দিনাজপুরে আমন ধানের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে। সদর উপজেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষক এ পদ্ধতিতে খেতের পোকা দমনে সফল হচ্ছেন বলে বাসসকে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি দপ্তরের মাঠ কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক।
পার্চিং মানে ধানখেতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি পুঁতে দেওয়া, যাতে পাখি বসতে পারে। সেখানে বসে পাখি ফসলের ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলে। কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষায়, এটি খরচহীন, পরিবেশবান্ধব ও কীটনাশকমুক্ত পদ্ধতি, যা উৎপাদন খরচ কমায় এবং নিরাপদ ফসল পেতে সাহায্য করে।
সদরের নশিপুর, কর্নাই, উত্তর সাদিপুর ও গোবিন্দপুর ঘুরে দেখা গেছে, আমনখেতে পোঁতা খুঁটি ও ডালে বসে আছে দোয়েল, ফিঙে, শালিকসহ নানা পাখি। উলিপুর গ্রামের কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম (৪২) জানান, ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকা থেকে ধান রক্ষায় তাঁরা এতে সফল হয়েছেন। দাড়াইল গ্রামের ৭২ বছরের কৃষক মো. আমিন উদ্দিনও একই কথা বলেন।
দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরে পোকা দমন নিয়ে গবেষণায় যুক্ত কর্মকর্তা মো. সদরুল আলম জানান, সার দেওয়ার পর থেকেই খেতে ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়; কৃষকেরা পার্চিংয়ের পাশাপাশি আলোর ফাঁদও ব্যবহার করছেন, তবে পার্চিংই বেশি জনপ্রিয়।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, পার্চিং বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশ রক্ষা করছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, দুই বছর ধরে তাঁরা কৃষকদের এ পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করছেন।
এবার জেলায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৬০ হেক্টরে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়, যার মধ্যে উফশী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০, স্থানীয় জাত ১ হাজার ৯৯০ এবং হাইব্রিড ১২ হাজার ২৪০ হেক্টর। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর বেশি জমিতে আমন হয়েছে, ফলন ভালো হওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগ। সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ৫৫০ হেক্টর।
ছবি: ডালে বসা ফিঙে (ফাইল ছবি), Shyamal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: বাসস



মন্তব্য
(০)