কানাডার ম্যানিটোবায় সবচেয়ে টেকসই শিম যে সাসকাচেওয়ানের খরা বা অন্টারিওর গরমও সামলাবে, তা নয়; তাই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের শিম গবেষকেরা মিলে একটি আন্তর্জাতিক সহনশীলতা পরীক্ষা শুরু করেছেন, জানিয়েছে ম্যানিটোবা কো-অপারেটর। ৩০টি শিমের সারি পরীক্ষা হচ্ছে ম্যানিটোবার মর্ডেন, সাসকাচেওয়ানের সাসকাটুন, অন্টারিওর হ্যারো এবং যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার রেড রিভার উপত্যকার দুটি স্থানে।
অংশীদার ম্যানিটোবা ও সাসকাচেওয়ানের ডালশস্য চাষি সংগঠন, কানাডার কৃষি ও কৃষি-খাদ্য বিভাগ (এএএফসি) এবং নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় (এনডিএসইউ)। ম্যানিটোবা পালস অ্যান্ড সয়াবিন গ্রোয়ার্সের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল ডোমিট্রুক (Daryl Domitruk) এ পরীক্ষার মূল উদ্যোক্তা; তাঁর যুক্তি ছিল, শিমের ব্যবসা বাড়ছে, আর আলাদা আলাদা প্রজনন কর্মসূচি একসঙ্গে কাজ করলে বেশি ফল মিলবে। ম্যানিটোবা সাধারণত কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিম উৎপাদনকারী প্রদেশ; এএএফসির হিসাবে এবারের ফলনের ৩৯ শতাংশ আসবে সেখান থেকে। ২০২৫ সালে প্রদেশটিতে ২ লাখ ৬ হাজার ৪১৬ একর শিম বিমার আওতায় ছিল, ফলন আগের বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি।
অঞ্চলগুলোর ঝুঁকি উল্টো। ম্যানিটোবা ও নর্থ ডাকোটায় প্রায়ই পানি বেশি হয়, আর শিম জলাবদ্ধ মাটি, বিশেষ করে ভারী এঁটেল মাটি সহ্য করে না; লবণাক্ততা, বপনের সময় ঠান্ডা মাটি ও আগাম তুষারপাতেও এটি ঝুঁকিতে পড়ে। পশ্চিমে আবার খরা ও তাপপ্রবাহে ফুল ঝরে ফলন কমে। মর্ডেনে প্রতিটি সারি সেচসহ ও সেচ ছাড়া চাষ হচ্ছে, অর্ধেক অংশে প্রতি সপ্তাহে এক ইঞ্চি পানি দেওয়া হয়; প্রাকৃতিক রোগের চাপে কোন সারির জিনগত প্রতিরোধ কতটা, তা দেখতে ছত্রাকনাশক দেওয়া হচ্ছে না। নর্থ ডাকোটার সব প্লট সেচবিহীন।
এনডিএসইউর প্রজননবিদ হুয়ান ওসোর্নো (Juan Osorno) কাজ করছেন অতিরিক্ত পানি নিয়ে; গ্রিনহাউসে গাছগুলো প্রায় দশ দিন পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। তিনি বলেন, কিছু গাছ সাত থেকে দশ দিন পুরোপুরি ডুবে থেকেও বেঁচে যায়, ফলে পরে কৃষক ফসল পেতে পারেন। এএএফসি হ্যারোর প্রজননবিদ জেমি লারসেন (Jamie Larsen) জানান, সেখানকার কাজে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি জাতের ফুল ফোটা দীর্ঘ সময়জুড়ে ছড়ানো থাকে বলে সেগুলো তাপ বেশি সহ্য করতে পারে, যদিও স্বল্প মৌসুমের প্রেইরি অঞ্চলে তা খাটবে না।
তিন বছরের পরীক্ষাটির প্রথম বছর সবে শেষ হয়েছে, মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও আছে। প্রজননবিদেরা বলছেন, লক্ষ্য শুধু বিদ্যমান জাতের সুপারিশ নয়, মূল্যবান বৈশিষ্ট্যের সারি খুঁজে সেগুলোকে ভবিষ্যৎ প্রজননের মাতৃ-পিতৃ গাছ হিসেবে কাজে লাগানো।
ছবি: Forest and Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Manitoba Co-operator



মন্তব্য
(০)