পুনরুৎপাদনশীল কৃষির বাছাই করা কিছু পদ্ধতি সত্যিই বন্যপ্রাণীর উপকার করে কি না, তা পাখি দিয়ে মাপতে সাড়ে তিন বছরের একটি প্রকল্প শুরু করছে নেসলে (Nestlé) ও বার্ডলাইফ ইউরোপ (BirdLife Europe), জানিয়েছে ফুডনেভিগেটর। ইউরোপের কৃষিজমি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে পদ্ধতিগুলোর প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে, খোঁজা হবে সেগুলো আরও কার্যকর করার উপায়।
প্রেক্ষাপটে আছে বড় এক ক্ষতি। প্যান-ইউরোপিয়ান কমন বার্ড মনিটরিং স্কিমের হিসাবে ১৯৮০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইউরোপের কৃষিজমির পাখি ৫৮ শতাংশ কমেছে, যার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে নিবিড় চাষাবাদকে। পাখি বেছে নেওয়ার কারণ, তাদের সংখ্যার ওঠানামা সাধারণত আবাসস্থলের মান ও পোকামাকড়ের প্রাচুর্যের বড় পরিবর্তনের সঙ্গে মিলে যায়।
বার্ডলাইফ ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার পরিচালক এরিয়েল ব্রুনার (Ariel Brunner) বলেন, বর্তমানের নিবিড় চাষাবাদ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে, মাটি নিঃশেষ করছে আর জলবায়ু পরিবর্তনের সামনে কৃষককে দ্রুত আরও অরক্ষিত করে তুলছে। তাঁর মতে, নেসলে এই রূপান্তরে সহায়তা করতে পারে, তবে কোন পদ্ধতির পাশে দাঁড়াবে তা জানতে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দরকার।
নেসলে জোন ইউরোপের সাসটেইনেবিলিটি ও করপোরেট কমিউনিকেশনস প্রধান আনিতা ভেল্ৎস (Anita Wälz) বলেন, প্রকৃতি ও নিজের ব্যবসা দুটোকেই সহায়তা করে এমনভাবে চাষ করতে কৃষকদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আর দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার দিতে চায় নেসলে। তাঁর ভাষায়, এটি সৎভাবে শেখার চেষ্টা যে কী কাজ করে। অংশগ্রহণকারী খামার এলাকায় নির্দিষ্ট পাখির সংখ্যা মেপে খামারের জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন দেখা হবে।
এ পর্যন্ত পুনরুৎপাদনশীল কৃষির সাফল্য মাপা হয়েছে মূলত মাটির স্বাস্থ্য, কার্বন আর খামারের সহনশীলতা দিয়ে। বন্যপ্রাণীর ফলাফল যোগ হলে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের হাতে আরও বিস্তৃত মাপকাঠি থাকবে; নেসলে এই কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের দীর্ঘমেয়াদি জোগানের সঙ্গেও যুক্ত করছে।
কৃষকের জন্য এই গবেষণা দেখাতে পারে কোন পুনরুৎপাদনশীল পদ্ধতি প্রকৃতির সবচেয়ে বেশি উপকার করে অথচ লাভজনকও থাকে; খাদ্য কোম্পানিগুলো কোথা থেকে কাঁচামাল কিনবে, সেই সিদ্ধান্তে এমন প্রমাণই কাজে লাগাবে।
ছবি: Diliff / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: FoodNavigator





মন্তব্য
(০)