বাছুর পালনের গাভির পালের উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রজননের সিদ্ধান্তে জিনগত তথ্যের ব্যবহার বাড়ানোই মূল চাবি, বলেছেন যুক্তরাজ্যের কৃষি ও উদ্যান উন্নয়ন বোর্ডের (এএইচডিবি) মাংসের গরুর প্রধান জিনতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ হ্যারিয়েট বানিং (Harriet Bunning)। বোর্ডের "স্ট্রংগার হার্ডস ফর স্ট্রংগার রিটার্নস" প্রচারণায় দেওয়া তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেছে ফার্মার্স উইকলি। তাঁর মতে, তথ্য রেকর্ড করলে প্রজননের ষাঁড় ও বকনা বিক্রি সহজ হয়, আবার আরও ভালো পশুও জন্মানো যায়; তথ্য যত বেশি ব্যবহার হয়, মূল্যায়ন তত নির্ভুল হয়।
বানিং বলেন, প্রজননকারীরা এখন দক্ষতার দিকে বেশি তাকাচ্ছেন: এমন গাভি যা অল্পে চলতে পারে, যেখানে গাভির ওজন আর বাছুরের মাংসের ওজনের ভারসাম্য থাকে, অর্থাৎ ছোট গাভিও তুলনামূলক বড় বাছুর পালতে পারে। আনুমানিক প্রজনন মূল্য (ইবিভি) একটি বৈশিষ্ট্যের সব তথ্য একটি সংখ্যায় এনে এমন জিনিস দেখায় যা চোখে দেখা যায় না, যেমন দীর্ঘজীবী কন্যা। তিনি দুধ ছাড়ানোর দক্ষতা মাপার পরামর্শ দেন, অর্থাৎ গাভির ওজনের শতাংশ হিসেবে বাছুরের ওজন, যার জন্য বাছুরের পাশাপাশি গাভিকেও ওজন করতে হয়।
ক্যামব্রিজশায়ারের সেন্ট নিয়টসের কাছে ক্রক্সটন পার্ক পার্টনারশিপের খামার ব্যবস্থাপক ওমর হাসৌনেহ (Omer Hassouneh) তাঁর বংশ-নিবন্ধিত শর্টহর্ন পাল থেকে ৯০০-১,০০০ কেজির ভারী পশু বাদ দিয়ে গাভির গড় ওজন ৭৫০ কেজিতে এনেছেন। তাঁর লক্ষ্য এমন কার্যকর গাভি, যা নিম্নমানের চারণেও টিকে থাকবে এবং বাছুরের যত্ন নেবে। আট মাস বয়সে ৩৫০-৪০০ কেজি ওজনে বাছুরের দুধ ছাড়ানো হয়। গর্ভধারণ না করলে গাভি বাদ দেন তিনি, আর বকনারা ৩০ মাস বয়সে নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রথম বাছুর দেয়।
দ্বিতীয় শিক্ষা গোয়ালঘর নিয়ে। পশুর ঘর বিশেষজ্ঞ জেমি রবার্টসন (Jamie Robertson) বলেন, ছাদে দুর্বল বায়ু চলাচল একটি বড় সমস্যা এবং নির্মাতাদের সাধারণ ভুল। খামারের ২০১৬ সালে তৈরি ৩৬ মিটার লম্বা শেডে ৪৫টি গাভি ও বাছুর থাকে; ছাদের চূড়ায় ১৮টি বাঁকানো ভেন্ট মিলে বাতাস বের হওয়ার পথ ১.২ বর্গমিটার, অথচ দরকার ৪.৫ বর্গমিটার, অর্থাৎ গাভিপ্রতি প্রায় ০.১ বর্গমিটার এবং বাছুরের জন্য বাড়তি। তাঁর হিসাবে দরকারের মাত্র এক-চতুর্থাংশ আছে; একটি গাভি দিনে ৪০ লিটার আর্দ্রতা ছাড়ে, ৪৫টি গাভি মিলে ১,৮০০ লিটার।
রবার্টসনের সমাধান খোলা চূড়া (ওপেন রিজ), যার খরচ তিনি মিটারপ্রতি ৬০-৭০ পাউন্ড ধরেছেন; সঙ্গে প্রতিটি পাশের দেয়ালে সমপরিমাণ বাতাস ঢোকার পথ। তিনি বলেন, বায়ু চলাচল ঠিক করলে মোটাতাজা করা গরুর দৈনিক ওজন বৃদ্ধি ৩-৫ শতাংশ বাড়বে, আর একই ধরনের একটি ঘরে খোলা চূড়ার খরচ ১৮ মাসে উঠে এসেছে। তবে ছাদের কাজ বিপজ্জনক, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। প্রতিবেদনটি করেছেন জুডিথ টুথ।
ছবি: Marion Phillips / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি





মন্তব্য
(০)