ঘূর্ণিঝড় অর্ণব বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে নরসাপুরের কাছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানামের উপকূল অতিক্রম করেছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, স্থলভাগে ঢোকার সময় বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, দমকা হাওয়া উঠেছিল ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। কলকাতার এই সময় পত্রিকা উপকূলের ক্ষয়ক্ষতির ছবি নিয়ে একটি ফটো গ্যালারি প্রকাশ করেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কোনাসীমা, কাকিনাড়া ও পশ্চিম গোদাবরী জেলায়। কোনাসীমার জেলাশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ছয় হাজার বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। কাকিনাড়ায় প্রবল ঢেউয়ে উপ্পাডা বিচ রোড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; বিভিন্ন জায়গায় গাছ ও হোর্ডিং ভেঙে পড়েছে, নিচু এলাকায় পানি ঢুকেছে, কয়েকটি মোবাইল টাওয়ার বিকল হওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
কৃষকদের দুশ্চিন্তাই সবচেয়ে বেশি। গোদাবরী অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে ধান পাকার মুখে ছিল; প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় অনেক জমিতে ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, কোথাও জমিতে পানি জমেছে। কলা, নারকেলসহ উদ্যান ফসলেরও ক্ষতির আশঙ্কা আছে। কতটা ফসল বাঁচানো যাবে আর কত ক্ষতিপূরণ মিলবে, সে প্রশ্নই এখন কৃষকের সামনে।
জেলেরাও বিপাকে। উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া বিপজ্জনক, উপকূলের কয়েক জায়গায় নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জামের ক্ষতির খবর এসেছে। সাগরে যেতে না পারলে বহু পরিবারের দৈনিক রোজগার বন্ধ হয়ে যায়।
ঝড়টি স্থানীয়দের মনে ফিরিয়ে এনেছে ১৯৯৬ সালের ৬ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাবে সেবার বাতাসের গতি ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটারে পৌঁছেছিল, কাকিনাড়ার দক্ষিণে আঘাত হানা ঝড়ে ১,০৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এবার ঝড়ের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়, ত্রাণশিবির ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
এই ঝড়ের প্রভাবেই বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখানো হয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরার নৌকাকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গ্যালারিটি এই সময়-এর জন্য তৈরি করেছেন রহিত পরামানিক।
ছবি: পশ্চিম গোদাবরী জেলার ধানখেত, Arindamd99 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)