বন্ধুরা সুখে-দুঃখে পাশে থাকে, পরামর্শ দেয়, কাজে সাহায্য করে; কিন্তু সব বন্ধুত্ব মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়। দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত এক লেখায় মুনতাসির ইসলাম মুয়াজ মনে করিয়ে দিয়েছেন, দুনিয়ায় যে বন্ধুত্ব আনন্দের কারণ, পরকালে তা অনুশোচনা ও শত্রুতায় রূপ নিতে পারে।
লেখার ভিত্তি সুরা জুখরুফের ৬৭ নম্বর আয়াত: 'সেদিন বন্ধুরা একে অপরের শত্রু হবে, মুত্তাকিরা ছাড়া।' লেখকের ব্যাখ্যায়, মানুষ নানা কারণে বন্ধুত্ব গড়ে: সম্পদের জন্য, স্বার্থের জন্য, কখনো পাপ ও অন্যায়ে সহযোগিতার জন্য। সম্পর্কের ভিত্তি যদি হয় আল্লাহর অবাধ্যতা, আখেরাতে তা কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না।
যারা দুনিয়ায় একে অপরকে পাপে উৎসাহ দিয়েছে, আল্লাহর বিধান অমান্যে সহযোগিতা করেছে এবং অন্যায়কে স্বাভাবিক করে তুলেছে, কাজের পরিণতি সামনে এলে তারাই একে অপরকে দোষারোপ করবে বলে লেখক উল্লেখ করেছেন। তখন কেউ কাউকে রক্ষা করতে পারবে না; পারস্পরিক সম্পর্কই দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
আল্লাহভীরুদের বন্ধুত্ব এর ব্যতিক্রম। যাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসেন, সৎকাজে সহযোগিতা করেন এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকতে উৎসাহ দেন, তাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, ইমান ও তাকওয়া। লেখকের ভাষায়, দুনিয়ার জীবন শেষ হলেও এমন বন্ধুত্বের কল্যাণ শেষ হয় না।
বন্ধু বাছাইয়ে তাই শুধু আচরণ, জনপ্রিয়তা বা পার্থিব সাফল্য দেখা যথেষ্ট নয় বলে মত দিয়েছেন তিনি; দেখতে হবে তাঁর সঙ্গ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সাহায্য করছে কি না। প্রকৃত বন্ধু সে, যে ভুল করলে শুধরে দেয়, বিপদে পাশে থাকে এবং ভালো কাজে উৎসাহ দেয়।
ছবি: অজ্ঞাত, আব্বাসীয় যুগ / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)