অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে এ সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, দাবানল ছড়িয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য নিয়ে এ চিত্র তুলে ধরেছে নয়া দিগন্ত। প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে এল নিনো তৈরি হয় এবং বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরন বদলে দেয়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এএফপিকে বলেছেন, এল নিনোর বৈশ্বিক প্রভাব, বিশেষ করে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে তিনি 'গভীরভাবে উদ্বিগ্ন', এবং যেসব দেশ এ ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাবে তাদের সহায়তায় আইএমএফ 'প্রস্তুতি নিচ্ছে'। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) রোববার সতর্ক করেছে, ঋণের খরচ, জ্বালানির দাম আর শক্তিশালী এল নিনো মিলে এক 'নিখুঁত ঝড়' তৈরি হয়েছে, যাতে কোটি কোটি মানুষ আবার দারিদ্র্যে পড়তে পারে। মাদাগাস্কারের দক্ষিণে ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা এরই মধ্যে দুর্ভিক্ষের প্রভাব সামলাচ্ছেন।
ইন্দোনেশিয়ায় এল নিনোর সঙ্গে তীব্র খরার সম্পর্ক রয়েছে। বোর্নিও দ্বীপ ও দক্ষিণ সুমাত্রার বিস্তীর্ণ বন ও বাগান কয়েক মাস ধরে পুড়ছে; ধোঁয়ায় মালয়েশিয়া কয়েকটি এলাকায় স্কুল বন্ধ করেছে, সিঙ্গাপুর ধোঁয়াজনিত অসুস্থতার চিকিৎসায় ভর্তুকি ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর বন উজাড় ও পিটভূমির পানি নিষ্কাশন শুষ্ক মৌসুমে আগুনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। আগস্ট থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত আগুন থেকে ৪৬টি ওরাংওটাং উদ্ধার করা হয়েছে।
ব্রাজিলের আমাজোনাস রাজ্যে গত সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের প্রায় চার গুণ আগুনের হটস্পট শনাক্ত হয়েছে, এক বুধবারেই জ্বলছিল ৭৪৯টির বেশি জায়গায়; ধোঁয়ায় মানাউস শহরের সরকারি স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে। মিয়ানমারে মৌসুমের বাইরের তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ গ্রিডে চাপ বেড়েছে, আবহাওয়া কর্মকর্তারা অস্বাভাবিক বৃষ্টি, খরা ও খাবার পানির সংকটের সতর্কতা দিয়েছেন। ফিলিপাইন জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। থাইল্যান্ডে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বন্যায় ৭১ জন মারা গেছেন।
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছানো পর্যন্ত এল নিনো আরও শক্তিশালী হবে; এতে বিশ্বের বড় অংশে গড়ের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ও বৃষ্টির ধরনে বদল আসবে, বাড়বে খরা ও বন্যার ঝুঁকি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিষেবা বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনো পর্যবেক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গত মাসে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৯.৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার মতে, এবারের এল নিনোর তীব্রতা রেকর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এবারের এল নিনোকে অনেকে 'সুপার এল নিনো' বলছেন, তবে বহু বিজ্ঞানী একে 'অতি শক্তিশালী' এল নিনো বলেন। তীব্রতা মাপার মানদণ্ড সবাই এক না হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনে সমুদ্র আগে থেকেই উষ্ণ থাকায় তুলনা জটিল হয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে এ মৌসুমে আটলান্টিকে ঘূর্ণিঝড় অস্বাভাবিক কম, এখন পর্যন্ত একটি, কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম বেশ সক্রিয়।
ছবি: NASA, Joshua Stevens / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: নয়া দিগন্ত





মন্তব্য
(০)