দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুতে বৃষ্টি কম হওয়ায় ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের শহর ও জেলাগুলো অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ দিচ্ছে, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। রাজ্য সরকার পৌর করপোরেশন, পৌরসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতকে ১৬ অক্টোবর থেকে অন্তত ১০% পানি সরবরাহ কমাতে বলেছে। সেপ্টেম্বরে রাজ্যের ৩৫৮টি তালুকের ২৬৫টি, প্রায় ৭৪%, খরাকবলিত ঘোষণা করা হয়।
পুনে শহরে ১৫ অক্টোবর থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার পানি সরবরাহ বন্ধ থাকবে, যাতে মজুত পানি ২০২৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত চলে। ১৩ অক্টোবর শহরের প্রধান উৎস খড়কওয়াসলা জলাধার ব্যবস্থায় পানি ছিল ৩৮.৭৮ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট; গত বছর একই সময়ে মজুত ছিল প্রায় ৯৫%।
নাগপুর জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহর ও গ্রামে নতুন নলকূপ খনন এবং পুরোনো নলকূপ গভীর করা নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞা কৃষক, গৃহস্থ, নির্মাতা ও শিল্প সবার জন্য; সরকারি সংস্থা এর বাইরে, আর চালু নলকূপ ব্যবহার করা যাবে।
খরাকবলিত মারাঠওয়াড়া অঞ্চলের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে অনিবার্য না হলে সেচের জন্য পানি ছাড়া বন্ধ রাখা হয়েছে, বড় জলাধারে অন্তত ১০% সক্রিয় মজুত খাবার পানির জন্য রাখতে হবে, আর শিল্পকে ব্যবহৃত পানির ৩০% পুনর্ব্যবহার করতে হবে। কৃষি বিভাগকে বলা হয়েছে আসন্ন রবি মৌসুমে কৃষকদের কম পানির ফসল চাষের পরামর্শ দিতে। প্রশাসন প্রতি ১৫ দিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনে ব্যক্তিগত কূপ জনসাধারণের জন্য অধিগ্রহণ করবে।
১৩ অক্টোবর অঞ্চলের বড় সেচ প্রকল্পগুলোতে মজুত ছিল ধারণক্ষমতার ৫৮.৩৪%, এক বছর আগে যা ছিল ৯৭.৩০%; রাজ্যের বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন। মাঝারি প্রকল্পে মজুত ২১.১২% (গত বছর ৭৬.২৩%), ছোট প্রকল্পে ১৫.৪২% (গত বছর ৬৬.৭০%)। বীড জেলার আটটি বাঁধের পাঁচটিতে পানি নেই, ধারাশিবে নয়টি সেচ প্রকল্পের সাতটি শুকনো, নান্দেড়ে নয়টির ছয়টিতে পানি নেই বা ১০ শতাংশের কম।
প্রতিবেদনটি ডাউন টু আর্থের জন্য লিখেছেন হিমাংশু নিতনাওয়ারে (Himanshu Nitnaware)।
ছবি: Arnova / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)