জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সরকার একটি কার্বন ক্রেডিট কাঠামো তৈরির কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, দূষণকারী ইটভাটা বন্ধ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগের কথাও বলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন বলে বাংলানিউজের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট জানিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, জলবায়ু অগ্রাধিকার এবং কপ-৩১ সম্মেলন সামনে রেখে ইইউর আউটরিচ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সভাটি হয়। সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম; ছিলেন ইইউর গ্রিন ইকোনমি বিভাগের প্রধান টোবিয়াস বিয়ারমান এবং জার্মানি, ডেনমার্ক ও ফ্রান্সের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও কার্বন অপসারণের কাজে বিনিয়োগ টানতে এই কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রকল্প অনুমোদন, নির্গমন হ্রাসের পরিমাপ, প্রতিবেদন তৈরি, স্বাধীন যাচাই এবং একই নির্গমন হ্রাস দুবার গোনা ঠেকানোর সুস্পষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে।
কৃষকের জন্য প্রাসঙ্গিক অংশটি সেচ নিয়ে। শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বসানোর পাশাপাশি উপযুক্ত এলাকায় সৌরচালিত সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে; এতে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। সৌরবিদ্যুতের প্রসারে মানসম্মত প্রযুক্তি, অর্থায়ন, দক্ষ জনবল ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে তিনি অবৈধ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধ এবং পরিবেশ আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপর জোর দেন। ইটের বদলে পরিবেশবান্ধব ব্লক ও বিকল্প নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি; নির্মাণকাজের ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও সমন্বিত উদ্যোগ লাগবে।
২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু চারা রোপণ নয়, পরিচর্যা ও সুরক্ষা এবং গাছের বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করাই আসল কাজ। উপযুক্ত স্থানে উপযুক্ত প্রজাতি, বিশেষ করে দেশীয় প্রজাতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বনভূমি, উপকূল, সড়কের পাশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক পরিসরে গাছ লাগাতে হবে; এতে স্থানীয় মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ ও বেসরকারি খাতকে যুক্ত করতে চান তিনি।
বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও লবণাক্ততার ঝুঁকি বেড়ে কৃষি, পানিসম্পদ ও জীবিকায় চাপ পড়ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কবার্তা, উপকূল সুরক্ষা, বনায়ন ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। কপ-৩১ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে বাস্তবায়নযোগ্য কাজে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ছবি: বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)