খাগড়াছড়িতে কৃষক পর্যায়ে প্রথমবার চাষ করা ব্রি ধান-১০৩ এর ফলন মিলেছে প্রতি হেক্টরে ৬ দশমিক ৫৭ মেট্রিক টন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার পাইলটপাড়া প্রযুক্তি গ্রামে ফসল কর্তন ও মাঠ দিবসে ফলন মেপে এই হিসাব পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় কৃষক অমর মোহন চাকমার এক একর জমিতে চলতি আমন মৌসুমে জাতটি চাষ হয়। অর্থায়ন করেছে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্প।
ব্রি খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মীর ওবায়দুর রহমান শাওন বলেন, জাতটির ধান সরু এবং গাছ তুলনামূলক লম্বা হলেও সহজে নুয়ে পড়ে না। উপযুক্ত পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশে এই ফলন পাওয়া সম্ভব, আর আমন মৌসুমের জন্য তা আশাব্যঞ্জক। পাহাড়ি কৃষকদের মধ্যে জাতটি জনপ্রিয় করতে মাঠপর্যায়ের প্রদর্শনী ও ফলন মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় খাগড়াছড়িতে আমনের ফলন ভালো হয়েছে। প্রদর্শনী প্লটে জাতটিতে রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম দেখা গেছে। গাছ লম্বা হওয়ায় কৃষক ধানের পাশাপাশি খড় থেকেও বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে জানান তিনি।
এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ব্রির কার্যালয়টি প্রযুক্তি গ্রামের ৫০ জন কৃষকের প্রায় ৫০ একর জমিতে উচ্চফলনশীল জাত ও প্রযুক্তির প্রায়োগিক পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করছে। কৃষকদের বিনামূল্যে ধানের বীজ, সার, কীটনাশক, বালাইনাশক ও বীজ সংরক্ষণের ড্রাম দেওয়া হয়েছে।
এটি এক একর জমির প্রথম প্রদর্শনীর ফল। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতটির ফলন ও স্থানীয় পরিবেশে উপযোগিতা আরও যাচাই করে বড় পরিসরে চাষ করা গেলে পাহাড়ি অঞ্চলে আমনের উৎপাদন বাড়তে পারে। প্রতিবেদনটির প্রাথমিক সূত্র ঢাকা পোস্ট।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪


মন্তব্য
(০)