খামারের যন্ত্র যত বড় ও ভারী হচ্ছে, মাটি চেপে শক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তত বাড়ছে, সতর্ক করেছে ফার্মিংপোর্টালে প্রকাশিত একটি নির্দেশিকা; একে বলা হয়েছে 'নীরব চোর', যার ক্ষতি বছরের পর বছর চোখে না পড়লেও উৎপাদনশীলতা কমিয়ে চলে। শক্ত মাটিতে কণার মাঝের ফাঁকা জায়গা কমে যায়, শিকড় ঢুকতে বাধা পায়; বাতাস, পানি ও শিকড় সহজে চলতে পারে না, শিকড় পানি ও পুষ্টি পায় না, পানি ধীরে ঢোকে ও নামে, আর মাটির জৈব কার্যক্রম কমে যায়।
নির্দেশিকায় ওপরের মাটি আর নিচের মাটির সংকোচন আলাদা করে দেখানো হয়েছে। ওপরের স্তরে বেলে মাটিতে এক মৌসুমের চাষেই ফাঁকা জায়গা ফিরতে পারে, এঁটেল মাটিতে সময় লাগে বেশি। কিন্তু সাধারণ চাষের গভীরতার নিচে যে সংকোচন, তা অনেক বেশি স্থায়ী, প্রাকৃতিক জমা-গলা বা ভেজা-শুকনো হওয়াতেও সারে না। এক গবেষণায় ১০ টন অক্ষভারে চারবার মাটি চাপা দেওয়ার পর প্রথম বছরে ফলন গড়ে ১৫ শতাংশ কমে, আর দশ বছর পরও তা চাপহীন জমির চেয়ে প্রায় ৩ শতাংশ কম ছিল, মূলত নিচের স্তরের ক্ষতির কারণে।
নির্দেশিকায় উদ্ধৃত গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ চাপের টায়ারে ১০ টন অক্ষভারের ট্রাক একবার চললেই ভুট্টার ফলন শুকনো মৌসুমে ২৭ শতাংশ আর ভেজা মৌসুমে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, কারণ ওপরে পানি কম থাকলে আটকে যাওয়া শিকড় গভীরের পানিতে পৌঁছাতে পারে না। কম চাপের চওড়া টায়ার ব্যবহারে এই ক্ষতি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।
চাষও সমস্যা তৈরি করতে পারে: লাঙল, চিজেল বা ডিস্ক বছরের পর বছর একই গভীরতায় চালালে নিচে শক্ত 'লাঙলের স্তর' তৈরি হয়, যা শিকড় নামতে দেয় না। বিনা চাষের জমি ভার ভালো সহ্য করে, তবে একবার শক্ত হলে সারতে সময় লাগে বেশি। কিছু গবেষণায় সংকোচনে কেঁচোর সংখ্যা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে; পানি দেরিতে নামায় জলাবদ্ধ মাটিতে নাইট্রোজেন হারায়, তরল গোবরসার ওপরে পড়ে থেকে অ্যামোনিয়া হিসেবে উড়ে যায়, আর ফসফরাস ও পটাশ গ্রহণও কমে।
ব্যবহারিক পরামর্শ হলো প্রতিরোধ: সম্ভব হলে অক্ষভার কমানো, কম চাপের চওড়া টায়ার বা চেইন ব্যবহার, ভেজা মাটিতে যন্ত্র না চালানো, চাষের গভীরতা বদলানো, আর আচ্ছাদন ফসল ও কম নাড়াচাড়ায় মাটির জৈব কার্যক্রম বাড়ানো।
ছবি: Rasbak / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: FarmingPortal



মন্তব্য
(০)