ইসলামে নেতৃত্ব একটি আমানত। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় আলেম, লেখক ও প্রোগ্রামার আবদুল্লাহিল বাকি হাদিস ও কোরআনের উদ্ধৃতিতে রাসুল (সা.)-এর নেতৃত্বের মৌলিক গুণগুলো তুলে ধরেছেন। শুরুতে তিনি সহিহ বুখারির হাদিস (৭১৩৮) উদ্ধৃত করেছেন: ‘তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’
প্রথম গুণ সততা ও বিশ্বস্ততা: শত্রুরাও তাঁকে আল-আমিন বলত। লেখক মুসনাদে আহমাদের হাদিস (১২৩৮৩) উদ্ধৃত করেছেন, যার বিশ্বস্ততা নেই তার ইমান নেই। দ্বিতীয়ত স্পষ্ট যোগাযোগ: আনাস (রা.)-এর বর্ণনায়, প্রয়োজনে তিনি কথা তিনবার বলতেন, যাতে সবাই বোঝে (সহিহ বুখারি, ৯৫)। তৃতীয়ত প্রজ্ঞা: হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে কোরাইশদের বিরোধ মেটানো তার উদাহরণ।
নেতৃত্বের অন্যতম ভিত্তি ইনসাফ। ধনী-দরিদ্র, মুসলিম-অমুসলিম সবার জন্য আইন সমান রাখার ঘোষণায় তিনি বলেছিলেন, তাঁর কন্যা ফাতিমাও চুরি করলে শাস্তি পেত (সহিহ বুখারি, ৬৭৮৭)। তিনি যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতেন; অযোগ্যের হাতে দায়িত্ব গেলে আমানত হারিয়ে যায়, এমন সতর্কবাণী এসেছে সহিহ বুখারির হাদিসে (৫৯)। দুর্বলতার কারণে আবু জর (রা.)-কে পদ দেননি, এ ঘটনাও লেখক উল্লেখ করেছেন (সহিহ মুসলিম, ১৮২৫)।
দয়া ও সহমর্মিতা তাঁর নেতৃত্বের ভূষণ বলে লিখেছেন আবদুল্লাহিল বাকি, প্রমাণ হিসেবে সুরা তওবার ১২৮ নম্বর আয়াত। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি পরামর্শের (শুরা) মাধ্যমে নিতেন; আবু হোরাইরা (রা.) বলেছেন, সঙ্গীদের সঙ্গে নবীজির চেয়ে বেশি পরামর্শ করতে কাউকে দেখেননি (সুনানে তিরমিজি, ১৭১৪)। নেতাকে তিনি দেখতেন সেবক হিসেবে, আর খন্দকের পরিখা খননে নিজে মাটি বয়েছেন (সহিহ বুখারি, ৪১০৪)।
ভুল শোধরাতেন নাম না নিয়ে, মার্জিতভাবে (সহিহ বুখারি, ৬১০১)। অধীনস্থদের ভাই বলে নিজের মতো খাওয়াতে-পরাতে আর সাধ্যাতীত কাজ না চাপাতে বলেছেন (সহিহ বুখারি, ৩০); আনাস (রা.) ১০ বছর খেদমত করেও কখনো তাঁর মুখে ‘উফ’ শোনেননি (সহিহ বুখারি, ৬০৩৮)। লেখকের মতে, সততা, ইনসাফ, কল্যাণকামিতা ও সেবাবোধের এই আদর্শ যেকোনো যুগের নেতৃত্ব ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার রূপরেখা।
ছবি: Bluemangoa2z / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন); মসজিদে নববি
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)