দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল (KwaZulu-Natal) প্রাদেশিক সরকার ৩ অক্টোবর উলুন্ডির দ্লেবে এলাকার কোয়াগুকুতে ২০২৬-২৭ মৌসুমের বহুমুখী রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে। সঙ্গে সতর্কবার্তা: প্রত্যাশিত এল নিনোর কারণে প্রদেশের ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য মৌসুমটি কঠিন হতে পারে।
প্রাদেশিক প্রধানমন্ত্রী থামসাঙ্কা এনটুলি (Thamsanqa Ntuli) বলেন, প্রদেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের এই বার্ষিক কর্মসূচির লক্ষ্য অব্যবহৃত কৃষিজমি চাষের আওতায় আনা, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ক্ষুদ্র চাষিদের বাণিজ্যিক চাষে এগিয়ে নেওয়া। এবার এতে আছে যান্ত্রিকীকরণ, উচ্চফলনশীল উপকরণ, সম্প্রসারণ সেবা, নতুন সেচ এলাকা এবং তরুণদের কৃষিতে যুক্ত করার উদ্যোগ।
প্রদেশের কৃষিমন্ত্রী থেম্বেনি কামাদলোপা-এমথেথওয়া (Thembeni kaMadlopha-Mthethwa) জানান, এবার গড়ের কম বৃষ্টি ও বেশি তাপমাত্রা প্রত্যাশিত, তাতে বৃষ্টিনির্ভর ভুট্টা, শুকনা শিম ও সয়াবিনের ফলন কমতে পারে। খরায় চারণভূমি দুর্বল হবে, পানির ওপর চাপ ও পশুখাদ্যের খরচ বাড়বে, দাবানল, বালাই ও পশুরোগের ঝুঁকিও বাড়বে। আমাজুবা, জুলুল্যান্ড, উমখানিয়াকুদে, উথুকেলা, উমজিনইয়াথি, উমগুংগুন্ডলোভু ও হ্যারি গোয়ালার কিছু অংশকে তিনি উচ্চ ঝুঁকির এলাকা বলেন, কারণ সেখানে প্রধান খাদ্যফসলের বড় অংশ শুধু বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে চাষ হয়।
রোপণ ও পশুপালনের সিদ্ধান্তে সাহায্যের জন্য চাষিরা আগাম সতর্কবার্তা পাবেন, আর উপকরণ দেওয়া হবে প্রমাণের ভিত্তিতে। মন্ত্রীর ভাষায়, চাষাবাদ চলবে বিজ্ঞানে, আন্দাজে নয়। রোপণের জন্য নির্ধারিত ৫০ হেক্টর জমির মাটির নমুনা নেওয়া হয়েছে: কোয়াগুকুতে ৩৪ জন উপকারভোগীর জন্য ৩০ হেক্টর এবং এমখিওয়েনিতে ৩২ জনের জন্য ২০ হেক্টর। মাটি পরীক্ষার ফল এলে তবেই প্রতিটি জমির প্রয়োজনমতো সার দেওয়া হবে। বিভাগটি সাতটি ট্রাক্টরে ইতিমধ্যে ৩৫ হেক্টর জমি তৈরি করেছে এবং গণপূর্ত কর্মসূচির ৫৭ জন ট্রাক্টরচালকের ২৫ জনকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
বিভাগের কৃষিবিজ্ঞানীদের হিসাবে এলাকার উর্বর, পানি নিষ্কাশন ভালো এমন হাটন মাটিতে অনুকূল অবস্থায় শুকনো জমিতে হেক্টরে ৪.৭ টন পর্যন্ত ভুট্টা হতে পারে। প্রতিনিধিদলটি ৩১ জন নারীর নেতৃত্বাধীন কোয়াদিদওয়াইনি সমবায় এবং কোয়াগুকুর ২ হেক্টরের ভুকুজাখে সমবায় ঘুরে দেখে, যেখানে ২০ জন নারী পেঁয়াজ, বাঁধাকপি, আলু ও টমেটো চাষ করেন। মন্ত্রী বেড়া, সেচ, বীজ, সার ও বাজারে প্রবেশে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন; প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি ৫ হেক্টরে বাড়ানোর আহ্বান জানান।
পশুপালকেরা কোয়ানকিন্দিতে পেয়েছেন নতুন একটি ডিপ ট্যাংক (পশুকে পরজীবীনাশক দ্রবণে চোবানোর আধার)। খামারিরা জানান, এতে গরু চোবাতে দূরের পথ পাড়ি দেওয়ার কষ্ট কমবে; মন্ত্রীর মতে, এটি পশুস্বাস্থ্য সেবা কাছে আনবে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে।
ছবি: Alandmanson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa



মন্তব্য
(০)