প্রথম আলোর ধর্ম পাতার ‘সাহাবিদের কথা’ ধারাবাহিকে গাজীপুরের বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের শিক্ষক মাহমুদ হাসান ফাহিম তুলে ধরেছেন সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফা আস-সাহমি (রা.)-এর কাহিনি। খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) শাসনামলে, হিজরি ১৯ সালে, রোমানদের বিরুদ্ধে পাঠানো মুসলিম বাহিনীর সদস্য হিসেবে তিনি রোমানদের হাতে বন্দী হন। লেখক সূত্র হিসেবে ইবনে আসাকিরের তারিখু দিমাশক ও ইবনে হাজার আসকালানির আল-ইসাবাহসহ ক্লাসিক গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন।
বর্ণনা অনুযায়ী, রোম সম্রাট মুসলিমদের ইমানের দৃঢ়তা নিজের চোখে যাচাই করতে চাইলেন। প্রথমে মুক্তির বিনিময়ে, পরে রাজ্যের অর্ধেক এবং ক্ষমতার অংশীদারির বিনিময়ে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের প্রস্তাব দিলেন। আবদুল্লাহ (রা.) জবাব দেন, ইমানের সঙ্গে সওদা হয় না; আরব-আজমের সব রাজত্বের বিনিময়েও এক মুহূর্তের জন্য তিনি নবীজির (সা.) দীন ছাড়বেন না।
এরপর চারদিক থেকে তির তাক করেও তাঁকে টলানো যায়নি, তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পানাহার বন্ধ রেখে দুর্বল অবস্থায় তাঁর সামনে মদ ও শূকরের মাংস দেওয়া হয়। চরম সংকটে প্রাণ বাঁচাতে হারাম খাওয়ার অনুমতি ইসলামে থাকলেও শত্রুরা যেন ইসলাম নিয়ে উপহাস করতে না পারে, সে জন্য তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন; পরে হালাল খাবার দেওয়া হয়। এরপর ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে দুজন মুসলিম বন্দীকে তাঁর চোখের সামনে ফেলা হয়, আর প্রলোভনও দেখানো হয়; তবু তিনি অটল থাকেন।
কড়াইয়ের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর চোখে পানি দেখে সম্রাট ভেবেছিলেন তিনি ভয় পেয়েছেন। আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, মৃত্যুর ভয়ে নয়, তিনি কাঁদছেন এই আফসোসে যে শরীরের প্রতিটি পশমের সমান জীবন থাকলে সবগুলো আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিতে পারতেন। শেষে সম্রাট প্রস্তাব দেন, তাঁর মাথায় একটি চুমু দিলে আবদুল্লাহ ও তাঁর সব সঙ্গীকে মুক্তি দেবেন। এত প্রাণ বাঁচানোর সুযোগ হাতছাড়া না করে তিনি সম্রাটের কপাল স্পর্শ করেন, আর সম্রাটও কথা রেখে সব মুসলিম বন্দীকে মুক্তি দেন।
মদিনায় ফেরার পর এ ঘটনা শুনে খলিফা ওমর (রা.) বলেন, প্রত্যেক মুমিনের উচিত আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফার মাথায় চুমু খাওয়া; তিনি নিজে প্রথম তা করেন, এরপর উপস্থিত সাহাবিরাও করেন। লেখকের কাছে কাহিনিটি প্রলোভন ও ভয়ের মুখে বিশ্বাসে অবিচল থাকার এক দৃষ্টান্ত।
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)