ফসলখাগড়াছড়িতে প্রথম চাষেই ব্রি ধান-১০৩ এর ফলন হেক্টরে ৬.৫৭ টন
পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষক পর্যায়ের প্রথম প্রদর্শনীতে ব্রির উচ্চফলনশীল জাতটি আশানুরূপ ফলন দিয়েছে; গাছ লম্বা হলেও নুয়ে পড়ে না, রোগবালাইও কম।
ফসলপাহাড়ি অঞ্চলে কৃষক পর্যায়ের প্রথম প্রদর্শনীতে ব্রির উচ্চফলনশীল জাতটি আশানুরূপ ফলন দিয়েছে; গাছ লম্বা হলেও নুয়ে পড়ে না, রোগবালাইও কম।
মতামতদেশের প্রথম উচ্চ ফলনশীল কালো চালের জাত ব্রি ধান১১৫ হেক্টরে গড়ে ৭.৪ টন ফলন দেয়; ভালো বীজ, প্রশিক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ আর বাজার সংযোগ থাকলে এ চাল কৃষকের লাভ ও মানুষের পুষ্টিতে কাজে আসবে বলে মনে করেন ব্রির কর্মকর্তা ড. এম আব্দুল মোমিন।
মতামতকৃষিবিদ ও কৃষি সাংবাদিক ড. এম আব্দুল মোমিনের উপসম্পাদকীয়: ব্রির উদ্ভাবিত ১২৭টি ধানের জাত, লবণসহিষ্ণু ব্রি ধান১১৭, এআইভিত্তিক পোকা-রোগ নজরদারি ও ৫৪টি কৃষিযন্ত্রে চালের উৎপাদন চার গুণ ছাড়িয়েছে।
ফসলখুলনার বয়ারভাঙ্গা প্রযুক্তি গ্রামে ব্রি ধান১০৩ থেকে ১১২-এর মতো জাতে ৩৩ শতাংশে ফলন ৭-৯ মণ থেকে বেড়ে ১৮-২৪ মণ; যন্ত্রে রোপণে খরচ ৪,৫০০-৫,০০০ টাকা থেকে নেমে প্রায় ১,৫০০ টাকা।
গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) অগ্রগতি, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সেলিম খান ধানবিজ্ঞানীদের যথাযথ মূল্যায়নের কথা বলেছেন।
ফসল২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সমীরণ বিশ্বাস সতর্ক করেন, উচ্চ তাপমাত্রা বোরো ধানের ফুল ফোটা ও দানা ভরাট ব্যাহত করছে। ব্রি ও ডিএইর আগের পরামর্শ হলো, দানা শক্ত না হওয়া পর্যন্ত খেতে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পানি রাখা।
ফসল২০২৫ সালের ১৮ জুন জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) তিনটি নতুন ধানের জাত অনুমোদন পায়: লবণাক্ততা সহনশীল আমন ব্রি ধান১১২, উচ্চ ফলনশীল বোরো ব্রি ধান১১৩ এবং ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী বোরো ব্রি ধান১১৪।
এগ্রোটেকটানা বৃষ্টি বা বন্যায় আমনের বীজতলা নষ্ট হলে ড্রাম সিডারে কাদা জমিতে অঙ্কুরিত বীজ সারিতে বোনা যায়; ব্রির পরীক্ষায় রোপণের চেয়ে ফলন বেশি হয়েছে, ধান পেকেছে ১০ থেকে ২০ দিন আগে।
এগ্রোটেকবোরো মৌসুমে ড্রাম সিডারে কাদা জমিতে অঙ্কুরিত বীজ সরাসরি সারিতে বোনা যায়; ব্রির বিজ্ঞানীর হিসাবে হেক্টরে বীজ লাগে প্রায় ২৫ কেজি, আর দুজনেই এক হেক্টর বুনতে পারেন।
বাংলাদেশবাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ২০২১ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্ণ করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, উচ্চফলনশীল ও ঘাতসহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে গত পাঁচ দশকে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তায় ব্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।