জৈব বালাইনাশক তৈরি ও রপ্তানির বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে ব্রাজিলকে গড়ে তুলছে মার্কিন কৃষি কোম্পানি কর্টেভা (Corteva)। কোম্পানির ধারণা, আগামী এক দশকে বিশ্বের বালাইনাশক বাজারের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত জৈব নিয়ন্ত্রণ পণ্যের দখলে যাবে, ব্রাজিলে আরও বেশি। গ্লোবাল এগ্রিকালচার জানিয়েছে, কর্টেভার বালাইনাশক বিভাগের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রুক কানিংহাম (Brook Cunningham) ২ অক্টোবর ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম এগফিডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কৌশল তুলে ধরেন।
কানিংহামের মতে, বালাইনাশকের পরের প্রবৃদ্ধি আসবে শুধু কৃত্রিম রসায়ন থেকে নয়, বরং পোকা ও রোগ দমনে রাসায়নিকের বদলে বা পাশাপাশি ব্যবহৃত জৈব পণ্য থেকে। বীজ ব্যবসা আলাদা কোম্পানি ভাইলর (Vylor) হিসেবে বের করে দেওয়ার পর কর্টেভা এখন বালাইনাশকে মনোযোগ দিচ্ছে। আগামী দশকে ১২টি নতুন প্রযুক্তি আনার পরিকল্পনা আছে: সাতটি কৃত্রিম সক্রিয় উপাদান ও পাঁচটি জৈব পণ্য, যদিও কোনোটির নাম এখনো জানানো হয়নি।
ব্রাজিল বেছে নেওয়ার কারণ সেখানকার কৃষকদের গ্রহণযোগ্যতা। কানিংহাম জানান, ব্রাজিলের প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষক কোনো না কোনো জৈব পণ্য ব্যবহার করেন, যা বেশির ভাগ বড় কৃষি বাজারের চেয়ে বেশি। ব্রাজিলের পরিবেশের জন্য তৈরি পদ্ধতি ও পণ্য মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতেও নেওয়া হচ্ছে।
কর্টেভা কেনাকাটার পথেও এগিয়েছে। ২০২৩ সালে স্টোলার ও স্পেনের সিমবর্গ কিনেছে প্রায় ১৬০ কোটি ডলারে। কানিংহাম বলেন, একটি নতুন কৃত্রিম অণু বাজারে আনতে এখন প্রায় ৩০ কোটি ডলার ও ১৩ বছর লাগে; জৈব পণ্য সাধারণত কম সময়ে ও কম খরচে তৈরি হয়, তাই তা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে কর্টেভার বালাইনাশক বিক্রি আগের বছরের চেয়ে ৩.২ শতাংশ বেড়ে ৩৮৫ কোটি ডলার হয়েছে, আর এ বিভাগের পরিচালন মুনাফা (ইবিআইটিডিএ) ৭৩ কোটি ১০ লাখ থেকে বেড়ে ৮১ কোটি ৫০ লাখ ডলার হয়েছে।
ছবি: Tiago Fioreze / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)