পিরোজপুরে সুপারির আবাদ বাড়লেও চলতি মৌসুমে ফলন কমেছে। লবণাক্ততা ও পরিবেশগত নানা কারণে উৎপাদন কমায় বাজারে দাম বেড়েছে, তাতে কেউ কেউ ভালো দাম পেলেও যাঁদের ফলন বেশি কমেছে, তাঁদের আয় কমে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, এবার জেলায় ৪ হাজার ৬৬৯ হেক্টরে সুপারির আবাদ হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ৬৭৬ মেট্রিক টন, সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৮৪০ থেকে ৯৩০ কোটি টাকা। তবে সদর, কাউখালী, নেছারাবাদসহ সাত উপজেলায় ফলন গত বছরের চেয়ে কম।
জেলার সুপারি বেচাকেনার বড় কেন্দ্র কাউখালীর শত বছরের পুরোনো হাট, প্রতি শুক্র ও সোমবার বসে। এখানে ২১ ঘা বা ২১০টি কাঁচা সুপারিতে এক কুড়ি; শ্রেণিভেদে প্রতি কুড়ি বিকোচ্ছে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকায়, আর প্রতি মণ শুকনো সুপারি ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায়। হাটের ব্যবসায়ী ফোরকান মিয়া জানান, গত বছর এ সময়ে কুড়ির দাম ছিল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, এবার ৫০০ থেকে ৭০০; অর্থাৎ অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি।
কৃষক মোতালেব হাওলাদার বলেন, গত বছর যে বাগান থেকে ২ লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করেছিলেন, এবার সেখান থেকে ১ লাখ টাকারও বিক্রি করতে পারবেন না। আরেক চাষি আল-আমীন জানান, ফলন কম হলেও দাম ভালো পাচ্ছেন। নেছারাবাদের ব্যবসায়ী ফয়সাল হোসাইন সুপারি কিনে মাটির নিচে পলিথিনে প্রায় ছয় মাস সংরক্ষণ করেন, কাঁচা সুপারি না থাকার সময় বেশি দামে বিক্রির জন্য।
পিরোজপুরের সুপারি আকারে বড় ও রঙে আকর্ষণীয় হওয়ায় ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে চাহিদা আছে। বাছাই, পরিবহন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে কাউখালীর হাটে শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে; ঝালকাঠি থেকেও বিক্রেতারা আসেন, আর ডিসেম্বর পর্যন্ত হাট নিয়মিত বসবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় অনেকে বাণিজ্যিক সুপারি বাগান গড়ছেন। এবার ফলন কম হওয়ায় কৃষকেরা দাম বেশি পাচ্ছেন, আর নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়ে কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছে।
প্রতিবেদন: এগ্রিকেয়ার২৪ ডেস্ক
ছবি: Afifa Afrin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)