মদিনার মসজিদে নববিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক আর তাঁর মিম্বারের মধ্যবর্তী অংশটির নাম রিয়াজুল জান্নাত, আরবিতে যার অর্থ ‘জান্নাতের বাগান’। বিশ্বের মুসলিমদের কাছে এটি পৃথিবীর অন্যতম পবিত্র স্থান; হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা মসজিদে নববিতে এসে এখানে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও মুনাজাত করেন। নাগরিক টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে স্থানটি নিয়ে পাঁচটি তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
নামের উৎস একটি প্রসিদ্ধ হাদিস। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার ঘর এবং আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান, এবং আমার মিম্বারটি আমার কাউসারের ওপর অবস্থিত।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) এ কারণে এখানে বেশি বেশি জিকির ও দোয়ার গুরুত্ব রয়েছে।
স্থানটিতে আটটি ঐতিহাসিক স্তম্ভ আছে। মসজিদে নববির আদি নির্মাণে প্রথম ছাদ ধরে রাখতে যেসব খেজুরগাছের কাণ্ড ব্যবহার হয়েছিল, ঠিক সেসব জায়গাতেই এগুলো তৈরি। রিয়াজুল জান্নাতকে আলাদা করে চেনা যায় এর সবুজ গালিচায়।
হিজরতের পর শুরুতে নবীজি (সা.) মদিনায় খোলা আকাশের নিচে গাছের ছায়ায় সালাত আদায় করতেন; পরে খেজুরপাতা ও কাঠে একটি সাধারণ কাঠামো তৈরি হয়। বিভিন্ন খলিফা ও শাসকের আমলে বহুবার সংস্কার ও সম্প্রসারণে সেই কাঠামোই আজকের মসজিদে নববি। স্থানটি আগে ‘রওজাতুন নবী’ নামেও পরিচিত ছিল।
রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশের প্রধান তিনটি ফটক বাব-ই জিবরিল, বাব-ই রহমত ও বাব-উল বিদা। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা নির্দিষ্ট সময়ে ইবাদতের ব্যবস্থা থাকে; সপ্তাহের সাধারণ দিনগুলোতে ভিড় তুলনামূলক কম থাকে। প্রবেশের আগে জুতা খুলে ওজু করে নিতে হয়, আর ভেতরে কাউকে কষ্ট না দিয়ে নফল নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতে মগ্ন থাকা উচিত।
ছবি: Bluemangoa2z / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন); মসজিদে নববি
সূত্র: নাগরিক টেলিভিশন




মন্তব্য
(০)