দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপের পৌরসভাগুলো অনানুষ্ঠানিক খামারিদের সহায়তা না করে আইনের কড়াকড়ি দিয়ে সামলাচ্ছে, এমন মত দিয়েছেন প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য ও কৃষি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পর্যটন বিষয়ক কমিটির সদস্য নোবুলুমকো এনকন্ডলো (Nobulumko Nkondlo)। ফুড ফর মজানসিতে প্রকাশিত কলামের মতামত লেখকের নিজস্ব।
তিনি লিখেছেন, বহু ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খামারি চাষাবাদের সবচেয়ে মৌলিক উপকরণ, জমিই পান না। তাই তাঁরা পৌরসভার জমি, খোলা মাঠ বা রাস্তার পাশে পশু রাখেন। তাঁর প্রশ্ন, "ভূমিহীনতা কবে থেকে অপরাধ হলো?"
নিজের তদারকি কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উদাহরণ দিয়েছেন। উইটজেনবার্গে ২০২৬ সালের ২০ জুলাই দশজনের বেশি নতুন খামারিকে, যাঁদের ৩০০টির বেশি ভেড়া ও গরু, ১৪ দিনের নোটিশ দেওয়া হয় যে পৌরসভার জমিতে চরানো পশু আটক করা হতে পারে, যদিও তাঁরা বছরের পর বছর ওই জমি ব্যবহার করছিলেন। জর্জের কাছে থেম্বালেথুতে রাস্তায় পশু পাওয়া গেলে আটক ও সর্বোচ্চ ২০ হাজার র্যান্ড জরিমানার মুখে পড়েছেন খামারিরা, যা কয়েক মাসের আয় মুছে দিতে পারে। ২০২৫ সালে ব্রেডাসডর্পের জুয়েলিৎসায় আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারের আশঙ্কায় প্রায় ৯০০ শূকর মেরে ফেলা হয়, প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন খামারিরা।
এনকন্ডলো আইন বা প্রাণিস্বাস্থ্য বিধির বিরোধিতা করছেন না, বরং খাতকে রোগ থেকে রক্ষায় সেগুলোকে জরুরি বলছেন। তাঁর যুক্তি, নিয়ম মানার কোনো পথ না রেখে নিয়ম চাপালে একটি চক্র তৈরি হয়: জমি নেই, তাই স্বীকৃতি নেই; স্বীকৃতি নেই, তাই সহায়তা নেই; সহায়তা নেই, তাই নিয়ম ভাঙা চলতেই থাকে, আর বাড়ে কড়াকড়ি।
তাঁর প্রস্তাব, পৌরসভা জমি দিক, চারণভূমি চিহ্নিত করুক, মৌলিক অবকাঠামো দিক, সহজ নিবন্ধন ব্যবস্থা করুক এবং সংকট চরমে ওঠার আগেই খামারিদের সঙ্গে কথা বলুক। তিনি মনে করিয়ে দেন, বর্ণবৈষম্যের যুগে টাউনশিপগুলো সস্তা শ্রমিকের থাকার জায়গা হিসেবে বানানো হয়েছিল, উৎপাদনের জায়গা হিসেবে নয়, আর সেই উত্তরাধিকার এখনো ঠিক করে দেয় ছোট খামারিরা কোথায় কাজ করতে পারবেন।
ছবি: JMK / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)