কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় আমন ধানের খেতে ছাতরা পোকার (মিলিবাগ) আক্রমণ দেখা দিয়েছে। বালাইনাশক ছিটিয়েও আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, এ বছর কুড়িগ্রামে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার হেক্টর, আবাদ হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৩০ হেক্টরে। আক্রান্ত গাছের কাণ্ড ও পাতার খোলে সাদা তুলা বা মোমের মতো আবরণ তৈরি হচ্ছে, তার নিচে থাকছে ছোট ছোট পোকা। পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, গাছের বৃদ্ধি থেমে যাচ্ছে, কোনো কোনো গাছ পোড়া পোড়া দেখাচ্ছে।
উলিপুরের ধামশ্রেণি ইউনিয়নের খাওনারদরগা এলাকার কৃষক আকবর আলী জানান, তিনি এক একর ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন লাগিয়েছিলেন, তার প্রায় ৪০ শতাংশে পোকা ধরেছে। রাজারহাটের বৈদ্যের বাজার এলাকার কৃষক জগদীশ চন্দ্র সরকারের প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ধান আক্রান্ত; কয়েক দফা ওষুধ দিয়েও কাজ না হওয়ায় আক্রান্ত গাছ কেটে গরুকে খাইয়েছেন তিনি।
কৃষকেরা বলছেন, আগের বছরগুলোতে আমনে এ পোকার এমন আক্রমণ দেখা যায়নি। প্রায় ২০ বছর ধরে কীটনাশক বিক্রি করা স্থানীয় ব্যবসায়ী কাইয়ুম সরকারও জানান, গত বছর দু-একটি গাছে পোকা দেখা গেলেও এবার নানা জমিতে এর উপস্থিতি বেড়েছে।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকারের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সময়মতো প্রত্যাশিত বৃষ্টি হচ্ছে না, যার প্রভাব পড়ছে ফসলে এবং রোগবালাই দেখা দিচ্ছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু ফাত্তাহ্ মো. রওশন কবির বলেন, খরার কারণে ছাতরা পোকার আক্রমণ বাড়তে পারে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ চলছে। তাঁর ভাষায়, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে সঠিক সময়ে বালাইনাশক দিলে এ পোকা দমন করা সম্ভব। আক্রান্ত কৃষকদের তাই নিজে নিজে ওষুধ বাড়ানোর আগে উপজেলা কৃষি অফিস বা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের কুড়িগ্রাম সংবাদদাতার।
সূত্র: কৃষি সময়



মন্তব্য
(০)