ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিককে (রা.) অনেকে কোমল হৃদয় ও আবেগপ্রবণ সাধক হিসেবেই চেনেন। কিন্তু নবীজির (সা.) ওফাতের পর রাষ্ট্র যখন অস্তিত্বের সংকটে, তখন তাঁর দৃঢ়তা ও দূরদর্শিতার পরিচয় মেলে তিনটি সিদ্ধান্তে, লিখেছে প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্ক।
প্রথম সিদ্ধান্ত ওসামা ইবনে জায়েদের (রা.) বাহিনী নিয়ে। ওফাতের কয়েক দিন আগে নবীজি (সা.) রোমান সীমান্তে পাঠানোর জন্য এই বাহিনী প্রস্তুত করেছিলেন। আরবজুড়ে রিদ্দা বা বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়লে জ্যেষ্ঠ সাহাবিদের একটি দল বাহিনীটি মদিনা রক্ষায় রাখার পরামর্শ দেন। আবু বকর (রা.) তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, রাসুল (সা.) যে বাহিনীর পতাকা বেঁধেছেন, তা স্থগিত করার অধিকার তাঁর নেই। লেখায় আলি মুহাম্মদ আস-সাল্লাবির গ্রন্থ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সংকটের মধ্যেও এত বড় বাহিনী অভিযানে যেতে দেখে বিদ্রোহী গোত্রগুলোর মদিনা দখলের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত জাকাত অস্বীকারকারীদের বিষয়ে। একদল মানুষ নামাজ পড়ত কিন্তু রাষ্ট্রকে জাকাত দিতে অস্বীকার করছিল। ওমরসহ (রা.) অনেক সাহাবি তাদের সঙ্গে নমনীয় থাকার পরামর্শ দিলেও আবু বকরের (রা.) অবস্থান ছিল, নামাজ ও জাকাত ইসলামের সমান দুটি স্তম্ভ, এর মধ্যে পার্থক্য করা যাবে না। আগে দূত পাঠিয়ে বোঝানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি ১১টি বাহিনী পাঠান, ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়ার বরাতে লেখায় এ কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় সিদ্ধান্ত কোরআন সংকলন। ইয়ামামার যুদ্ধে প্রায় সাত শ হাফেজ সাহাবি শহীদ হলে ওমর (রা.) উদ্বিগ্ন হয়ে পুরো কোরআন এক গ্রন্থে সংকলনের প্রস্তাব দেন। আবু বকর (রা.) প্রথমে দ্বিধা করেন, নবীজি (সা.) নিজে যা করেননি তা কীভাবে করবেন। পরে রাজি হয়ে ওহি লেখক জায়েদ ইবনে সাবিতকে (রা.) দায়িত্ব দেন, যিনি দুজন সাক্ষীর নীতিতে লিখিত অংশগুলো একত্র করে মুসহাফ তৈরি করেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৯৮৬)।
লেখার শেষ অংশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও ধর্মের মৌলিক নীতির প্রশ্নে আবু বকরের (রা.) আপসহীন সিদ্ধান্তই নবীজির ওফাত-পরবর্তী উম্মতকে বড় সংকট থেকে রক্ষা করেছিল।
ছবি: আবু বকর সিদ্দিকের (রা.) নামের ক্যালিগ্রাফি, أبو بكر السوري / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)