গ্রাম থেকে পাতি সরালি হাঁস কিনে শহরে বিক্রির জন্য ঘুরছিলেন মুরগি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিকুল। বস্তার ভেতরে ছিল বাচ্চা হাঁসগুলো। বিষয়টি নজরে পড়ে পাবনায় দীর্ঘদিন পরিবেশ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সদস্যদের।
সংগঠনের সদস্যরা বিক্রেতাকে বন্য প্রাণী রক্ষার আইন সম্পর্কে জানান। তিনি আর কখনো বন্য পাখি কেনাবেচা করবেন না এবং পাখিগুলো ছেড়ে দেবেন, এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর তাঁকে সঙ্গে নিয়েই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাধীনতা হলের সামনের লেকে ১৪টি হাঁস অবমুক্ত করা হয়।
প্রথম আলোর আলোকচিত্রী হাসান মাহমুদের ছবির গল্পে ধরা পড়েছে পুরো ঘটনা: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাতে নিয়ে হাঁসগুলো দেখছেন, সবাই মিলে লেকে ছাড়ছেন, ছাড়া পেয়েই ১৪টি হাঁস একসঙ্গে উড়ে যাচ্ছে।
ক্লান্ত ও দুর্বল পাখিগুলো লেকের পানিতে কিছুক্ষণ জলকেলিতে মেতে ওঠে, তারপর শীতল জলে চোখ বুজে বিশ্রাম নেয়। সবুজ ক্যাম্পাসের চারপাশে এদের থাকার মতো জায়গা অনেক। সন্ধ্যা নামতেই পাখিগুলো দল বেঁধে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উড়াল দেয়।
পাতি সরালি দেশের জলাভূমির পরিচিত হাঁস। হাটে-বাজারে বন্য পাখি বিক্রি থামাতে আইনের কথা জানানো আর উদ্ধার করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার এমন উদ্যোগ স্থানীয় সংরক্ষণকর্মীরা নিয়মিত নিচ্ছেন।
ছবি: পাতি সরালি হাঁস (ফাইল ছবি), JJ Harrison / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)। ঘটনার আলোকচিত্র: হাসান মাহমুদ, প্রথম আলো।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)