বাড়তি গরম, দীর্ঘ খরা আর আগ্রাসী কাঠল গাছের জমে ওঠা জ্বালানিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন নেলসন ম্যান্ডেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা বিভাগের প্রধান ক্রিস্টিয়ান (টিয়ান) পুল (Christiaan Pool), জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। তাঁর কথায়, কম আর্দ্রতা আর জোরালো বাতাস শুকনো প্রকৃতির সঙ্গে মিললে আগুন দ্রুত ছড়ায়, তীব্রভাবে জ্বলে এবং নেভানোর চেষ্টাকে ছাপিয়ে যায়।
পুল জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির এক মূল্যায়নের কথা তুলে ধরেন, যাতে বলা হয়েছে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে চরম দাবানল ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তিনি বলেন, অনেক অঞ্চলে গরম, শুষ্কতা ও বাতাসের বিপজ্জনক মিশ্রণ বেশি দেখা যাচ্ছে, তাতে প্রতিরোধ ও প্রস্তুতির ওপর চাপ বাড়ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অক্টোবরের হালনাগাদে এল নিনো শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত আছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অংশে আরও গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া আনতে পারে; বৃষ্টি গড়ের নিচে থাকলে কঠিন দাবানল মৌসুমের ঝুঁকি বাড়বে।
বিশেষ উদ্বেগ আগ্রাসী গাছ নিয়ে। অ্যাকাশিয়া, পাইন, ইউক্যালিপটাস ও হাকিয়ার মতো গাছ প্রচুর দাহ্য জৈববস্তু জমায়। ২০১৭ সালের নাইসনা দাবানল নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, আগ্রাসী বিদেশি গাছপালা আগুনকে আরও তীব্র করেছিল। খরা গাছপালা শুকিয়ে দেয়, আবার আগুন নেভানোর পানিও কমিয়ে দেয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্রানশুক এলাকার কাছে এক দাবানলে ১৭ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়েছে।
সামনের সারিতে আছে খামার। বনায়নের বাগান, শুকনো ফসলের খেত আর দাহ্য গাছপালার পাশের বসতি, প্রতিটির ঝুঁকি আলাদা, আর তা সামলাতে জমির সীমানা পেরিয়ে সমন্বয় দরকার। পুলের মতে, চারণভূমি, ফসল, কাঠ ও অবকাঠামোর ক্ষতি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে আঘাত হানতে পারে। বেশির ভাগ অনাকাঙ্ক্ষিত আগুন লাগে মানুষের কারণে, যেমন ইচ্ছাকৃত আগুন, নিয়ন্ত্রিত পোড়ানো থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন কিংবা অযত্নে ফেলে রাখা রান্না বা আগুন পোহানোর চুলা; বর্ষার শুরুতে বজ্রপাতেও আগুন লাগে।
সব আগুন অবশ্য ক্ষতিকর নয়: তৃণভূমি, ফিনবস ও সাভানার টিকে থাকতে মাঝে মাঝে পোড়ানো দরকার। পুল বলেন, কাজটা হলো উপযুক্ত আগুন হতে দেওয়া আর অনিয়ন্ত্রিত আগুন ঠেকানো; শুধু আগুনের সংখ্যা দিয়ে বিপদ বোঝা যায় না, দেখতে হবে সেগুলো কত বড় ও কত তীব্র হয়।
পূর্বাভাস আর স্যাটেলাইট নজরদারি বিপজ্জনক দিন চিনিয়ে দিতে পারে, কিন্তু কাজে না লাগালে তার মূল্য নেই। পুলের ভাষায়, মৌসুমি সতর্কবার্তা তখনই কাজের হয়, যখন কেউ তার অর্থ বুঝে ব্যবস্থা নেয়। তিনি জমির ব্যবস্থাপকদের পরিস্থিতি বিপজ্জনক হওয়ার আগেই প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।
ছবি: Abu Shawka / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)