বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ৫৭তম বছরে পা রেখেছে। ১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর 'পূর্ব পাকিস্তান ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট' নামে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৩ সালের আইনে নতুন নাম পায়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমার দেশে প্রকাশিত উপসম্পাদকীয়তে কৃষিবিদ ও কৃষি সাংবাদিক ড. এম আব্দুল মোমিন ব্রির সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছেন।
লেখকের দেওয়া ব্রি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৯৭১-৭২ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন ছিল ৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন টন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা প্রায় ৪০ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন টন। একই সময়ে জনসংখ্যা প্রায় তিন গুণ হয়েছে, আবাদি জমি কমেছে। ব্রির জাত চাষে কৃষকের ফলন ৪০ শতাংশ ও আয় ৮৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ব্রি এ পর্যন্ত ১২৭টি জাত উদ্ভাবন করেছে, ১১৭টি ইনব্রিড ও ১০টি হাইব্রিড; ২৩টি জাত ১৪টি দেশে চাষ হচ্ছে।
সাম্প্রতিক জাতের মধ্যে ব্রি ধান১১৪ ব্লাস্ট প্রতিরোধী, ব্রি ধান১১৫ ভিটামিন-ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ, ব্রি ধান১১৬ গড়ে হেক্টরে ৮ দশমিক ৬ টন ফলন দেয়। লবণসহিষ্ণু ব্রি ধান১১৭ উপকূলে হেক্টরে ৮ দশমিক ৬ টন ফলন দিতে পারে এবং পুরো জীবনচক্রে ১০ ডিএস/মি. লবণাক্ততা সহ্য করে। হাওরের জন্য ঠান্ডাসহিষ্ণু ও আগাম ব্রি ধান১১৮; এ বছর আগাম বন্যায় প্রায় ১৪-১৫ লাখ টন বোরো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর গুরুত্ব বেড়েছে বলে লেখকের মত।
প্রযুক্তির দিকেও ব্রি এগিয়েছে। প্রজনন চক্র সাড়ে তিন থেকে চার বছর কমানো হয়েছে, প্রায় চার হাজার জেনোটাইপের পূর্ণ জিনোম ফিঙ্গারপ্রিন্টিং হয়েছে। দানাদার ইউরিয়া প্রয়োগযন্ত্রে ৩০-৩৫ শতাংশ সার সাশ্রয় ও ৫-১২ শতাংশ বেশি ফলন হয়, গ্রিনহাউস গ্যাস ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে। মাঠে পোকামাকড় ও রোগ পর্যবেক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি চালু হয়েছে, সেচে সেন্সর ও স্বয়ংক্রিয় এডব্লিউডি ব্যবস্থা ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্রি ৫৪টি কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করেছে, যার মধ্যে দেশীয় কারখানায় তৈরি প্রায় ৮০ হাজার টাকার পাওয়ার সিড সোয়ার।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্রি ১৩০টি জাতের নিউক্লিয়াস বীজ সংরক্ষণ ও ২৩২ টন ব্রিডার বীজ উৎপাদন করেছে, ১ হাজার ১২৫টি সিডনেট অংশীদারকে বছরে প্রায় ২০০ টন বীজ দিচ্ছে। গত পাঁচ বছরে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৫১ হাজার ৪২০ জন, যার ৪২ হাজার ২০৪ জন কৃষক। পাঁচটি গবেষণার হিসাবে ধান গবেষণায় প্রতি টাকা বিনিয়োগে ফেরত এসেছে ২৬ থেকে ৫৪ টাকা।
সামনে স্পিড ব্রিডিং, জিনোমিক প্রেডিকশন, সি৪ রাইস ও জিনোম এডিটিংয়ে লবণাক্ততা-সহিষ্ণুতা ও ব্লাস্ট প্রতিরোধের গবেষণা অগ্রাধিকারে। তবে লেখক সীমাবদ্ধতার কথাও বলেছেন: অনুমোদিত ৩১৮টি বিজ্ঞানী পদের বিপরীতে কর্মরত ২৭১ জন, পদোন্নতির জটিলতা ও গবেষণা বরাদ্দের ঘাটতি। তাঁর মতে, এমন প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও জনবলে বিনিয়োগ বাড়ানোই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। মতামত লেখকের নিজের।
ছবি: Ru.nirjhor19 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)