ধান চাষে মিথেন নিঃসরণ ও পানির ব্যবহার কমানো এবং কার্বন ক্রেডিটের মাধ্যমে সেই পরিবর্তনের অর্থায়ন করে, এমন প্ল্যাটফর্ম বড় করতে ফরাসি জলবায়ু প্রযুক্তি স্টার্টআপ কার্বনফার্ম (CarbonFarm) ৭০ লাখ ইউরো (৭৮ লাখ ডলার) বিনিয়োগ পেয়েছে। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের ১৯টি দেশের চাষিদের সঙ্গে চলমান কাজ বাড়ানো এবং লাতিন আমেরিকায় দ্রুত প্রবেশে এ অর্থ খরচ হবে। কোলাম ইমপ্যাক্টের বিনিয়োগ পরিচালক বেনজামিন ফ্রিডেরিখ (Benjamine Friderich) ধান খাতকে বিশ্বে কার্বন কমানোর সবচেয়ে বড় অব্যবহৃত সুযোগগুলোর একটি বলেছেন।
সমস্যার মূলে ধানখেত নিজেই। বিশ্বের অর্ধেক মানুষের প্রধান খাদ্য ধান, কিন্তু এটি বিশ্বের মিঠাপানির ২৮ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার করে এবং বৈশ্বিক মিথেন নিঃসরণের ৯-১২ শতাংশের উৎস, যা গোটা বিমান খাতের সমান বলে জানিয়েছে গ্রিন কুইন। ২০ বছরের হিসাবে মিথেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ৮৬ গুণ বেশি তাপ আটকায়, আর এর বড় অংশ আসে সারা মৌসুম পানিতে ডুবিয়ে রাখা খেত থেকে।
কার্বনফার্মের মূল পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি), যেখানে খেত সারাক্ষণ ডুবিয়ে না রেখে কয়েক দফা ভেজানো ও শুকানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ফলন না কমিয়েই এতে পানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত এবং নিঃসরণ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যায়। প্রতিষ্ঠানটি এসআরআই (ধান নিবিড়করণ পদ্ধতি) ও সরাসরি বীজ বোনা ধান নিয়েও কাজ করে।
কার্বনফার্মের আসল কাজ মাপজোখ। প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা অপর্ণা রাতুড়ি (Aparna Raturi) গ্রিন কুইনকে বলেন, স্যাটেলাইট ছবির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্লেষণ, মাঠ থেকে তথ্য সংগ্রহের সরঞ্জাম আর গ্রিনহাউস গ্যাসের মডেল মিলিয়ে তাঁরা হাজারো ক্ষুদ্র খেতে চাষপদ্ধতি অনুসরণ করেন এবং প্রতিটি খেতের নিঃসরণ হিসাব করেন। তাঁর মতে, পানি ব্যবস্থাপনা ভালো হলে মিথেন ৩০-৪০ শতাংশ কমতে পারে, তবে ফল এলাকাভেদে আলাদা; কিছু দেশে তাঁদের মডেল ৯০ শতাংশের বেশি নির্ভুল। ক্রেডিটগুলো ভেরার ভিএম০০৫১-এর মতো প্রচলিত পদ্ধতিতে সনদ পায় এবং স্বীকৃত তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষকেরা যাচাই করেন।
কার্বনফার্ম নিজে চাষ করে না, স্থানীয় সংগঠনের জায়গাও নেয় না; চাষিদের আস্থা আছে এমন সমবায়, চাল কোম্পানি, এনজিও, সরকার ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি দিয়ে সাজায় এবং প্রকল্পের নকশা ও অর্থায়ন থেকে সনদ ও ক্রেতা খোঁজা পর্যন্ত সহায়তা করে। তাদের বড় বাজার ভিয়েতনাম, ভারত ও থাইল্যান্ড; সহযোগীদের মধ্যে আছে মার্স ফুড, ডিয়াজিও, গুগল, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক।
এ বছর জলবায়ু-সহিষ্ণু ধান চাষে আরও বিনিয়োগ এসেছে: যুক্তরাষ্ট্রের মিট্টি ল্যাবস একই ধরনের এআইভিত্তিক এডব্লিউডি প্ল্যাটফর্মের জন্য ৯৫ লাখ ডলার এবং রাইজ ২০৩০ সালের মধ্যে দেড় লাখের বেশি চাষির ৩ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে এডব্লিউডি ছড়াতে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার তুলেছে।
ছবি: Prathvi Acharya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: Green Queen



মন্তব্য
(০)