গুহা মানেই অন্ধকার আর ভেজা পাথর, এই ধারণা ভাঙে ভারতের ছত্তিশগড়ের একটি গুহা, যার দেওয়াল গাঢ় সবুজ। বস্তারের কাঙ্গের উপত্যকা জাতীয় উদ্যানের এই ‘গ্রিন কেভ’ বা সবুজ গুহা নিয়ে ছবিসহ প্রতিবেদন করেছে কলকাতার এই সময়।
গুহাটি উদ্যানের পরিচিত কোটুমসর গুহা এলাকার ৮৫ নম্বর কম্পার্টমেন্টে, জগদলপুর শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। দেওয়ালের সবুজ কোনো রং নয়, অতিক্ষুদ্র অণুজীবের স্তর। দিনে মোটামুটি এক ঘণ্টা সূর্যের আলো ভেতরে পৌঁছায়, আর সেই বিশেষ পরিবেশে চুনাপাথরের গায়ে এরা বেড়ে ওঠে, ধূসর পাথর ঢেকে যায় সবুজ মখমলে।
ভেতরে ঢুকলে বড় পাথর আর দুই পাশের সবুজ দেওয়াল, তারপর একটি বড় কক্ষ। ছাদ থেকে ঝুলছে চুনাপাথরের স্ট্যালাকটাইট, পানি গড়িয়ে তৈরি হয়েছে ‘ফ্লোস্টোন’। ২০২৪ সালের তথ্যে গুহাটি প্রায় ৯৪ মিটার লম্বা আর ১৭ মিটার গভীর; গবেষণায় এখানে এমন এক জীবের খোঁজ মিলেছে, যা উদ্যানের অন্য কোনো গুহায় আগে দেখা যায়নি।
গবেষকেরা বলছেন, গুহাটির কথা নথিতে আগেই ছিল, তবে সাধারণ মানুষের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে আসে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে; তাই একে নতুন আবিষ্কার না বলে নতুন করে আলোয় আসা বলাই ঠিক। ২০২৬ সালের শুরুতে রাজ্যের বনমন্ত্রী কেদার কশ্যপ গুহাটিকে পর্যটকদের জন্য সাজানোর ঘোষণা দেন।
কিন্তু তাতে আপত্তি তুলেছেন পরিবেশকর্মীরা। মার্চের খবর অনুযায়ী আদালতে আবেদন জমা পড়েছে; বর্ষায় গুহায় পানি ঢোকে এবং এটি বুনো ভালুকের নিরাপদ আশ্রয়, তাই পরিবেশের ক্ষতি করে পর্যটন চালুর বিরোধিতা উঠেছে। প্রতিবেদনের শেষ প্রশ্ন, সৌন্দর্য উপভোগের চেয়ে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাই এখন বড় বিষয়।
ছবি ও প্রতিবেদন: এই সময়-এর রহিত পরামানিক। সময় বাংলাদেশ সময়ে দেওয়া হয়েছে।
ছবি: কাঙ্গের উপত্যকার কোটুমসর গুহা, Theasg sap / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)