গমের ভয়ংকর ছত্রাকজনিত রোগ ব্লাস্ট দ্রুত শনাক্ত করার নতুন প্রযুক্তি এখন তানজানিয়ার বিজ্ঞানীদের হাতে। যুক্তরাজ্যের জন ইনেস সেন্টারের (John Innes Centre) গবেষকেরা দেশটির পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ২১ জন প্রতিনিধিকে এই সস্তা ও দ্রুত পরীক্ষার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তানজানিয়ায় এখনো রোগটি পাওয়া যায়নি, তবে প্রতিবেশী জাম্বিয়ায় নিশ্চিত হয়েছে। তানজানিয়ান কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (টারি) এ প্রশিক্ষণের পর আগামী মৌসুমে সন্দেহজনক নমুনা পরীক্ষার উপকরণও তাদের দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষাটির নাম ল্যাম্প (লুপ-মিডিয়েটেড আইসোথার্মাল অ্যামপ্লিফিকেশন)। পিসিআরের মতো দামি যন্ত্র লাগে না, একটি সাধারণ হিটিং প্লেটেই চলে, আর একই তাপমাত্রায় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টায় ফল দেয়। নমুনায় ব্লাস্টের জীবাণু থাকলে রং গোলাপি থেকে হলুদ হয়ে যায়। এরপর নমুনাটি আরও বিস্তারিত পরীক্ষায় পাঠানো যায়।
দ্রুততা জরুরি, কারণ চোখে দেখে গমের ব্লাস্ট আর ফিউজারিয়াম হেড ব্লাইট আলাদা করা কঠিন। দুই রোগেই গমের শিষ সাদা হয়ে যায়, দানা চুপসে যায়। ফলে ব্লাস্ট এসে হেড ব্লাইট বলে ভুল চিহ্নিত হয়ে নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়তে পারে। গবেষণাগারের গবেষণা সহকারী লিয়াম বাটলার (Liam Butler) বলেন, প্রক্রিয়াটি দ্রুত এবং কোন রোগ ধরা পড়ল তা পরিষ্কার জানিয়ে দেয়।
গমের ব্লাস্ট প্রথম দেখা দেয় ব্রাজিলে, ১৯৮৫ সালে; গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি বাড়ে। প্রাদুর্ভাবে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ ফসল নষ্ট হতে পারে; একটি স্পোরেই গাছ আক্রান্ত হয়, আর আক্রান্ত গাছ দিনে ৬ হাজার পর্যন্ত স্পোর ছড়ায়। ২০১৬ সালে রোগটি বাংলাদেশে আসে এবং কয়েক সপ্তাহে ২১ লাখ ডলারের কৃষি মূল্য নষ্ট করে। ২০১৮ সালে জাম্বিয়ার তানজানিয়া সীমান্তের কাছের এমপিকা জেলায় এটি ধরা পড়ে। রোগ ধরা পড়লে প্রতিরোধী জাত ও ছত্রাকনাশকই প্রধান উপায়।
টারি-সেলিয়ানের পরিচালক ড. কারেসমা চুয়া বলেন, মাঠে ছত্রাকটি কত দ্রুত চেনা যায়, তার ওপরই নির্ভর করে কত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এ কাজের ফল ইতিমধ্যে গমের রোগ পর্যবেক্ষণের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ডিওয়াসে যুক্ত হচ্ছে। পরের ধাপে এমন পরীক্ষা তৈরির কাজ চলছে, যাতে তাপ বা হিমায়িত উপকরণ লাগবে না, ফলে গ্রামের ছোট গবেষণাগারেও তা সহজে করা যাবে।
ছবি: Maxdrobot / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: John Innes Centre





মন্তব্য
(০)