হজ ও ওমরাহর সফরে কেউ মারা গেলে স্বজনদের মনে প্রশ্ন জাগে, তিনি কি সৌভাগ্যবান, আখেরাতে তাঁর পরিণতি কী? দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত এক লেখায় ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের জামিউন নুর জামে মসজিদের খতিব আসাদুল্লাহ সোলায়মান বিষয়টি কোরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি সুরা নিসার ১০০ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে হিজরতের পথে মৃত্যুবরণকারীর প্রতিদান আল্লাহর কাছে অবধারিত বলা হয়েছে। লেখকের সতর্কতা, আয়াতটি নাজিল হয়েছে হিজরত প্রসঙ্গে; একে সরাসরি হজ বা ওমরাহর সফরে মৃত্যুবরণকারীর জান্নাত নিশ্চিত হওয়ার দলিল বানানো যাবে না। তবে আয়াতটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নেক কাজের পথে বের হওয়া এবং তাঁর কাছে প্রতিদান আশা করার শিক্ষা দেয়।
ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুর বিষয়ে হাদিসে বিশেষ সুসংবাদ আছে। সহিহ বুখারির (১২৬৫) বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) জানান, আরাফাতের ময়দানে ইহরাম অবস্থায় এক ব্যক্তি উট থেকে পড়ে মারা গেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করাতে, ইহরামের দুই কাপড়ে কাফন দিতে এবং মাথা না ঢাকতে বলেন। তিনি বলেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁকে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় পুনরুত্থিত করবেন।
তবে লেখকের মতে, এই হাদিস বিশেষভাবে ইহরাম অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর কথা বলে; তাই হজ বা ওমরাহ করতে গিয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেকের পরিণতি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর হজ ফরজ, আর ওমরাহর বিধান নিয়ে ফকিহদের বিস্তারিত আলোচনা আছে; দুই ইবাদতেরই উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাই সফরের আগে নিয়ত বিশুদ্ধ করা, হজ ও ওমরাহর নিয়ম শেখা, তওবা-ইস্তিগফার করা এবং মানুষের হক সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মৃত্যু কখন, কোথায় ও কোন অবস্থায় আসবে, তা মানুষের অজানা; তাই ইমানের ওপর অটল থাকা, ফরজ ও সুন্নত ইবাদত আদায় এবং মানুষের হক রক্ষা করাই মুমিনের কাজ বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন খতিব। তাঁর পরামর্শ, হজ বা ওমরাহর সফরে মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য জান্নাতের আশা ও মাগফিরাতের দোয়া করা এবং শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
ছবি: Ali Mansuri / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)