এল নিনোর ঝুঁকি, বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন এবং জ্বালানি ও সারের বাড়তি দাম ছিল ৭ থেকে ৯ অক্টোবর ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক বিশ্ব চাল সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য। দ্য রাইস ট্রেডার আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) সঙ্গে মিলে এটি আয়োজন করে; সহ-আয়োজক ছিল ফিলিপাইনের চাল খাতের অংশীজনদের সংগঠন প্রিজম। এতে অংশ নেন ব্যবসায়ী, চালকল মালিক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও সরকারি কর্মকর্তারা।
বক্তারা বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আগে থেকেই অনিশ্চিত বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে; জ্বালানি ও উপকরণের বাড়তি খরচ আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক দুই ধরনের দেশকেই ভোগাচ্ছে, আর সেচ, নির্ভুল কৃষি ও গুদামে বিনিয়োগ দেশগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বদলে দিচ্ছে। দ্য রাইস ট্রেডারের প্রধান নির্বাহী জেরেমি জুইঙ্গার (Jeremy Zwinger) বলেন, সংঘাত ও অস্থিরতা বিশ্বকে আরও জটিল করে তুলছে; বাণিজ্যে সরকারের ভূমিকা আবার বাড়ছে, আর অনেক সময় হাতে গোনা কয়েকজনের সিদ্ধান্তে দাম প্রভাবিত হচ্ছে।
ইরির মহাপরিচালক ড. ইভন পিন্টো (Yvonne Pinto) বলেন, অস্থির বাজারে বিজ্ঞানের কাজ শুধু গবেষণাগার আর মাঠে সীমিত নয়, বাজারকে চালিত শক্তিগুলো বোঝাও এর অংশ; সরকার, ব্যবসায়ী ও গবেষকদের সংকেত একসঙ্গে দেখলে ঝুঁকি আগেভাগে ধরা যায়। আসিয়ান খাদ্য নিরাপত্তা জোটের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও ফিলিপাইনের সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. উইলিয়াম দার (William Dar) বীজ থেকে খেত, খেত থেকে চালকল, চালকল থেকে বাজার এবং বাজার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো শৃঙ্খলে 'সহনশীলতার বিপ্লব'-এর ডাক দেন, যাতে সংকটের পর সাড়া দেওয়ার বদলে আগেই প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
আলোচনায় বিশ্ব চাল বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা, আমদানি নীতির পরিবর্তন এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি উঠে আসে, যেখানে উৎপাদন, বাণিজ্যের নিয়ম, জলবায়ু ও চাহিদার পরিবর্তন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলে। ফিলিপাইনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ড. আসিমা রাব্বানি জানান, ফিলিপাইনের সহযোগিতায় পাকিস্তানে আসা ইরি-৬ জাতের চাল এখন পাকিস্তান থেকেই ফিলিপাইনে রপ্তানি হচ্ছে।
বার্ষিক 'বিশ্বের সেরা চাল' প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে মিয়ানমার, দ্বিতীয় ভিয়েতনাম ও তৃতীয় ফিলিপাইন; ভারত ও থাইল্যান্ড পেয়েছে বিশেষ সম্মানসূচক উল্লেখ।
ছবি: CocoyAguilar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: IRRI



মন্তব্য
(০)