বাংলাদেশে জমি প্রস্তুতের ৯০ শতাংশ এখন পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরে হয়, সেচের প্রায় ৮০ শতাংশ যান্ত্রিক, কিন্তু ধান কাটায় যন্ত্রের ব্যবহার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। চীনে এই হার ৮০ শতাংশের বেশি। আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত এক কলামে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের এসব তথ্য তুলে ধরে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ লিখেছেন, দেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন এক সন্ধিক্ষণে। মতামত লেখকের নিজের।
লেখক শুরু করেছেন মাঠের উদ্ভাবকদের কথা দিয়ে: মানিকগঞ্জের তরুণ উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম নিজেই মালচিং পেপার কাটার একটি সহজ, দ্রুত ও নিখুঁত পদ্ধতি বের করেছেন; নেত্রকোনার কেনু মিস্ত্রি একসময় দেশীয় উপায়ে অসংখ্য কৃষিযন্ত্র বানিয়েছিলেন। তাঁর মতে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে যান্ত্রিকীকরণ মানে প্রযুক্তি, তথ্য ও নির্ভুলতার মাধ্যমে কৃষির রূপান্তর।
১৯৯০-এর দশকে মাত্র ৩০ শতাংশ জমি যন্ত্রে প্রস্তুত হতো। লেখকের মতে, গত কয়েক দশকে এক নীরব বিপ্লব ঘটেছে, তবে ফসল কাটায় পিছিয়ে থাকায় বোরো ও আমন মৌসুমে শ্রমিক সংকটে প্রতিবছর ৬ থেকে ১০ শতাংশ ফসল উৎপাদন-পরবর্তী ক্ষতির মুখে পড়ে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী। সরকার ও বেসরকারি খাত কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে উৎসাহ দিলেও ভর্তুকির যন্ত্র নিয়ে মাঠের অভিজ্ঞতা হতাশাজনক বলে লিখেছেন তিনি: প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হয়েছেন, কৃষকের নামে ব্যবসায়ীরা যন্ত্র তুলেছেন, যন্ত্রের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বরগুনার একদল কৃষক তাঁকে জানিয়েছেন, চেয়েও তাঁরা যন্ত্র পাননি, আর যিনি পেয়েছেন তিনি আসলে কৃষক নন।
চীনের আন্তর্জাতিক কৃষি যন্ত্রপাতি মেলায় প্রতিবছর যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে লেখক জানান, দেশটিতে প্রায় ৩০ কোটি হেক্টর জমিতে আধুনিক যন্ত্র চলে; জিপিএস-নির্ভর ট্রাক্টর, স্প্রে করার ড্রোন আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পোকা শনাক্তকরণ ব্যবহার হচ্ছে, স্যাটেলাইটে যুক্ত লাখ লাখ যন্ত্র নির্ভুল কৃষিকাজ করছে। ভারতে জমি প্রস্তুত ও সেচে যান্ত্রিকীকরণ প্রায় ৬০ শতাংশ, নেপালে ৪০ শতাংশের নিচে।
তাঁর মূল পরামর্শ: দেশে জমি কম, অধিকাংশ কৃষক ক্ষুদ্র বা মাঝারি, তাই ভর্তুকি দেওয়া উচিত ছোট আকারের যন্ত্রে। আশার কথা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান খণ্ডিত জমির উপযোগী মিনি কম্বাইন হারভেস্টার ও হালকা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার আমদানি বা দেশে তৈরি করছে।
যান্ত্রিকীকরণে জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা বাড়ে এবং বিকল্প কাজ না থাকলে গ্রামীণ শ্রমিক বিপদে পড়তে পারেন, তাই বিশেষজ্ঞদের 'ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি যান্ত্রিকীকরণ'-এর কথা তুলে ধরেছেন লেখক, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষ সেচপাম্প আর এআইভিত্তিক পরামর্শ একসঙ্গে থাকবে। তাঁর উপসংহার, ভবিষ্যতের কৃষিতে ফসলের ভাগ্য নির্ধারণে প্রযুক্তি হবে বৃষ্টির মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)