সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩০°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৮%বাতাস ৯ কিমি/ঘ

AEZ-০৫: নিম্ন আত্রাই অববাহিকা, চলনবিল, নদী, পানি, পলিমাটি আর কৃষকের জীবনের এক পরিবর্তনশীল ভূদৃশ্য

দেশের পঞ্চম কৃষি-পরিবেশ অঞ্চল নিম্ন আত্রাই অববাহিকা, নওগাঁ ও নাটোরের নিচু জমিজুড়ে প্রায় ৮৫ হাজার হেক্টর। অঞ্চলটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিচু জমি, মাটি ভারী, ধূসর আর অম্লীয়, আর এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে চলনবিল। বর্ষায় যে মাঠ পানির নিচে থাকে, শীতে সেখানেই বোরো ধানের চাষ হয়। ভূমির ব্যবহার দ্রুত বদলাচ্ছে। স্যাটেলাইট তথ্য আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই পরিবর্তন বুঝতে সাহায্য করতে পারে, যদি প্রতিটি পূর্বাভাস কৃষকের মাঠে যাচাই হয়।

AEZ-০৫: নিম্ন আত্রাই অববাহিকা, চলনবিল, নদী, পানি, পলিমাটি আর কৃষকের জীবনের এক পরিবর্তনশীল ভূদৃশ্য
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে এমন কিছু মাঠ আছে, যেগুলোর চেহারা বছরে অন্তত দুবার পুরোপুরি বদলে যায়। আষাঢ়-শ্রাবণে চারদিকে শুধু পানি। নৌকা চলে, জেলেরা জাল ফেলেন, দূরের গ্রামগুলোকে দেখায় পানির ওপর ভেসে থাকা ছোট ছোট দ্বীপের মতো। কয়েক মাস পর সেই একই জায়গায় শুকনো মাটি, ট্রাক্টরের চাষ, বোরো ধানের সবুজ চারা। বৈশাখে সোনালি ধান কাটার ব্যস্ততা।

এই বদলে যাওয়া ভূদৃশ্যের একটি বড় অংশের নাম নিম্ন আত্রাই অববাহিকা (Lower Atrai Basin)। দেশের ৩০টি কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলের মধ্যে এটি পঞ্চম, সংক্ষেপে AEZ-০৫। আর এই অঞ্চলের নাম শুনলেই যে জায়গাটির কথা সবার আগে মনে আসে, সেটি চলনবিল।

মানচিত্রে অঞ্চলটিকে একটি রঙিন দাগ হিসেবে দেখলে এর আসল পরিচয় ধরা পড়ে না। এখানে মাটির ধরন, জমির উচ্চতা, বর্ষার পানি কতটা গভীর হয় আর কত দিন থাকে, কখন চাষ শুরু করা যায়, সবকিছু একটি আরেকটির সঙ্গে বাঁধা। কৃষকের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করে এই সম্পর্ক।

বর্ষায় চলনবিলের পানিতে খড়বোঝাই নৌকা, পানির ওপর মাথা তুলে আছে ধানগাছের ডগা। নাটোর, জুলাই। ছবি: শাহনূর হাবীব মুনমুন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
বর্ষায় চলনবিলের পানিতে খড়বোঝাই নৌকা, পানির ওপর মাথা তুলে আছে ধানগাছের ডগা। নাটোর, জুলাই। ছবি: শাহনূর হাবীব মুনমুন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

AEZ-05 Bangladesh: নিম্ন আত্রাই অববাহিকা কোথায়?


কৃষি-পরিবেশ অঞ্চল মানে এমন একটি এলাকা, যেখানে ভূমিরূপ, মাটি, পানি আর জলবায়ু মোটামুটি একই রকম, তাই চাষাবাদও চলে কাছাকাছি নিয়মে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এই ৩০টি অঞ্চল ধরে গবেষণার পরিকল্পনা করে, সারের সুপারিশ ঠিক করে।

বিএআরসির সার সুপারিশ নির্দেশিকা ২০২৪ অনুযায়ী নিম্ন আত্রাই অববাহিকার আয়তন ৮৫ হাজার ১০৫ হেক্টর, অর্থাৎ প্রায় ৮৫১ বর্গকিলোমিটার। নির্দেশিকার জেলাভিত্তিক হিসাবে নওগাঁয় পড়েছে প্রায় ৩৭ হাজার ৪০০ হেক্টর, নাটোরে প্রায় ৩৫ হাজার ৪০০ হেক্টর আর সিরাজগঞ্জে প্রায় ৭ হাজার ২০০ হেক্টর। বাকি অল্প জমি আশপাশের জেলায়; অঞ্চলটির পুরোনো বর্ণনায় রাজশাহী ও বগুড়ার ছোট অংশের কথাও আছে।

অঞ্চলটির অবস্থান দুটি বড় ভূমিরূপের মাঝখানে। পশ্চিম ও উত্তরে বরেন্দ্রভূমির লালচে উঁচু মাটি, দক্ষিণে গঙ্গা প্লাবনভূমি। এই দুইয়ের মাঝের নিচু, প্রায় সমতল জমিই নিম্ন আত্রাই অববাহিকা।

চলনবিল আর AEZ-০৫ এক জিনিস নয়


একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার থাকা দরকার। AEZ-০৫-এর সীমানা আর আজকের চলনবিলের পানিতে ঢাকা অংশের সীমানা এক নয়। কৃষি-পরিবেশ অঞ্চল একটি স্থির শ্রেণিবিভাগ, মাটি, ভূমিরূপ, পানি আর জলবায়ু মিলিয়ে তৈরি। চলনবিল একটি জীবন্ত জলাভূমি, যার আয়তন ঋতু আর বছরের সঙ্গে বাড়ে-কমে।

২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা আগের সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, একসময় চলনবিলের বিস্তৃতি ছিল এক হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি। এখন এর মূল জলাভূমি প্রায় ৩৭৫ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে সারা বছর পানিতে ডুবে থাকে মাত্র ৫২ থেকে ৭৮ বর্গকিলোমিটার। চলনবিল এলাকার কিছু অংশ আবার পাবনা ও সিরাজগঞ্জে, AEZ-০৫-এর বাইরে। তাই ৮৫১ বর্গকিলোমিটারকে চলনবিলের আয়তন ভাবলে ভুল হবে।

গবেষণার জন্য এই পার্থক্য খুব জরুরি। একটি গ্রাম AEZ-০৫-এর ভেতরে পড়লেও তার প্রতিটি মাঠের উচ্চতা, মাটি, পানির গভীরতা আর চাষের সুযোগ এক রকম হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

নদীর পলি আর বরেন্দ্রের মাটিতে গড়া নিম্নভূমি


নিম্ন আত্রাই অববাহিকার আজকের চেহারা এক দিনে তৈরি হয়নি। নদীর গতিপথ বদল, প্রতি বর্ষায় পলি জমা আর দীর্ঘ সময়ের ভূপ্রাকৃতিক পরিবর্তন মিলে গড়ে উঠেছে এই নিম্নভূমি। আত্রাই নদী উত্তর দিক থেকে নওগাঁর ভেতর দিয়ে নেমে এসে এই অববাহিকার পানি বয়ে নেয় চলনবিলের দিকে।

গবেষকেরা এই ভূমিকে আত্রাই ও গঙ্গার পলি আর বরেন্দ্রভূমি থেকে ধুয়ে আসা মাটির মিশ্রণে তৈরি একটি নিচু ভূভাগ হিসেবে বর্ণনা করেন। আত্রাই নদীর উত্তরের অংশ তুলনামূলক মসৃণ ও সমতল। দক্ষিণে প্লাবনভূমির কিছু উঁচু পাড় আর তার মাঝে বিস্তীর্ণ নিচু অববাহিকা। বেশির ভাগ জায়গায় ভারী কাদামাটি, তবে কোনো কোনো উঁচু পাড়ে হালকা দোআঁশ মাটিও পাওয়া যায়।

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সমসপাড়ায় আত্রাই নদী। এই নদীর নামেই অঞ্চলটির নাম। ছবি: আজিজুর রহমান নানা / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সমসপাড়ায় আত্রাই নদী। এই নদীর নামেই অঞ্চলটির নাম। ছবি: আজিজুর রহমান নানা / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

চলনবিল আসলে একটি মাত্র বিল নয়। ছোট-বড় অনেক বিল, খাল আর নদী-নালা বর্ষায় একটির সঙ্গে আরেকটি মিলে যায়, তৈরি হয় বিশাল এক জলাভূমি। নাটোরের হালতি বিলও এই জালের অংশ। শীতে পানি নেমে গেলে আলাদা আলাদা বিল আবার চোখে পড়ে, আর তাদের চারপাশের জমি হয়ে ওঠে ধানখেত।

তাই চলনবিলকে শুধু জলাভূমি বললে কম বলা হয়। এটি একই সঙ্গে ধানের মাঠ, মাছের আধার, পাখি আর জলজ উদ্ভিদের আশ্রয়, বর্ষার বাড়তি পানি ধরে রাখার প্রাকৃতিক জায়গা, আর লাখো মানুষের জীবিকার উৎস।

চলনবিলের পানিতে মাছ ধরার খুঁটি আর কচুরিপানা। বর্ষায় বিলের এই অংশ খোলা জলাভূমি। ছবি: জুবায়ের বিন ইকবাল / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চলনবিলের পানিতে মাছ ধরার খুঁটি আর কচুরিপানা। বর্ষায় বিলের এই অংশ খোলা জলাভূমি। ছবি: জুবায়ের বিন ইকবাল / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

দুই-তৃতীয়াংশ জমি নিচু, তাই কৃষির হিসাব আলাদা


এই অঞ্চলের কৃষিকে সবচেয়ে বেশি চালায় জমির উচ্চতা। বিএআরসির হিসাবে অঞ্চলের ৬৫ শতাংশ জমি নিচু জমি, যেখানে বর্ষায় পানি অনেক গভীর হয়। আরও ২১ শতাংশ মাঝারি নিচু জমি। মাঝারি উঁচু জমি মাত্র ৮ শতাংশ, উঁচু জমি ২ শতাংশ, আর বাকি ৪ শতাংশ বসতভিটা ও জলাশয়। অর্থাৎ প্রতি দশ ভাগ জমির প্রায় নয় ভাগই বর্ষায় কমবেশি পানির নিচে যায়।

জমি প্রায় সমতল আর নিচু হওয়ায় ভারী বৃষ্টির পানি দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে না। নদীতে পানি বাড়লে নিচু অংশে পানি থাকে মাসের পর মাস। অন্যদিকে অববাহিকার কিনারায় বা একটু উঁচু জমিতে পানি আগে নামে, চাষের সুযোগও তৈরি হয় আগে।

একজন কৃষকের কাছে এটি কাগজের তত্ত্ব নয়, প্রতিদিনের বাস্তবতা। তাঁর এক টুকরো জমিতে হয়তো কার্তিক পর্যন্ত পানি থাকবে। কয়েকশ মিটার দূরের আরেক টুকরো জমি হয়তো আশ্বিনেই শুকিয়ে যাবে। প্রথম জমিতে বোরোর জন্য অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। দ্বিতীয় জমিতে বোরোর আগে সরিষা বা অন্য কোনো স্বল্পমেয়াদি ফসলের সুযোগ থাকতে পারে।

তাই একই গ্রামের ভেতরেও উঁচু আর নিচু জমির কৃষি ক্যালেন্ডার আলাদা। চারা রোপণের তারিখ, জাত বাছাই, জমি চাষ, সেচ, সবকিছু বদলে যায় জমিটি অববাহিকার কোথায় বসে আছে তার ওপর।

বর্ষায় চলনবিলের বিস্তীর্ণ পানির মাঝে একটি বসতভিটা। অঞ্চলের বেশির ভাগ জমি এই সময় পানির নিচে থাকে। ছবি: শাহনূর হাবীব মুনমুন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
বর্ষায় চলনবিলের বিস্তীর্ণ পানির মাঝে একটি বসতভিটা। অঞ্চলের বেশির ভাগ জমি এই সময় পানির নিচে থাকে। ছবি: শাহনূর হাবীব মুনমুন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলের শ্রেণিবিভাগ এই বড় ছবিটা বুঝতে সাহায্য করে। কিন্তু মাঠে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে দরকার আরও সূক্ষ্ম, জমিভিত্তিক তথ্য।

ভারী কাদামাটি: সম্পদ, আবার চ্যালেঞ্জও


বিএআরসির নির্দেশিকা বলছে, এই অঞ্চলে গাঢ় ধূসর, ভারী, অম্লীয় কাদামাটির প্রাধান্য। অঞ্চলে সাত ধরনের সাধারণ মাটি পাওয়া যায়, তবে বেশির ভাগ জায়গা জুড়ে আছে চুনবিহীন গাঢ় ধূসর প্লাবনভূমি মাটি। জৈব পদার্থ কম থেকে মাঝারি। নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার, দস্তা আর বোরনের ঘাটতি এখানে সাধারণ ঘটনা।

মাটির অম্লতাও সব জায়গায় এক রকম নয়। নির্দেশিকার হিসাবে মাঝারি নিচু জমিতে মাটির পিএইচ ৪.২ থেকে ৬.৫, নিচু জমিতে ৪.৫ থেকে ৬.৭। অর্থাৎ কোথাও মাটি খুব বেশি অম্লীয়, কোথাও সামান্য অম্লীয়। নাইট্রোজেন আর ফসফরাসের অবস্থা প্রায় সব জমিতেই খুব কম থেকে কম।

ভারী মাটির সবচেয়ে বড় গুণ, এটি পানি ধরে রাখতে পারে। ধানের জন্য তা অনেক সময় আশীর্বাদ। কিন্তু একই গুণ সমস্যাও তৈরি করে। পানি বেশি দিন থাকলে মাটি শুকাতে দেরি হয়, জমি চাষ পিছিয়ে যায়, কাদায় যন্ত্র নামানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পরের ফসল লাগানোর জন্য কৃষকের হাতে সময় থাকে খুব অল্প।

এক কথায়, এখানে মাটির একই বৈশিষ্ট্য একদিকে কৃষির সম্পদ, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনার পরীক্ষা।

মাটিতে আসলে কী আছে


জার্নাল অব এগ্রোফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সাময়িকীতে ২০০৮ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় চলনবিল এলাকার কয়েকটি নিচু ধানি জমির মাটি পরীক্ষা করা হয়। মাটির বুনট পাওয়া যায় পলিময় কাদা থেকে পুরোপুরি কাদা পর্যন্ত, যা ধান চাষের জন্য বেশ উপযোগী। জৈব পদার্থ ছিল কম থেকে মাঝারি।

পুষ্টির হিসাবটা ছিল মিশ্র। নাইট্রোজেন, ফসফরাস আর দস্তা কম। সালফার, বোরন, তামা আর লোহা মাঝারি। আবার পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম তুলনামূলক বেশি। ওই নমুনাগুলোর পিএইচ ছিল প্রায় নিরপেক্ষের কাছাকাছি, যা দেখায় অঞ্চলের ভেতরেই মাটি কতটা আলাদা হতে পারে। গবেষকেরা লিখেছেন, ঘাটতিগুলো ঠিকমতো পূরণ করা গেলে প্রচলিত বোরো-পতিত-আমন বিন্যাস টিকিয়ে রাখার ভালো সম্ভাবনা এই মাটির আছে। জমির ব্যবহার বদলানোয় নাইট্রোজেন আর ফসফরাস সারের চাহিদা যে বাড়ছে, সে কথাও তাঁরা উল্লেখ করেন।

এখান থেকে একটি বড় শিক্ষা পাওয়া যায়। "মাটি উর্বর" বললে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। কৃষকের জানা দরকার কোন পুষ্টি কম, কোন জমিতে কম, আর ঠিক কতটা দিতে হবে। উত্তরটা এক জমি থেকে আরেক জমিতে বদলে যেতে পারে।

মাটির ভেতরের খনিজ


আরও গভীরে গেলে মাটির ভেতরের খনিজও আলাদা তথ্য দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান সাময়িকীতে ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় নিম্ন আত্রাই অববাহিকার সাতটি মাটি সিরিজ, বিনসারা, তারাশ, জাওনিয়া, হাসনাবাদ, লস্করা, মান্দা আর মৈনম, এগুলোর উপরিভাগের মাটির কাদা অংশ এক্স-রে পরীক্ষায় বিশ্লেষণ করা হয়।

দেখা যায়, লস্করা ছাড়া সব মাটিতে কাদার প্রধান খনিজ অভ্র, পরিমাণে ৪১ থেকে ৫৯ শতাংশ। লস্করায় প্রধান ছিল অভ্র, ভার্মিকুলাইট আর স্মেকটাইটের মিশ্র স্তর। এর পাশাপাশি বিভিন্ন মাটিতে কেওলিনাইট, ক্লোরাইট আর অল্প ভার্মিকুলাইট পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, বেশির ভাগ মাটি ক্ষয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, অর্থাৎ এগুলোর ভেতরে এখনো পুষ্টি জোগানোর মতো খনিজ রয়ে গেছে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকীতে প্রকাশিত চলনবিলের আরেকটি গবেষণাও অভ্রকেই প্রধান খনিজ হিসেবে পেয়েছিল।

এই খনিজের নাম হয়তো কৃষকের দৈনন্দিন সিদ্ধান্তে আসে না। কিন্তু গবেষকের কাছে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাটি কতটা পানি ধরে রাখবে, কতটা পুষ্টি আটকে রাখবে, আর গাছ সেই পুষ্টি কতটা পাবে, তার ওপর খনিজের গঠন প্রভাব ফেলে। তাই ভবিষ্যতের কৃষি তথ্যভান্ডারে শুধু গ্রাম বা ইউনিয়নের নাম লিখে রাখলে চলবে না, সম্ভব হলে প্রতিটি মাঠের মাটির বৈশিষ্ট্যও লিখে রাখতে হবে।

ধানই এই অঞ্চলের প্রাণ


নিম্ন আত্রাই অববাহিকার কৃষিতে ধান প্রধান ফসল। নিচু জমির কারণে এখানে বহু যুগ ধরে দুই ধরনের ধানের চাষ চলে আসছে: শুকনো মৌসুমে সেচের পানিতে বোরো, আর বর্ষায় পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে ওঠা গভীর পানির আমন। গবেষণায় বোরো-পতিত-গভীর পানির আমন কিংবা কাছাকাছি ধানভিত্তিক ফসল বিন্যাসের উল্লেখ পাওয়া যায়।

বর্ষার পানি নামার পর চলনবিলের বিস্তীর্ণ মাঠে বোরো রোপণ শুরু হয়। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে পাকা ধান কাটা শেষ করতে হয় নতুন পানি আসার আগেই। আগাম বন্যা বা টানা বৃষ্টি হলে কৃষকের জন্য এই কয়েকটা সপ্তাহ হয়ে ওঠে সময়ের সঙ্গে দৌড়।

বিলের পাশের মাঠে পাকা ধান কাটছেন কৃষকেরা। পানি আসার আগে ফসল ঘরে তোলার তাড়া এই অঞ্চলের পরিচিত দৃশ্য। ছবি: এ এস এম জোবায়ের / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বিলের পাশের মাঠে পাকা ধান কাটছেন কৃষকেরা। পানি আসার আগে ফসল ঘরে তোলার তাড়া এই অঞ্চলের পরিচিত দৃশ্য। ছবি: এ এস এম জোবায়ের / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ধানের পাশাপাশি তুলনামূলক উঁচু জমিতে পাট, সরিষা, ডাল আর সবজিরও চাষ হয়। বর্ষায় বিলের পানিতে পাট জাগ দেওয়ার দৃশ্যও চলনবিলের পরিচিত ছবি।

নাটোরের হালতি বিলের পানিতে জাগ দেওয়া পাট। বিলের চারপাশের উঁচু জমিতে বর্ষার আগে পাটের চাষ হয়। ছবি: মাসুম আল হাসান / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
নাটোরের হালতি বিলের পানিতে জাগ দেওয়া পাট। বিলের চারপাশের উঁচু জমিতে বর্ষার আগে পাটের চাষ হয়। ছবি: মাসুম আল হাসান / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

তবে কৃষি কোনো স্থির বিষয় নয়। যেখানে আগে বর্ষার পানি দীর্ঘ সময় থাকত, সেখানে সেচ, পানি নিষ্কাশন, রাস্তা, বাঁধ আর বাজারের চাহিদার পরিবর্তনে চাষের সময়সূচি বদলে যেতে পারে। কোথাও বোরোর জমি বাড়ে, কোথাও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ে। একটি জমি যা একসময় বছরের বেশির ভাগ সময় পানির নিচে থাকত, পানি ব্যবস্থাপনা বদলালে সেটিতে শুকনো মৌসুমের ফসল সম্ভব হয়। পাশের জমি হয়তো তখনও একই ফসলের জন্য বেশি ভেজা থেকে যায়।

এই পরিবর্তন বুঝতে এক বছরের তথ্য যথেষ্ট নয়। অন্তত কয়েক বছরের জমি, পানি, আবহাওয়া আর ফলনের তথ্য একসঙ্গে দেখা দরকার।

চলনবিলের বদলে যাওয়া চেহারা


ডিসকভার জিওসায়েন্স সাময়িকীতে ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত একটি উন্মুক্ত গবেষণায় চলনবিল এলাকার জোনাইল ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন মাপা হয়েছে। গবেষকেরা ২০০৩, ২০১৩ আর ২০২৩ সালের শীতকালের ল্যান্ডস্যাট উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করেছেন, আর একই সঙ্গে স্থানীয় ২৫০ জন বাসিন্দার মতামত নিয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগ কৃষক, জেলে আর জমির মালিক।

ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণা এলাকায় কৃষিজমি ২০০৩ সালের প্রায় ৩৩৮ হেক্টর থেকে ২০১৩ সালে প্রায় ৬০৮ হেক্টরে আর ২০২৩ সালে প্রায় ৭২৫ হেক্টরে পৌঁছেছে, অর্থাৎ দুই দশকে দ্বিগুণের বেশি। একই সময়ে জলাশয় ২০০৩ সালের প্রায় ৭১৭ হেক্টর থেকে ২০১৩ সালে প্রায় ৪৪৪ হেক্টরে নেমে আসে, পরের দশকে কিছুটা ফিরে আসে। জরিপে অংশ নেওয়া বাসিন্দাদের প্রায় ৪১ শতাংশ কৃষির অর্থনৈতিক লাভকে পরিবর্তনের কারণ বলেছেন, আর ৬২ শতাংশ বলেছেন সেচ ভর্তুকির মতো সরকারি উদ্যোগের কথা।

এখানে মনে রাখা দরকার, কৃষির এই বিস্তারকে সোজাসুজি "ভালো" বা "খারাপ" বলা যায় না। কৃষিজমি বাড়লে খাদ্য উৎপাদন আর কৃষকের আয়ের সুযোগ বাড়তে পারে। আবার জলাভূমি স্থায়ী কৃষিজমি বা বসতিতে বদলে গেলে মাছের আবাস, জীববৈচিত্র্য, বর্ষার পানি ধরে রাখার ক্ষমতা আর বন্যা নিয়ন্ত্রণের ওপর চাপ পড়তে পারে।

তাই প্রশ্নটা শুধু "কৃষি বাড়ছে কি না" নয়। প্রশ্ন হলো:

  • কোথায় কৃষি বাড়ছে, আর কেন বাড়ছে?
  • কোন ধরনের জমি কৃষিতে যাচ্ছে?
  • সেখানে কোন ফসল হচ্ছে, কৃষক কতটা লাভ করছেন?
  • আর এর পরিবেশগত মূল্য কত?

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে দরকার দুই ধরনের তথ্য: ওপর থেকে উপগ্রহের চোখ, আর মাটিতে দাঁড়ানো কৃষকের অভিজ্ঞতা।

শীতে পানি নেমে যাওয়ার পর চলনবিলের সবুজ ধানের মাঠ। একই জায়গা কয়েক মাস আগে ছিল খোলা জলাভূমি। ছবি: শাহনূর হাবীব মুনমুন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
শীতে পানি নেমে যাওয়ার পর চলনবিলের সবুজ ধানের মাঠ। একই জায়গা কয়েক মাস আগে ছিল খোলা জলাভূমি। ছবি: শাহনূর হাবীব মুনমুন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

স্যাটেলাইট দেখায় কী বদলাল, কৃষক জানেন কেন


আজকের প্রযুক্তিতে AEZ-০৫-এর কৃষি আগের চেয়ে অনেক খুঁটিয়ে দেখা সম্ভব। ল্যান্ডস্যাট বা সেন্টিনেল-২-এর মতো স্যাটেলাইটের ছবি থেকে বোঝা যায় কোন জমিতে ফসল আছে, গাছের বৃদ্ধি কেমন, কোথায় পানি জমেছে, আর মৌসুমে মৌসুমে মাঠের চেহারা কীভাবে বদলায়।

উদ্ভিদ সূচক বা এনডিভিআই দিয়ে মাপা যায় ফসল কতটা সবুজ আর সতেজ। ভূমির উচ্চতার ডিজিটাল মানচিত্র দেখায় কোন মাঠ একটু উঁচু, কোনটি নিচু। আবহাওয়ার তথ্য যোগ করলে দেখা যায় বৃষ্টি, তাপমাত্রা আর আর্দ্রতার ওঠানামার সঙ্গে ফসলের অবস্থার সম্পর্ক। সবচেয়ে বড় সুবিধা, এসব তথ্য বছরের পর বছর একই জায়গার জন্য বারবার দেখা যায়।

কিন্তু স্যাটেলাইট সব কথা বলে না। ছবিতে হয়তো দেখা গেল একটি মাঠে ধানের বৃদ্ধি কমেছে। কেন কমেছে, সেটা ছবি বলবে না।

  • জমিতে কি আগাম পানি ঢুকেছিল?
  • সময়মতো সেচ পাওয়া যায়নি?
  • সার কম পড়েছিল?
  • রোগ বা পোকার আক্রমণ হয়েছিল?
  • চারা রোপণ পিছিয়ে গিয়েছিল, নাকি অন্য জাত লাগানো হয়েছিল?

এই উত্তরগুলো জানেন মাঠের কৃষক। এখানেই কৃষকের দেওয়া তথ্যের দাম সবচেয়ে বেশি।

একটি গ্রামের প্রতিটি মাঠের তথ্য কেন দরকার


ধরা যাক, AEZ-০৫-এর একটি গ্রামে ১০০টি জমি আছে। পুরো গ্রামকে যদি একটি মাটির মান আর একটি ফলনের সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, তথ্যভান্ডার দেখতে সম্পূর্ণ মনে হতে পারে, কিন্তু কৃষির বাস্তবতা তাতে ধরা পড়বে না।

এবার ভাবুন, প্রতিটি জমির নিজের একটি খাতা আছে। তাতে লেখা থাকবে জমির অবস্থান আর উচ্চতা, মাটির ধরন, পিএইচ, জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন-ফসফরাস-পটাশিয়াম, সালফার-দস্তা-বোরন, মাটির আর্দ্রতা, বন্যার গভীরতা, কত দিন পানি জমে ছিল, ধানের জাত, রোপণ আর কাটার তারিখ, সার ও সেচ, রোগ-পোকার ঘটনা, উৎপাদন খরচ, ফলন, বাজারদর, আর কৃষকের নিজের পর্যবেক্ষণ।

তখন এটি আর শুধু একটি তালিকা থাকে না। এটি হয়ে ওঠে মাঠভিত্তিক প্রমাণের একটি ব্যবস্থা, যা ওপর থেকে দেখা উপগ্রহের তথ্যকে মিলিয়ে দেয় মাটিতে আসলে কী ঘটেছে তার সঙ্গে। ভবিষ্যতের কৃষি গবেষণার ভিত্তি হতে পারে এমন তথ্যভান্ডারই।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোথায় কাজে আসতে পারে


যে অঞ্চলে মাটি, পানি আর ভূমির ব্যবহার জায়গা আর সময়ভেদে এত বদলায়, সেখানে তথ্যনির্ভর গবেষণার সুযোগও বেশি। গত ১০ থেকে ২০ বছরের যথেষ্ট তথ্য থাকলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল খুঁজে দেখতে পারে:

  • কোন জমিতে বন্যার ঝুঁকি বেশি, কোথায় পানি বেশি দিন থাকে;
  • কোন ফসল কোন পানির অবস্থায় তুলনামূলক স্থিতিশীল;
  • বৃষ্টির ওঠানামায় ফলন কতটা বদলায়;
  • কোন জমিতে কোন পুষ্টির ঘাটতির সম্ভাবনা বেশি;
  • কখন সেচ দিলে সবচেয়ে বেশি লাভ;
  • কোথায় ফসলে বৈচিত্র্য আনলে লাভ হতে পারে;
  • উৎপাদন খরচ আর কৃষকের আয়ের সম্পর্ক কী।

মাটি, আবহাওয়া, স্যাটেলাইট, নদীর পানি আর কৃষকের তথ্য একসঙ্গে মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন সব প্যাটার্ন খুঁজে বের করতে পারে, যা হাতে হিসাব করে দেখা কঠিন।

যন্ত্রের পূর্বাভাস আর মাঠের সত্য


কিন্তু একটি নিয়ম কখনো ভোলা যাবে না: কম্পিউটারের পূর্বাভাস মাঠের সত্য নয়।

কোনো মডেল যদি বলে একটি জমিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফলন হবে, ফসল কাটার পর আসল ফলনের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখতে হবে। মডেল যদি বন্যার ঝুঁকির কথা বলে, তা মেলাতে হবে মাঠে মাপা পানির উচ্চতার সঙ্গে। ভুল হলে সেই ভুল থেকেই মডেলকে আবার শেখাতে হবে।

অর্থাৎ গবেষণার পথ হওয়া উচিত এ রকম:

AEZ → গ্রাম → মাঠ → তথ্য → বৈজ্ঞানিক গবেষণা → মাঠে যাচাই → কৃষকের গ্রহণ → পরিমাপযোগ্য প্রভাব।

আগামী দিনের গবেষণার সাতটি ক্ষেত্র


AEZ-০৫ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার কয়েকটি ক্ষেত্র বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:

  • প্রথমত, গ্রামভিত্তিক কৃষি তথ্যভান্ডার, যা বছরের পর বছর পরিবর্তন লিখে রাখবে।
  • দ্বিতীয়ত, প্রতিটি মাঠের মাটি, পানি, আবহাওয়া আর ফসলের সম্পর্ক বোঝা।
  • তৃতীয়ত, চলনবিলের জলাভূমি আর কৃষিজমির সম্পর্ক নিয়মিত উপগ্রহে পর্যবেক্ষণ।
  • চতুর্থত, আগের বছরগুলোর পানির তথ্য থেকে বন্যা আর ফলন ক্ষতির ঝুঁকি মাপা।
  • পঞ্চমত, বোরো আর আমনের পাশাপাশি কোন জমিতে অন্য ফসলের সুযোগ আছে তা খুঁজে বের করা।
  • ষষ্ঠত, উৎপাদন খরচ, বাজারদর আর কৃষকের আসল লাভকে গবেষণার অংশ করা।
  • সপ্তমত, উপগ্রহ আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পূর্বাভাস মাঠে যাচাই করা।

এ ধরনের গবেষণার লক্ষ্য শুধু গবেষণাপত্র ছাপানো নয়। প্রমাণ জোগাড়, ধারণা পরীক্ষা, ফল মাপা, আর সেই জ্ঞান আবার কৃষকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া, এই পুরো চক্রটিই আসল কাজ। গবেষণার ফল যখন কৃষকের সিদ্ধান্তে কাজে লাগে, তখনই তার আসল মূল্য তৈরি হয়।

পানি যেখানে সম্পদ, আবার ঝুঁকিও


AEZ-০৫-এর কৃষি শুধু মাটির ওপর নির্ভর করে না। এখানে পানি যেমন সম্পদ, অতিরিক্ত পানি তেমনই ঝুঁকি। ভারী মাটি ধানের জন্য উপযোগী, কিন্তু জমি তৈরিতে বাড়তি পরিকল্পনা চায়। জলাভূমি মাছ আর জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখে, আবার কৃষির বিস্তার খাদ্য আর আয় জোগায়। এগুলো আলাদা আলাদা বিষয় নয়, একটি আরেকটির সঙ্গে জড়ানো।

চলনবিলের পানি, নদীর পলি, মাটির খনিজ, বন্যার সময়, আবহাওয়া, ধানের জাত আর কৃষকের অভিজ্ঞতা, সবকিছু একসঙ্গে দেখলেই এই অঞ্চলের কৃষিকে বোঝা সম্ভব। তাই "কোন অঞ্চলে কোন ফসল হয়" এই প্রশ্ন আর যথেষ্ট নয়। প্রশ্ন করতে হবে:

  • কোন গ্রামের কোন মাঠে কোন ফসল কেন ভালো হচ্ছে?
  • কোন জমিতে ঝুঁকি বাড়ছে?
  • কৃষকের খরচ কত, ফলন কত, লাভ কত?
  • পরিবেশের ওপর এর প্রভাব কী?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: গবেষণার ফল কৃষকের মাঠে পৌঁছে বাস্তবে কতটা বদল আনছে?

নিম্ন আত্রাই অববাহিকা তাই শুধু একটি কৃষি-পরিবেশ অঞ্চল নয়। এটি বাংলাদেশের কৃষি, জলাভূমি, মাটি, পানি আর মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার এক জীবন্ত গবেষণাক্ষেত্র। এখানে নদী আছে, জলাভূমি আছে, ভারী মাটি আর ধানের মাঠ আছে, আছেন কৃষক, আছে উপগ্রহের তথ্য আর দ্রুত বেড়ে চলা ডিজিটাল প্রযুক্তি। কাজটা হলো এগুলোকে একসূত্রে গাঁথা।

লক্ষ্য শুধু আরও বেশি তথ্য নয়। লক্ষ্য ভালো সিদ্ধান্ত, মাঠে যাচাই করা গবেষণা, আর কৃষকের জীবনে মাপা যায় এমন উন্নতি।

প্রচ্ছদ ছবি: বর্ষায় চলনবিল, নাটোর। ছবি: শাহনূর হাবীব মুনমুন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

তানিয়া চৌধুরীদা এগ্রো নিউজ

বাংলাদেশ

সম্পর্কিত খবর

গ্যালারি

ছবিতে শরতের জাফলং: পিয়াইনের পানি নামতেই পাথরের চরে সাদা কাশফুল

প্রথম আলোর আলোকচিত্রী আনিস মাহমুদের ছবিতে বর্ষার পর সরু খাল হয়ে আসা পিয়াইন নদ, পাথরের ফাঁকে কাশফুল, নৌকায় পর্যটক আর পানিহীন মায়াবী ঝরনা।

প্রথম আলো৮ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
গ্যালারি

ছবিতে রাঙামাটির পাহাড়ি সকাল: কুয়াশা সরতেই ধানখেতে কৃষক, লেকে জেলে

প্রথম আলোর আলোকচিত্রী সুপ্রিয় চাকমার ছবিতে মৌনঘর, শিমুজ্জেছড়া ও ভূতের টিলায় ধানের শিষ পরখ করা প্রবীণ কৃষক, আগাছা নিড়ানো নারী আর কুয়াশাঢাকা লেকে জাল ফেলতে যাওয়া জেলেরা।

প্রথম আলো৮ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

২৮ দেশের ৫০০ তরুণের জলবায়ু বিবৃতি যাবে কপ৩১-এ, বাংলাদেশে প্রথম আরসিওয়াই শেষ

গাজীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারে চার দিনের রিজিওনাল কনফারেন্স অব ইয়ুথ এশিয়া-প্যাসিফিক ২০২৬ শেষে তৈরি ‘রিজিওনাল ইয়ুথ স্টেটমেন্ট’ তুরস্কের আন্তালিয়ায় ৯-২০ নভেম্বরের সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।

চ্যানেল আই অনলাইন৮ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)