লবণাক্ততা আর জলাবদ্ধতার উপকূলে খুলনার বটিয়াঘাটার বয়ারভাঙ্গা প্রযুক্তি গ্রামে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) নতুন জাত আর যন্ত্র ব্যবহারে ধানের ফলন দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে দৈনিক বাংলা। কৃষকদের ভাষ্য, রানিসেলুট, বেনাপোল ও মরিচশাইলের মতো পুরোনো স্থানীয় জাতে ৩৩ শতাংশ জমিতে যেখানে ৭ থেকে ৯ মণ ধান হতো, ব্রি ধান১০৩, ১০৯, ১১০, ১১১ ও ১১২-এর মতো আধুনিক জাত ও উন্নত প্রযুক্তিতে সেখানে মিলছে ১৮ থেকে ২৪ মণ।
যন্ত্রে খরচও কমেছে। স্থানীয় কৃষক গুরুচাঁদ বৈরাগী বলেন, আগে ৩৩ শতাংশ জমিতে হাতে চারা রোপণে খরচ হতো ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা; এবার রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে একই জমিতে লেগেছে প্রায় ১,৫০০ টাকা, সময় আর শ্রমও বেঁচেছে।
প্রযুক্তি গ্রামটি পরিদর্শন করেছেন ব্রির ‘নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি)’ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। চলতি রোপা আমন মৌসুমে সেখানে চলছে স্থানীয় জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও মূল্যায়ন, লবণসহিষ্ণু নতুন জাতের লাইন ট্রায়াল, উপকূলীয় টেকসই সার ব্যবস্থাপনা, বায়ো-কোটেড ইউরিয়ার ব্যবহার, ব্রি ধান১১২-এর উপযোগী রোপণ দূরত্ব নির্ধারণ, শস্যের নিবিড়তা বাড়ানোর পরীক্ষা এবং কীটনাশক কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ। ব্রির ৫২টি জাত নিয়ে একটি ‘রাইস গার্ডেন’ও করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় পরিবেশে জাতগুলোর অভিযোজন যাচাই হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, উপকূলের বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় স্থানভিত্তিক গবেষণার বিকল্প নেই; শ্রমিক সংকট ও মজুরি বাড়ার প্রেক্ষাপটে সময়মতো কাজ ও খরচ কমাতে ধান উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন খুলনার প্রধান ড. মো. সাজ্জাদুর রহমান জানান, প্রযুক্তি গ্রামটি গবেষণা, প্রদর্শনী ও কৃষকের অংশগ্রহণকে এক সুতোয় গেঁথেছে।
পরিদর্শনে শতাধিক কৃষক-কৃষাণির মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ব্রির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিল্লাল হোসাইন ও খালিদ হাসান সৌরভ এবং বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।
ছবি (প্রতীকী): ধানের চারা রোপণযন্ত্র (রাইস ট্রান্সপ্লান্টার)। ছবি: Werner Willmann / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: দৈনিক বাংলা





মন্তব্য
(০)