কেচাপ বললেই চোখে ভাসে টমেটো, কিন্তু ফিলিপাইনে জনপ্রিয় কেচাপের প্রধান উপকরণ কলা। মিষ্টি, টক আর ঝালের মিশেলে তৈরি এই বানানা কেচাপের ইতিহাস ও ঘরে বানানোর রেসিপি তুলে ধরেছে আজকের পত্রিকার ফিচার ডেস্ক।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফিলিপাইনে টমেটোর সরবরাহ কমে গেলেও কলার প্রাচুর্য ছিল। তখন খাদ্যপ্রযুক্তিবিদ মারিয়া ইয়ালাগান ওরোসা কলা দিয়ে টমেটোর বিকল্প কেচাপ তৈরির ধারণা জনপ্রিয় করেন। ১৯৪০-এর দশকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে এটি দেশটির ঘরে ঘরে জায়গা করে নেয়। বাজারের অনেক বানানা কেচাপ লাল দেখায় খাদ্য রঙের কারণে; স্বাদে এটি টমেটো কেচাপের চেয়ে মিষ্টি ও ফলের গন্ধযুক্ত।
উপকরণ: চটকানো পাকা কলা ২ কাপ, মাঝারি পেঁয়াজকুচি ১টি, রসুনকুচি ৪ কোয়া, সামান্য আদাকুচি, আপেল সিডার বা সাদা ভিনেগার ২০০ মিলিলিটার, সামান্য চিনি বা ব্রাউন সুগার, রং ও স্বাদের জন্য টমেটো পেস্ট দেড় টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক), স্বাদমতো মরিচ বা গোলমরিচ, দারুচিনি ও হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ করে, তেল, লবণ ও সামান্য পানি।
প্রণালি: কড়াইয়ে অল্প তেলে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মরিচ হালকা ভেজে নরম করুন। এরপর চটকানো কলা, চিনি, ভিনেগার, টমেটো পেস্ট ও সব মসলা দিয়ে মিশিয়ে মাঝারি আঁচে ঘন হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। নামিয়ে ব্লেন্ড করে মসৃণ সস বানান, ঠান্ডা হলে কাচের বয়ামে ভরে ফ্রিজে রাখুন।
ফিলিপাইনে এই সস বার্গার, হট ডগ, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ভাজা মুরগি বা মাছের সঙ্গে খাওয়া হয়, মিষ্টি-ঝাল স্প্যাগেটি আর ভাজা রোল লুম্পিয়ার সঙ্গেও চলে, কখনো মাংস মেরিনেট করতেও লাগে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কলা সহজলভ্য, তাই ঘরোয়া রান্নায় এমন সস নিয়ে পরীক্ষা করা যায়; তবে এটি টমেটো কেচাপের হুবহু বিকল্প নয়। সংরক্ষণে পরিষ্কার পাত্র ও নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণের নিয়ম মানতে হবে। রেসিপির সূত্র হিসেবে ডেভিড ওয়েজের ‘দি লঙ্গেস্ট ওয়ে হোম’ ব্লগের ২০১২ সালের লেখার কথা উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি।
ছবি: ফিলিপাইনের বানানা কেচাপ (ফাইল ছবি), John Stephen Dwyer / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)