শাপলা বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত ফুলগুলোর একটি; দেশের প্রায় সব এলাকার জলাশয়েই কমবেশি দেখা যায়। নিম্ফিয়েসি গোত্রের এই জলজ উদ্ভিদের প্রায় অর্ধশত প্রজাতি পৃথিবীতে আছে। এর মধ্যে সাদা শাপলা, বৈজ্ঞানিক নাম নিম্ফিয়া নৌচালি, বাংলাদেশের জাতীয় ফুল।
জাতীয় প্রতীক, টাকা-পয়সা আর দলিলের স্ট্যাম্পে শাপলা বা তার জলছাপ ব্যবহার হয়। দেশে সাদা শাপলাই বেশি, তবে গোলাপি, নীল ও বেগুনি শাপলাও চোখে পড়ে। বর্ষা ও শরৎ শাপলা জন্মানোর সবচেয়ে ভালো সময়। ফুল ফোটে ভোরে, দিনের আলো বাড়লে পাপড়ি বুজে আসে। গোল সবুজ পাতার নিচের দিকটা কালচে।
শাপলা শুধু সৌন্দর্যের নয়, খাবারেরও উৎস। এর ডাঁটা বা পুষ্পদণ্ড সবজি হিসেবে রান্না হয়। পূর্ণ ফোটা ফুলের গর্ভাশয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বীজ থাকে, যাকে বলে ভেট; সেই আঠালো বীজ রোদে শুকিয়ে ভেজে বানানো হয় ঢ্যাপের খৈ। গোড়ার আলুর মতো কন্দ শালুক সেদ্ধ করে খান অনেকে।
শ্রীলঙ্কারও জাতীয় ফুল শাপলা, তবে সেটি নীল শাপলা, যা সেখানে নীল মাহানেল নামে পরিচিত। সংস্কৃত, পালি ও শ্রীলঙ্কান প্রাচীন সাহিত্যে এই ফুলের বিবরণ আছে, আর দেশটিতে এটি শ্রেষ্ঠতা, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতীক।
প্রাচীন ইতিহাসেও শাপলার উল্লেখ মেলে। প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের শিষ্য থিওফ্রাস্টাসের লেখায় শাপলার কথা আছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রাচীন মিসরে সৌন্দর্যবর্ধন, খাদ্য ও ভেষজ কাজে হাজার বছর ধরে শাপলা ব্যবহারের রীতি ছিল।
বাংলাদেশে শাপলা গ্রামবাংলার প্রতীক। এখন শৌখিন বাগানিরা বাগানের জলাধার বা অ্যাকোয়ারিয়ামে শাপলা লাগাচ্ছেন, ফলে শহরেও এর চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
লেখাটি রবিউল হুসাইনের।
ছবি: Steve Evans / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)