খাবারের স্বাদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই তার পরিবেশন, বৈচিত্র্য আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কলকাতার এই সময় পত্রিকার এক ছবির গল্পে সাত দেশের এমন সাতটি রীতি তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে পরিবেশনই হয়ে উঠেছে একধরনের শিল্প।
জাপানের বেন্টো একটি বাক্সে সাজিয়ে দেওয়া খাবার: ভাত, মাছ বা মাংস, ডিম আর নানা রকম সবজি। রং, আকার আর বিন্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়, আর ব্যস্ত জীবনে সহজে বহন করা যায় বলে বেন্টো জনপ্রিয়। কোরিয়ার খাবার টেবিলে প্রধান পদের সঙ্গে ছোট ছোট বাটিতে আসে একাধিক পদ, যার নাম বাঞ্চান: কিমচি, নানা সবজি, ভাজা বা রান্না করা পদ মিলে একই খাবারে নোনতা, ঝাল, টক ও মিষ্টি স্বাদের বৈচিত্র্য তৈরি হয়।
তুরস্কের মেজে ছোট ছোট পদ একসঙ্গে পরিবেশনের রীতি, যাতে থাকতে পারে হুমুস, জলপাই, দইয়ের ডিপ, ভরা আঙুরপাতা আর সবজির পদ; বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়ার এই সংস্কৃতি তুরস্কের আতিথেয়তার পরিচয়। ফ্রান্সের পাতিসেরি মূলত মিষ্টি ও বেকারি পদের শিল্প, যেখানে ক্রোয়াসাঁ, ম্যাকারোঁ, ফলের টার্ট আর কেকে স্বাদ ও সৌন্দর্য সমান গুরুত্ব পায়।
ভারতের থালিতে একটি বড় প্লেটে একসঙ্গে আসে ভাত, রুটি, ডাল, তরকারি, আচার, চাটনি আর কখনো মিষ্টি; রাজস্থান, গুজরাট, বাংলা ও দক্ষিণ ভারতের থালির স্বাদ আলাদা। ইথিওপিয়ার ইনজেরা নরম, হালকা টক রুটি; বড় থালায় তার ওপর ডাল, সবজি ও মাংসের পদ সাজিয়ে দেওয়া হয়, আর হাতে ইনজেরা ছিঁড়ে অন্য পদ তুলে খাওয়া হয়।
স্পেনের তাপাসও ছোট ছোট খাবার পরিবেশনের রীতি: জলপাই, আলুর পদ, ক্রোকেট, স্প্যানিশ অমলেটের টুকরো। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে একাধিক পদ ভাগ করে খাওয়ার সংস্কৃতির সঙ্গে তাপাস জড়িয়ে আছে।
ছবির গল্পটির সারকথা, কোথাও ছোট বাক্সে নিখুঁত সাজানো, কোথাও অসংখ্য বাটিতে স্বাদের বৈচিত্র্য, কোথাও বড় থালায় একসঙ্গে খাওয়ার আনন্দ; প্রতিটি রীতিই নিজের দেশের ঐতিহ্য আর জীবনযাপনের ছবি।
ছবি: Blue Lotus / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0); জাপানের কোয়াসানে একটি বেন্টো বাক্স
সূত্র: এই সময়




মন্তব্য
(০)