উত্তর ঘানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের ঘরে যখন ইসাহ তোলহাতু (Issah Tolhatu) সয়াবিন প্রক্রিয়াজাত শুরু করেন, তখন দিনে মাত্র নয় কেজি সামলাতে পারতেন। কারখানা ছিল না, যন্ত্র ছিল না, সাফল্যের নিশ্চয়তাও ছিল না, জানিয়েছে এজিআরএ। খাদ্যবিজ্ঞানের এই ছাত্রী দেখেছেন, তার এলাকার তরুণেরা কাজ পান না, তরুণীরা কাজের খোঁজে বাড়ি ছাড়েন। তার বিশ্বাস ছিল, সয়াবিন হতে পারে সমাধানের একটি অংশ।
তার প্রতিষ্ঠান গ্রেইনওয়েল এন্টারপ্রাইজ পুষ্টিকর সয়াবিন পণ্য তৈরি করে এবং গ্রামের নারীদের সয়াবিনের মূল্য সংযোজন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবসা চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়। কসমস ইনোভেশন সেন্টারের মাধ্যমে এজিআরএর পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতি সহায়তায় ছাত্রাবাসের সেই উদ্যোগ এখন বাড়ন্ত প্রতিষ্ঠান। গ্রেইনওয়েল এখন দিনে ৮০ থেকে ১০০ কেজি সয়াবিন প্রক্রিয়াজাত করে, চারজন স্থায়ী ও পাঁচজন অস্থায়ী কর্মী আছেন, আর ছয়জন ক্ষুদ্র নারী কৃষক সয়াবিন সরবরাহ করেন।
এজিআরএ গ্রেইনওয়েলকে ১০০ তরুণীকে সয়াবিনের মূল্য সংযোজন শেখানোর জন্য অ্যাংকর প্রতিষ্ঠান হিসেবেও বেছে নিয়েছে। কর্মী মোহাম্মদ হানিফা এর আগে দুবার দক্ষিণে গিয়ে কায়ায়ো, অর্থাৎ মাথায় করে অন্যের মালপত্র বহনের কাজ করেছেন। এখন বাড়ির কাছে স্থির আয় হচ্ছে, যা দিয়ে তিনি মায়ের চিকিৎসার খরচেও সাহায্য করতে পেরেছেন।
পথটা সহজ ছিল না। কারখানা না থাকায় উৎপাদন হাতের কাজের ওপর নির্ভর করত, আর অনিয়মিত বৃষ্টি বারবার কাজ ব্যাহত করত। ইসাহ যা আয় করেছেন, তা আবার ব্যবসায় খাটিয়েছেন এবং পাওয়া সহায়তা কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়েছেন।
আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে তিনি গ্রেইনওয়েলের পণ্য আটটি দেশে পৌঁছাতে চান, ২০০টি প্রত্যক্ষ ও ১০০টি পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করতে চান এবং এক হাজারের বেশি তরুণ, বিশেষ করে নারীদের প্রশিক্ষণ দিতে চান। এর জন্য দরকার আরও বিনিয়োগ ও অনুদান, উন্নত যন্ত্র, শক্তিশালী বাজার সংযোগ এবং রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন।
ছবি: Alexhori1986 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এজিআরএ





মন্তব্য
(০)