মনের মধ্যে গুছিয়ে রাখা কথা মুখে বলতে গিয়ে অনেকেরই জড়তা আসে। এমন সময় আল্লাহর সাহায্য চেয়ে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত নবী মুসার (আ.) দোয়াটি পড়া যেতে পারে বলে প্রথম আলোয় লিখেছেন আলেমা ও প্রাবন্ধিক নাহিদা সুলতানা। দোয়াটিতে মনের প্রশান্তি, কাজের সহজতা, জিহ্বার জড়তা দূর হওয়া এবং কথা শ্রোতার বোধগম্য হওয়ার প্রার্থনা রয়েছে।
আল্লাহ-তাআলা মুসাকে (আ.) ক্ষমতাধর শাসক ফেরাউনের কাছে গিয়ে তাকে আল্লাহর পথে ডাকার নির্দেশ দেন। সেই কঠিন দায়িত্বের আগে মুসা (আ.) প্রার্থনা করেন: 'রাব্বিশরাহ লি সদরি। ওয়া ইয়াসসির লি আমরি। ওয়াহলুল উকদাতাম মিল লিসানি। ইয়াফকাহু কাওলি।' অর্থ: 'হে আমার প্রতিপালক, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন। আমার কাজ সহজ করে দিন। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।' (সুরা ত্বহা, আয়াত: ২৫-২৮)
লেখকের ব্যাখ্যায় দোয়ার চারটি অংশ। প্রথমে বক্ষ প্রশস্ত করার প্রার্থনা, যাতে উদ্বেগ, সংকোচ আর অস্থিরতা কঠিন দায়িত্ব পালনে বাধা না হয়। দ্বিতীয়ত কাজ সহজ করার আবেদন, কারণ মানুষের সামর্থ্য সীমিত; বক্তব্য, পাঠদান বা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আগে সহজতা চাওয়া মুমিনের জন্য সুন্দর শিক্ষা।
তৃতীয় অংশে সরাসরি জিহ্বার জড়তা দূর করার আবেদন, যাতে স্পষ্ট ও সাবলীলভাবে কথা বলা যায়। শেষ অংশে চাওয়া হয়েছে, শ্রোতা যেন কথাটি বুঝতে পারেন। লেখকের মতে, সুন্দর করে কথা বলার সার্থকতা তখনই, যখন বক্তব্যের মর্ম শ্রোতার কাছে স্পষ্ট হয়।
দোয়ার পটভূমি বোঝা যায় সুরা শুআরার ১৩ নম্বর আয়াতে, যেখানে মুসা (আ.) জানান তাঁর বক্ষ সংকুচিত হয়ে আসে এবং জিহ্বা সাবলীলভাবে চলে না। তাই তিনি বাকপটু ভাই হারুনকে (আ.) সহযোগী হিসেবে চান: 'আর আমার ভাই হারুন, সে আমার চেয়ে বেশি সাবলীলভাষী। সুতরাং তাকে আমার সঙ্গে সাহায্যকারী হিসেবে পাঠান, সে আমাকে সমর্থন করবে।' (সুরা কাসাস, আয়াত: ৩৪) লেখক বলছেন, নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে উপযুক্ত মানুষের সহযোগিতা নেওয়া দুর্বলতা নয়, বিচক্ষণতা।
কথা বলতে গিয়ে আটকে গেলে, বক্তব্যের আগে অস্বস্তি হলে, কিংবা শিক্ষকতা, বক্তৃতা, পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আগে দোয়াটি পড়া যায়। তবে কথার জড়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা দৈনন্দিন জীবনে বড় সমস্যা তৈরি করলে দোয়ার পাশাপাশি ধীরে কথা বলার অনুশীলন, স্পষ্ট উচ্চারণের চর্চা এবং প্রয়োজনে স্পিচ থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন লেখক।
ছবি: Amr Fayez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5); কোরআন শরিফের প্রতীকী ছবি
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)