মানুষের হৃদয় কখনো কোমল থাকে, কখনো কঠিন হয়ে যায়। ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী পাপ, দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি এবং মৃত্যুর কথা ভুলে থাকা হৃদয়ে কঠোরতা তৈরি করে; তখন মানুষ অন্যের কষ্টে বিচলিত হয় না, উপদেশ শুনেও নিজেকে বদলায় না। দেশ রূপান্তরের ধর্ম পাতায় হাদিস ও কোরআনের আলোকে হৃদয় কোমল রাখার সাতটি উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম উপায় মৃত্যুর স্মরণ। জামে তিরমিজির বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বাদ বিনষ্টকারী বিষয়, অর্থাৎ মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করতে বলেছেন। দ্বিতীয়টি কবর জিয়ারত: সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় তিনি বলেছেন, আগে নিষেধ করলেও এখন কবর জিয়ারত করো, কারণ তা মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়।
তৃতীয়ত, অসুস্থ ও মুমূর্ষু মানুষকে দেখতে যাওয়া, যা শক্তি, সম্পদ ও ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় বলে মনে করিয়ে দেয় এবং সহানুভূতি বাড়ায়। চতুর্থত, ভুল হলে দ্রুত তওবা: জামে তিরমিজির বর্ণনায় আছে, পাপ করলে হৃদয়ে কালো দাগ পড়ে, আর বান্দা বিরত হয়ে ক্ষমা চাইলে ও তওবা করলে হৃদয় পরিষ্কার করে দেওয়া হয়।
পঞ্চম উপায় কোরআন তেলাওয়াত, অর্থ বোঝা ও আয়াত নিয়ে চিন্তা। সুরা হাশরের ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, এই কোরআন পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ হলে তা আল্লাহর ভয়ে বিনীত হয়ে বিদীর্ণ হয়ে যেত। ষষ্ঠত, আকাশ, পৃথিবী, পাহাড় ও প্রাণিজগৎ নিয়ে চিন্তা; সুরা গাশিয়াহর ১৭-২০ আয়াতে উট, আকাশ, পাহাড় ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিকে তাকাতে বলা হয়েছে।
সপ্তম উপায় দোয়া, জিকির ও নামাজে মনোযোগ। নিয়মিত আল্লাহকে স্মরণ করলে হৃদয়ে প্রশান্তি আসে; তবে দীর্ঘদিনের অবহেলার পর সে প্রশান্তি ফিরতে সময় লাগতে পারে, তাই হতাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লেখার মূল কথা, হৃদয়ের কঠোরতা এক দিনে যায় না; নিয়মিত আত্মসমালোচনা, তওবা, কোরআনচর্চা ও ইবাদতের মধ্য দিয়েই তা কোমল রাখতে হয়।
সূত্র: দেশ রূপান্তর



মন্তব্য
(০)