গবেষণাগারে প্রথম সংশ্লেষণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় বাজারে বিক্রি পর্যন্ত একটি নতুন বালাইনাশক সক্রিয় উপাদান আনতে এখন গড়ে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ডলার খরচ হয়, সময় লাগে প্রায় ১১.৪ বছর। ক্রপলাইফ ইন্টারন্যাশনালের (CropLife International) পক্ষে এগবায়োইনভেস্টর (AgbioInvestor) পরিচালিত শিল্প জরিপের এ ফল জানিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার। ১৯৯৫ সালে একই হিসাবে খরচ ছিল ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, অর্থাৎ খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
২০২৫ সালে করা জরিপে বিএএসএফ, বায়ার ক্রপ সায়েন্স, কর্টেভা, এফএমসি ও সিনজেন্টাকে ২০২০-২৩ সালে আনা একটি সক্রিয় উপাদানের আবিষ্কার, উন্নয়ন ও নিবন্ধনের পুরো খরচ জানাতে বলা হয়, পথে পরীক্ষা করা প্রতিটি অণুর খরচসহ। শীর্ষ ৩০টি কৃষিরাসায়নিক কোম্পানির গবেষণা ব্যয়ের ৭৮ শতাংশের বেশি এই পাঁচ কোম্পানির। উন্নয়নে খরচ ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার, গবেষণায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ এবং নিবন্ধনে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আগের জরিপের তুলনায় মোট খরচ বেড়েছে মাত্র ১.৯ শতাংশ।
খরচের ধরন বদলেছে। সম্ভাব্য অণু সংশ্লেষণ এখন সবচেয়ে বড় খরচ, ১৭.৯ শতাংশ বেড়ে ৭ কোটি ২৩ লাখ ডলার; আর গ্রিনহাউস পরীক্ষা কমায় জৈবিক যাচাইয়ের খরচ ৯.৯ শতাংশ কমে ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার হয়েছে। নিরাপত্তা পরীক্ষাও আগেভাগে করা হচ্ছে, কারণ একটি অণুকে উন্নয়ন পর্যায়ে নিলেই আরও ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের দায় তৈরি হয়।
বড় খাতগুলোর মধ্যে কেবল নিবন্ধন খরচ কমেছে, ১৫.৪ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিবন্ধন খরচ ১২.১ শতাংশ কমে ২ কোটি ১৪ লাখ ডলার, যুক্তরাষ্ট্রে ২০ শতাংশ কমে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। তবে পুরোনো পণ্য বাজারে রাখতে ইউরোপে পুনর্নিবন্ধনে গড়ে ১ কোটি ৫৩ লাখ ডলার লাগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০ গুণ। বাজারে আনার সময় ২০১৪-১৯ সালের ১২.৩ বছর থেকে কমে ১১.৪ বছর হয়েছে।
২০২৩ সালে পাঁচ কোম্পানি কৃষিরাসায়নিক গবেষণায় মোট ২৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার খরচ করেছে, যা বিক্রির ৫.৫ শতাংশ। জৈব বালাইনাশক গবেষণা ৪৩.৪ শতাংশ বেড়েছে, রাসায়নিক গবেষণা কমেছে ৯.৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার জেনেরিক বালাইনাশক উৎপাদকদের জন্য বার্তা মিশ্র: নতুন পণ্য কম আসায় ভবিষ্যতে পেটেন্ট শেষ হওয়া পণ্যও কম থাকবে, আর মূল কোম্পানিগুলো নিজেরাই এখন পেটেন্টমুক্ত পণ্যে প্রতিযোগিতা করছে।
ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)