ভারতের কর্ণাটকের রায়চুর জেলার বৃষ্টিনির্ভর শুষ্ক অঞ্চলে হাতে গোনা কয়েকজন কৃষক এখনো আক্কাডি নামের দেশীয় মিশ্র চাষপদ্ধতি ধরে রেখেছেন, যেখানে এক জমিতে আটটি পর্যন্ত ফসল একসঙ্গে হয়। বিশ্ব খাদ্য দিবসে ডাউন টু আর্থে লেখা কলামে লোকাপ্পা নায়েক যুক্তি দিয়েছেন, এই পদ্ধতির ক্ষয় দেখায় অল্প কয়েকটি উচ্চফলনশীল ফসলকেন্দ্রিক সরল চাষে আমরা কী হারিয়েছি।
আক্কাডিতে অড়হর, জোয়ার বা বাজরার মতো প্রধান ফসলের ফাঁকে ফাঁকে থাকে মুগ, লোবিয়া (কাউপি), মথ ডাল, মেস্তা (গোঙ্গুরা), রেড়ি ও শিম। এদের অনেকগুলোর পানি লাগে অঞ্চলের এখনকার প্রচলিত ফসলের চেয়ে কম। মিশ্র আচ্ছাদন মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে, ভিন্ন ভিন্ন গভীরতার শিকড় আলাদা স্তর থেকে পানি টানে, আর খরা, অতিবৃষ্টি বা পোকায় একটি ফসল মার খেলেও অন্যগুলো ফলন দিতে পারে। এ বছর রায়চুরকে আনুষ্ঠানিকভাবে খরাপীড়িত ঘোষণা করা হয়েছে।
নায়েক লিখেছেন, এখন সেখানে তুলা, অড়হর ও বাজরার একফসলি চাষেরই দাপট; কারণ শ্রমিক সংকট, চাষের সহজতা ও বড় পরিসরের সুবিধা, আর বেশির ভাগ ফসলই হয় বিক্রির জন্য। প্রাথমিক মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অল্প কিছু কৃষকই এখনো আক্কাডি করেন। তাঁদের মধ্যে আছেন মাস্কি তালুকের কান্নাল গ্রামের হানামেশ নায়েক, হিরে হানামন্থ ও গৌড়াপ্পা কাতেগার।
গৌড়াপ্পা এক একর জমিতে অড়হর, বাজরা, মুগ, লোবিয়া, শিম, মেস্তা, মথ ডাল ও রেড়ি চাষ করেন। স্বাভাবিক বছরে তিনি প্রায় ৪০০ কেজি বাজরা পান, যার ২৫০ কেজি বিক্রি করে ১৫০ কেজি ঘরে রাখেন; সঙ্গে মেলে প্রায় ২,০০০ কেজি গোখাদ্য। ৩০০ কেজি অড়হরের ২৮০ কেজি বিক্রি করেন। ৮ কেজি মুগ, ১৭ কেজি মথ ডাল, ১২ কেজি শিমের মতো ছোট ফলন যায় পরিবারের খাবারে। লেখকের মতে, শুধু ফলন বা বিক্রি দিয়ে বিচার করলে এই কৃষকদের সফল মনে না-ও হতে পারে, কিন্তু পদ্ধতিটি খাবার, গোখাদ্য, মালচ ও কম্পোস্টও জোগায়।
কলামে উচ্চফলনশীল ফসলের দিকে ঝোঁকের সঙ্গে স্থানীয় জাত হারানোর যোগসূত্র টানা হয়েছে, যেমন বোগাপুর জোলা, ৭০ জোলা ও বাগাভাথ জোলা (জোয়ার) এবং মারাসাজ্জে (বাজরা); কমেছে কৃষকের নিজের রাখা বীজ, চাপে পড়েছে মাটির উর্বরতা। তবে হাইব্রিড বীজ, উপকরণ বা যন্ত্রের বিরোধিতা করা হয়নি; লেখক মনে করেন, এগুলো অনেক ক্ষেত্রে সত্যিকারের সুফল এনেছে।
নায়েকের প্রস্তাব: ফলনের পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টি, গোখাদ্য, মাটির স্বাস্থ্য, আয় ও ঝুঁকি দিয়েও খামারের সাফল্য মাপা; প্রথাগত ফসল-সমন্বয় নথিভুক্ত করা; স্থানীয় জাতকে উন্নত জাতের পাশাপাশি পরীক্ষা করা; সমাজভিত্তিক বীজ ব্যাংক শক্তিশালী করা; মিশ্র চাষের উপযোগী যন্ত্র তৈরি করা এবং ছোট দানাশস্য ও ডালের বাজার গড়া। আক্কাডির মাঠপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নও চেয়েছেন তিনি। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Nanditha Gogate, WELL Labs / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ



মন্তব্য
(০)