কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কৃষকের সক্ষমতা উন্নয়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নেওয়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন প্রকল্প ‘পার্টনার’-এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি তিন বছর তিন মাসে মাত্র ২২ শতাংশ। কৃষি সময়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটির বরাদ্দ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একই সময়ে অন্য কয়েকটি প্রকল্পের অগ্রগতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে; তবে প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, তুলনা করতে হলে প্রকল্পগুলোর মেয়াদ, ব্যয়ের ধরন ও অগ্রগতি মাপার পদ্ধতিও বিবেচনায় নিতে হবে।
এ অবস্থায় ৬ অক্টোবর প্রকল্প পরিচালক বদলে ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন শরীফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সোমবার বিকেলে তিনি দায়িত্ব নেন। প্রকল্পের প্রথম পরিচালক অনিয়মের অভিযোগে বরখাস্ত হন, এরপর ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পাওয়া দ্বিতীয় পরিচালককেও সরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা থাকেনি।
নতুন পরিচালক শুরু থেকেই প্রকল্প প্রণয়নে যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম-২-এর অতিরিক্ত পরিচালক থাকাকালে তাঁকে প্রকল্পের ফোকাল পারসন করা হয়। প্রাথমিক প্রস্তাব তৈরি হয় ২০২১ সালের মার্চে; ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় এবং ৯ মে সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদন পায়।
পার্টনারের অর্থ ছাড় হয় ‘প্রোগ্রাম ফর রেজাল্টস’ পদ্ধতিতে: ১০টি ডিসবার্সমেন্ট লিংকড ইন্ডিকেটর ও ২৪টি ডিসবার্সমেন্ট লিংকড রেজাল্টের লক্ষ্য পূরণ হলে এবং স্বাধীন যাচাই সংস্থা তা নিশ্চিত করলে তবেই অর্থ মেলে। অর্থাৎ শুধু খরচ বা কেনাকাটার হিসাব দিয়ে নয়, নির্ধারিত সূচকে ফল দেখিয়েই এগোতে হবে প্রকল্পকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনবল নিয়োগে অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ও দায়িত্বের বিবরণী মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে, এবং সংশ্লিষ্টরা নিয়োগ নথি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। শুধু পরিচালক বদলেই অগ্রগতি বাড়বে না; বাস্তবায়ন পরিকল্পনার পুনর্মূল্যায়ন, জনবল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, আর্থিক শৃঙ্খলা ও নিয়মিত তদারকি দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাঠের কৃষকের কাছে প্রকল্পের সুফল পৌঁছানো এর ওপরই নির্ভর করছে।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের নিজস্ব প্রতিবেদকের।
সূত্র: কৃষি সময়


মন্তব্য
(০)