ভারতের শহরে প্রোটিন এখন জীবনযাপনের পণ্য হয়ে উঠেছে, কিন্তু খাদ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো যে সস্তা প্রোটিনের ওপর নির্ভর করে, তা হুমকিতে পড়ছে। বিশ্ব খাদ্য দিবসে ডাউন টু আর্থে লেখা কলামে এ যুক্তি দিয়েছেন স্বস্তি পাচৌরি।
কলামে গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএমএআরসির হিসাব তুলে ধরা হয়েছে: ২০২৬ সালে ভারতের প্রোটিন বাজারের মূল্য প্রায় ১৫,৩০০ কোটি রুপি, যা ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ২১,০০০ কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। এশিয়া রিসার্চ অ্যান্ড এনগেজমেন্ট ও ভারতীয় শিল্প-বণিক সমিতির ফেডারেশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাথাপিছু বার্ষিক প্রোটিন গ্রহণ ২০২৫ সালের ৯.৫ কেজি থেকে ২০৭০ সালে ৩০ কেজিতে উঠতে পারে; ডাল থেকে প্রোটিন ৩৫ লাখ টন থেকে বেড়ে ৯৩ লাখ টন হয়ে দুধের পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হতে পারে।
সামাজিক মাধ্যমের ট্রেন্ড, ফিটনেস সংস্কৃতি ও সুস্থতার ব্র্যান্ড প্রোটিনকে আকাঙ্ক্ষার পণ্য বানিয়েছে, প্রোটিন কফি ও পপকর্ন থেকে হুই শেক আর বার পর্যন্ত। পাচৌরি সতর্ক করেছেন, ‘উচ্চ প্রোটিন’ লেবেল থাকলেই কোনো পণ্য স্বাস্থ্যকর হয় না; এর মূল্য নির্ভর করে লবণ, চিনি, চর্বি ও সংরক্ষণকারী উপাদানের ওপর।
জোয়ারের অন্য পিঠ হলো নাগাল। ২০২৬ সালের আগস্টে ন্যাশনাল এগ কোঅর্ডিনেশন কমিটি জানায়, এক বছরে ডিমের দাম প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। কারণ হিসেবে যেগুলো বলা হচ্ছে তার মধ্যে কলামে ই২০ ইথানল মিশ্রণ নীতির কথা আছে, যা মুরগির খাদ্যে ব্যবহৃত ভুট্টার ওপর চাপ ফেলে, সঙ্গে আছে সার্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি। অল ইন্ডিয়া ডিস্টিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংকলিত তথ্যে, আগস্ট পর্যন্ত ২০২৫-২৬ সরবরাহ বছরে মোট ইথানল সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশ এসেছে শস্যভিত্তিক কাঁচামাল থেকে। সচ্ছল ক্রেতার কাছে দাম বাড়া মানে ব্র্যান্ড বদলানো; গরিব পরিবারের কাছে তা খাদ্যের বৈচিত্র্য কমা, যার স্বাস্থ্যগত মাশুল দীর্ঘমেয়াদি।
পাচৌরির আহ্বান সাশ্রয়ী, স্থানীয় প্রোটিনের প্রসার: দামি প্যাকেটজাত পণ্য নয়, দৈনন্দিন খাবারে ছোট দানাশস্য; ফসলের বৈচিত্র্য ও ডালজাতীয় ফসলের সঙ্গে আন্তঃফসল, যা মাটির স্বাস্থ্য ও কৃষকের আয়ও বাড়ায়; আর স্পষ্ট খাদ্য লেবেল। তিনি মনে করেন, বিশ্বের বৃহত্তম দুধ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভারত ‘হুই অর্থনীতি’ গড়তে পারে এবং কালারি, ছুরপি ও ব্যান্ডেলের মতো আঞ্চলিক পনির জনপ্রিয় করে প্রাণিসম্পদনির্ভর জীবিকায় সহায়তা দিতে পারে। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Pallav.journo / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)