ইসলাম অতিথি সেবাকে ইমানের অংশ এবং মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি হিসেবে দেখেছে। প্রথম আলোয় মনযূরুল হকের লেখায় কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা থেকে শুরু করে মুসলিম সভ্যতায় আতিথেয়তার ঐতিহ্য এবং মেজবান ও মেহমানের শিষ্টাচার তুলে ধরা হয়েছে।
কোরআনে নবী ইব্রাহিমের (আ.) আতিথেয়তার ঘটনা আছে: অচেনা মেহমানদের (যাঁরা ছিলেন ফেরেশতা) জন্য তিনি দ্রুত ভুনা বাছুর নিয়ে আসেন (সুরা জারিয়াত, আয়াত ২৪-২৭)। মহানবী (সা.) বলেছেন, যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহমানকে সম্মান করে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১৩৫)। ইমাম নববির ব্যাখ্যায়, প্রথম দিন ও রাত মেহমানের বিশেষ হক, দ্বিতীয় দিন সাধারণ আপ্যায়ন, এরপরের দিনগুলো সদকা।
লেখায় বলা হয়েছে, খেলাফত আমল থেকে ওসমানিয়া, মুঘল ও আন্দালুসের মুসলিম সমাজে আতিথেয়তা প্রায় শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বাগদাদ, দামেস্ক, কায়রো ও ইস্তাম্বুলে শাসক ও ওয়াকফের অর্থে গড়া দারুল জিয়াফাত বা অতিথিশালায় পথিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও দরিদ্র মানুষ বিনা মূল্যে খাবার ও থাকার জায়গা পেতেন। সুফিদের খানকাহর লঙ্গরখানায় যে কেউ খেতে পারত, যে ধারা উপমহাদেশের বিভিন্ন খানকায় আজও দেখা যায়।
মেজবানের আদব হিসেবে লেখায় এসেছে: হাসিমুখে স্বাগত জানানো ও আরামদায়ক জায়গায় বসানো, দেরি না করে পানি ও সাধ্যমতো খাবার দেওয়া, কৃত্রিম আড়ম্বর না দেখানো এবং খাওয়ার সময় পাশে থেকে বিদায়ের সময় দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া। আলীর (রা.) বরাতে বলা হয়েছে, সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কষ্ট না করে ঘরে যা আছে তা-ই হাসিমুখে পরিবেশন করা আদর্শ মেজবানের লক্ষণ।
মেহমানেরও দায় আছে: বিনা খবরে বা মেজবানের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ হাজির না হওয়া এবং যা পরিবেশন করা হয় তাতেই সন্তুষ্ট থাকা, বাড়তি ফরমায়েশ না করা।
লেখকের মতে, মুসলিম সভ্যতায় মেহমানদারি শুধু সামাজিক লৌকিকতা নয়, আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মাধ্যম, আর মেহমান ঘরে বরকত নিয়ে আসেন।
ছবি: খেজুর ও আরবি কফি, Pshahma / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)