আসন্ন এল নিনোর কারণে কম বৃষ্টির আশঙ্কা এবং জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ায় জিম্বাবুয়ে সরকার ২০২৬/২৭ মৌসুমে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮১ টন থেকে ৫ লাখ ৪১ হাজার ৮৮১ টন খাদ্যশস্য ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছে। খবরটি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফার্মার্স উইকলি।
মন্ত্রিসভার বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. ঝেমু সোদা (Zhemu Soda) বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের যুদ্ধে জ্বালানি ও সারের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে উপকরণের দাম বেড়েছে। ২০২৬/২৭ মৌসুমে দেশটি ১৬ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের আশা করছে, যেখানে ২০২৪/২৫ মৌসুমে উৎপাদন ছিল ২২ লাখ ৪৩ হাজার টন এবং ২০২৫/২৬ মৌসুমে ২৭ লাখ ৪০ হাজার টন। কৌশলগত খাদ্য মজুতের লক্ষ্য ৬ লাখ টন। খাদ্য ও পশুখাদ্যের বাণিজ্যিক চাহিদা মেটাতে বেসরকারি খাতকে শস্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে।
মন্ত্রিসভার পরিকল্পনায় ছয়টি স্তম্ভ: খরায় প্রাণিসম্পদ রক্ষা, দ্রুত জলবায়ু-স্মার্ট উৎপাদন, সমন্বিত অর্থায়ন কাঠামো, শক্তিশালী কৌশলগত খাদ্য মজুত, আমদানি ও সমন্বয় জোরদারের সঙ্গে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর হারারেতে জাতীয় কৃষি সম্মেলন ও প্রদর্শনীতে ভূমি, কৃষি, মৎস্য, পানি ও পল্লি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ওবার জিরি (Ober Jiri) স্তম্ভগুলো ব্যাখ্যা করেন। এক মূল্যায়নে দেশজুড়ে অন্তত ২০ লাখ গবাদিপশু ঝুঁকিতে পাওয়া গেছে, তাই প্রাণিসম্পদ স্তম্ভে পানি ও খাদ্য কত দিন চলবে তা হিসাব করা হচ্ছে। জলবায়ু-স্মার্ট স্তম্ভে জোর দেওয়া হয়েছে সংরক্ষণ কৃষি ও মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, সেচ এবং সরগামের মতো খরাসহিষ্ণু ঐতিহ্যবাহী শস্যে। সরকার ৩৫ লাখ কৃষক পরিবারকে উপকরণ সহায়তা দিচ্ছে। প্রতিটি স্তম্ভের কমিটির সভাপতি বেসরকারি খাতের, সহসভাপতি সরকারের।
কৃষি অর্থনীতিবিদ এলিয়ট লুম্বে (Elliot Lumbe) ফার্মার্স উইকলিকে বলেন, ১৬ লাখ টন হবে ২০২৫/২৬ মৌসুমের চেয়ে ৪২% কম। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৩/২৪ সালের এল নিনোতে জিম্বাবুয়ের ভুট্টা উৎপাদন প্রায় ১১ লাখ টনে নেমেছিল। আবহাওয়া আরও খারাপ হলে এই পূর্বাভাসও আশাবাদী প্রমাণিত হতে পারে; আবার বৃষ্টি ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়লে সেচ, খরাসহিষ্ণু জাত ও ফুমভুদজা (Pfumvudza) নিবিড় চাষে ফল ভালো হতে পারে। দেশি শস্যের চেয়ে অনেক সস্তা আমদানি শস্য দাম নামিয়ে কৃষকদের আর্থিক চাপে ফেলবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রতিবেদনটি ফার্মার্স উইকলির জন্য লিখেছেন ক্লেমেন্স মানিউকওয়ে (Clemence Manyukwe)।
ছবি: Nyasha l guzha / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা





মন্তব্য
(০)