জাগো নিউজে প্রকাশিত এক কলামে সমীরণ বিশ্বাস লিখেছেন, কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়; গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পরিবেশের ভারসাম্য এবং সুস্থ জীবনেরও ভিত্তি। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমি কমে যাওয়া, মাটির অবক্ষয়, পানিসংকট, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় আর খাদ্যের অপচয় খাদ্যনিরাপত্তার চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করছে বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর মতে, মোট উৎপাদন দিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা মাপা যায় না। বাজারে খাবার থাকলেও দরিদ্রের কেনার সামর্থ্য না থাকলে কিংবা পেট ভরলেও পুষ্টি না মিললে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। ধানের সাফল্যের পাশাপাশি মাছ, শাকসবজি, ফল, ডাল, তেলবীজ ও প্রাণিজ খাদ্যের বৈচিত্র্যময় উৎপাদন এবং শিশু, নারী, প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের পরিবারের পুষ্টির কথা ভাবতে হবে।
মাটি পরীক্ষা ছাড়া অনুমাননির্ভর সার প্রয়োগে খরচ বাড়ে, দূষণ ও পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি তৈরি হয়, লিখেছেন তিনি। পিএইচ, জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়ামসহ মাটির অবস্থা বুঝে সুষম সার দিলে কৃষকের টাকা বাঁচে। জৈব পদার্থ বাড়ানো, ফসলের আবর্তন, ডালজাতীয় ফসল ও সবুজ সারের কথাও বলেছেন তিনি। নিরাপদ খাদ্যের জন্য সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, জৈবিক দমন ও ফসল তোলার আগের অপেক্ষাকাল মানার তাগিদ দিয়েছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, উপগ্রহের তথ্য, মাটির সেন্সর ও ড্রোন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন লেখক। তবে তাঁর সতর্কতা, প্রযুক্তি মানেই স্বয়ংক্রিয় সাফল্য নয়; এআই-ভিত্তিক রোগ শনাক্তকরণ বা সার সুপারিশের নির্ভুলতা বিভিন্ন ফসল, জাত, মৌসুম ও এলাকায় মাঠে যাচাই করতে হবে, আর প্রযুক্তিকে সহজ, সাশ্রয়ী ও স্থানীয় ভাষায় ব্যবহারযোগ্য করতে হবে যাতে ক্ষুদ্র কৃষকও সুফল পান।
অপচয় কমানোও খাদ্যনিরাপত্তার অংশ বলে মনে করেন তিনি: গ্রামপর্যায়ে সংরক্ষণব্যবস্থা, আধুনিক হিমাগার, উপযুক্ত প্যাকেজিং, দ্রুত পরিবহন ও কৃষক থেকে ক্রেতার সরাসরি সংযোগ দরকার। কৃষকের ন্যায্যমূল্যের জন্য বাজারতথ্য, শক্তিশালী সমবায়, কৃষিঋণ ও ফসলবিমা এবং নারী কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর কথা লিখেছেন তিনি। কৃষি লাভজনক হলে তরুণেরা আসবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।
এই লেখায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪



মন্তব্য
(০)