জানিয়েছেন, বেগুনের মতো সবজি চকচকে দেখাতে কিছু কৃষক ঘরের ডিটারজেন্টসহ বিপজ্জনক জিনিস ছিটান।
এক পাইকার এক কৃষকের কথা বলেছেন, যিনি বেগুনখেতের বড় অংশে, যা বাজারে যাবে, অতি বিপজ্জনক বালাইনাশক দিতেন আর পরিবারের জন্য ছোট একটি অংশ রাখতেন স্প্রে ছাড়া। মাবাং গ্রামের আলোচনায় এক নারী জানান, আকোমাদানে স্বামী টমেটোখেতে স্প্রে করার সময় মেশানো বিষ আনতে সাহায্য করে তিনি অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান; এরপর আর খেতে ফেরেননি।
শুরুতে সাতটি গ্রামে ৩৫০ জনকে নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা ছিল। আগ্রহ বেশি দেখে কৃষি বিভাগ তেপা বাজারে ব্যবসায়ী ও পাইকারদের জন্য অষ্টম একটি আলোচনা যোগ করে। সব মিলিয়ে অংশ নেন ৬৩৫ জন, আর কৃষক ও সামাজিক মাধ্যমের নেটওয়ার্কে ছোট ভিডিও পৌঁছেছে আরও ৩৭৫ জনের কাছে।
অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, তাঁরা বালাইনাশক কেনা ও দেওয়ার আগে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেবেন, নিবন্ধনহীন ও অতি বিপজ্জনক পণ্য এড়াবেন, ফসল তোলার আগের অপেক্ষার সময় মানবেন, কম ওষুধ মেশাবেন, সুরক্ষা সরঞ্জাম পরবেন। তাঁরা সাশ্রয়ী নিরাপদ পণ্য, বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি এবং বিপজ্জনক পণ্যের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থাও চেয়েছেন। আবোনসুয়াসো-দানিয়ামের গ্রামপ্রধান বলেন, "এই শিক্ষা একবারের কাজ হলে চলবে না।"
ছবি: Attah Mohammed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)