ঢাকার মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের অতিথি ভবনের পাশে একটি ক্যাকটাস উচ্চতায় পাশের দোতলা ভবনের ছাদ ছাড়িয়ে গেছে। উদ্যান কর্তৃপক্ষের হিসাবে এর উচ্চতা এখন ২৫ ফুট; গাছটিকে সোজা রাখতে গায়ে ছয়টি লোহার বেড়ি দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি সিরিয়াস ক্যাকটাস, বৈজ্ঞানিক নাম Cereus hexagonus। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ তথ্যভান্ডার জিআরআইএন-গ্লোবালের তথ্যে, প্রজাতিটির আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চল ও ক্যারিবীয় অঞ্চল; ব্রাজিলের পারা ও রোরাইমা রাজ্যেও এটি প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। ইংরেজিতে একে ব্লু সিরিয়াস বা টল কলামনার ক্যাকটাসও বলা হয়।
উদ্যানের কর্মী ও মালিরা জানান, সাত-আট বছর আগে মোহাম্মদপুরের এক ব্যক্তির বাসা থেকে ক্যাকটাসটি আনা হয়। তাঁর মা গাছটির যত্ন নিতেন; মায়ের মৃত্যুর পর তিনি বিদেশে চলে যাবেন বলে মায়ের স্মৃতির গাছটি উদ্যানে দিয়ে যান। ৩৫ বছর ধরে উদ্যানে কাজ করা মালি আবদুল আলিম প্রথম আলোকে সে কথা বলেছেন। দাতার নাম-পরিচয় উদ্যানে সংরক্ষিত নেই।
উদ্যানে ক্যাকটাসের জন্য ‘ক্যাকটাস হাউস’ নামে আলাদা একটি বাগান আছে, যেখানে ৭২ প্রজাতির ক্যাকটাস রয়েছে: মেলোক্যাকটাস, ম্যামেলারিয়া, নটো ক্যাকটাস, জিমনোক্যালিসিয়াম, ফেরোক্যাকটাস, গোল্ডেন ব্যারেল, ওল্ড ম্যান, ডিসকো ক্যাকটাস, ক্লিস্টোক্যাকটাসসহ আরও অনেক। সবচেয়ে পুরোনোটি একটি গোল্ডেন ব্যারেল, বয়স প্রায় ৩০ বছর।
কর্মকর্তারা জানান, বাগানটি ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত; অধিকাংশ ক্যাকটাস আনা হয়েছে নেপাল, ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে। ক্যাকটাস পরিবারের সব গাছ এক রকম নয়: কোনোটি ছোট ও গোল, কোনোটি চ্যাপটা, কোনোটি স্তম্ভের মতো ওপরে ওঠে। অনেকের কাণ্ড পানি জমিয়ে রাখে, যা শুষ্ক পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
কয়েক বছর ধরে দেশে ক্যাকটাসের কদর বেড়েছে। বাসার ছাদ, জানালা ও বারান্দায় শখ করে অনেকে লাগান, কেউ কেউ বিক্রি করে আয়ও করছেন। উদ্যানের ক্যাকটাস হাউসে প্রতিদিন দর্শনার্থী আসেন; গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাঠ সফরে আসেন। প্রতিবেদনটি করেছেন প্রথম আলোর আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ছবি: অ্যাডিলেড বোটানিক গার্ডেনে সিরিয়াস হেক্সাগোনাস, Peripitus / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)