সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৯°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

সারা বছর লালশাক চাষ: বীজ বোনা, পরিচর্যা ও ফসল তোলার নিয়ম

লালশাক যেকোনো মৌসুমে বোনা যায়, তবে ভাদ্র থেকে পৌষে চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। জাগো নিউজ ২৪-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী বোনার ৩০ থেকে ৪০ দিনে শাক তোলা যায়, ফলন হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে ৬ টন।

সারা বছর লালশাক চাষ: বীজ বোনা, পরিচর্যা ও ফসল তোলার নিয়ম
শাকসবজি

বাংলাদেশের রান্নাঘরের অতি পরিচিত লালশাক বছরের যেকোনো মৌসুমে বোনা ও তোলা যায়। ২০২৬ সালের ১০ জুন প্রকাশিত এক কৃষি নির্দেশিকায় জাগো নিউজ ২৪ চাষিদের এ কথা মনে করিয়ে দেয়। নির্দেশিকায় পুরো চাষচক্র সহজ ধাপে তুলে ধরা হয়: কোন মাটি এ ফসলের উপযোগী, কোন সময়ে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়, শতকে ও হেক্টরে কতটুকু বীজ লাগে, ছিটিয়ে বা সারিতে কীভাবে বুনতে হয়, চারা কীভাবে পাতলা করতে ও সেচ দিতে হয় এবং কখন শাক তোলা শুরু করা যায়। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বীজ বোনার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে লালশাক খাওয়ার উপযুক্ত হয় এবং প্রতি শতকে ৩০ থেকে ৪০ কেজি, অর্থাৎ হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে ৬ টন ফলন পাওয়া যায়।

নিচে দেওয়া ধাপ ও সংখ্যাগুলো জাগো নিউজ ২৪-এর নির্দেশিকা থেকেই নেওয়া। সেগুলোর পাশাপাশি এই প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে গাছটি আসলে কী, বাংলাদেশে কেন এটি গ্রীষ্ম ও শীত দুই মৌসুমেই জন্মায়, চাষিরা কোন কোন জাত ব্যবহার করেন, এর বৃদ্ধি ও খাদ্যমান নিয়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক গবেষণায় কী পাওয়া গেছে এবং নির্দিষ্ট জমির জন্য সারের সঠিক পরামর্শ পেতে চাষিকে কোথায় যেতে হবে।

লালশাক আসলে কী


লালশাক অ্যামারান্থেসি (Amaranthaceae) গোত্রের অ্যামারান্থাস (Amaranthus) গণের উদ্ভিদ। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া ডাটাশাক জাতীয় এই উদ্ভিদগুলোকে ভারত বা ইন্দো-চীন অঞ্চলের আদি বীরুৎ উদ্ভিদ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার কচি পাতা ও ডাঁটা সবজি হিসেবে খাওয়া হয় এবং যা ভিটামিন এ ও সি, ক্যালসিয়াম ও আয়রনে সমৃদ্ধ। বাংলাপিডিয়া লালশাকের বৈজ্ঞানিক নাম লিখেছে Amaranthus gangeticus। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ইকোক্রপ তথ্যভান্ডার Amaranthus gangeticus নামটিকে Amaranthus tricolor-এর সমার্থক নাম হিসেবে ধরে; গবেষকেরা এখন এ ফসলের জন্য সাধারণত Amaranthus tricolor নামটিই ব্যবহার করেন।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ডাটাশাক চাষ হয়। পাতাজাতীয় ধরনটি, যার মধ্যে লালশাক পড়ে, সারা বছর চাষ করা যায়, তবে শীতের মাসগুলোতে এর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়। ডাঁটাজাতীয় ধরনটি মূলত গ্রীষ্মের সবজি; এর জাতের মধ্যে আছে বাঁশপাতা, কাতুয়া, সুরেশ্বরী ও আমনি। দেশের প্রধান সবজির তালিকায় বাংলাপিডিয়া চার ধরনের অ্যামারান্থ পাশাপাশি রেখেছে: ডাঁটা, লালশাক, কাঁটানটে ও নটেশাক।

এফএওর ইকোক্রপ বিবরণ অনুযায়ী Amaranthus tricolor কাঁটাবিহীন বীরুৎ উদ্ভিদ, উচ্চতা ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার। এর পাতা উপবৃত্তাকার থেকে বর্শাকার, লম্বায় ৪ থেকে ১০ সেন্টিমিটার, রং গাঢ় সবুজ, হালকা সবুজ বা লাল হতে পারে। গাছের মাথায় উজ্জ্বল রঙের পাতার একটি গুচ্ছ থাকে, যা লাল, বেগুনি, হলুদ বা নানা রঙে মেশানো হতে পারে। পাতা সবজি হিসেবে খাওয়া হয়, আবার শোভাবর্ধক গাছ হিসেবেও এটি লাগানো হয়। গাছটি সালোকসংশ্লেষণে সি-৪ পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত জন্মায়।

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমআরএইউ) গবেষকেরা ২০১৯ সালে সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে লেখেন, অ্যামারান্থাস গণে প্রায় ৭০টি প্রজাতি আছে, যার ১৭টির পাতা খাওয়া হয় এবং ৩টি দানাশস্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাঁরা Amaranthus tricolor ও এর সবুজ জ্ঞাতি প্রজাতিকে বাংলাদেশের সস্তা ও জনপ্রিয় পাতাশাক বলে উল্লেখ করেন, যার কদর স্বাদ, পুষ্টি ও পাতার রঙের জন্য। তাঁরা আরও জানান, বাংলাদেশে বিপুল বৈচিত্র্যপূর্ণ অ্যামারান্থ জার্মপ্লাজম রয়েছে। বিএসএমআরএইউর পরবর্তী এক গবেষণা, যা ২০২৩ সালে হেলিয়ন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়, অ্যামারান্থকে বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশে চাষ হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সবজি বলে উল্লেখ করে এবং জানায়, এর উৎপত্তি দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বলে মনে করা হয়।

বীজ থেকে গজানো লালশাকের কচি চারা। ছবি: Sajibur / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বীজ থেকে গজানো লালশাকের কচি চারা। ছবি: Sajibur / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কেন যেকোনো মৌসুমে বোনা যায়


জাগো নিউজ ২৪-এর নির্দেশিকায় বলা হয়, সারা বছরই লালশাক চাষ করা যায়, তবে ভাদ্র থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত এর চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। বাংলাপিডিয়ার সবজিবিষয়ক ভুক্তিও একই কথা বলে। সেখানে বেগুন, মিষ্টিকুমড়া ও ঢ্যাঁড়সের সঙ্গে লালশাককে সেই সব সবজির তালিকায় রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশে গ্রীষ্ম ও শীত দুই মৌসুমেই জন্মায়। একই ভুক্তিতে বলা হয়েছে, দেশে গ্রীষ্মকালীন সবজির চাষ প্রতিকূল আবহাওয়া ও পোকামাকড়ের আক্রমণে বাধাগ্রস্ত হয়।

গবেষণা এই ধারার কারণ বুঝতে সাহায্য করে। বিএসএমআরএইউর ২০১৯ সালের গবেষণাপত্রে বলা হয়, অ্যামারান্থ সারা বছর চাষ হয় এবং শীত ও তীব্র গরমের মাঝখানে পাতাশাকের যে ঘাটতি থাকে, তা-ও পূরণ করে। একই গবেষণাপত্র অনুযায়ী ফসলটি খরা ও লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। জাপানের গিফু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২০০৬ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সাতটি ভিন্ন সময়ে একটি ভিনাইল ঘরে লালশাকের দুটি উন্নত জাত, বারি-১ ও আলতাপাটি, চাষ করেন; ফলাফল ২০০৯ সালে জার্নাল অব সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান অ্যাগ্রিকালচারে প্রকাশিত হয়। এপ্রিলে দৈনিক গড় তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আগস্টে ২৯ ডিগ্রি। জুলাই ও আগস্টের উষ্ণ মাসগুলোতে, যখন গড় বায়ু তাপমাত্রা ছিল ২৮ থেকে ২৯ ডিগ্রি, গাছের জৈবভর ফলন এবং লাল রঞ্জক বিটাসায়ানিন সবচেয়ে বেশি হয়। এপ্রিল ও অক্টোবরে, যখন গড় তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ১৮ ও ১৯ ডিগ্রি, দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। গবেষকেরা দেখেন, সূর্যালোকের তীব্রতার চেয়ে বায়ুর তাপমাত্রার প্রভাবই বেশি।

অন্যান্য গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকাও একই দিকে ইঙ্গিত করে। নাইজেরিয়ার জাতীয় উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা ইনস্টিটিউট (এনআইএইচওআরটি) বলছে, অ্যামারান্থ ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রা পছন্দ করে এবং দিনের দৈর্ঘ্যের প্রতি সংবেদনশীল; দিন ১২ ঘণ্টার চেয়ে ছোট হলে বেশির ভাগ প্রজাতিতে ফুল আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেইরি ভিউ এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১ সালের একটি তথ্যপত্র, যা মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সহায়তায় তৈরি, জানায়, বীজ গজানোর জন্য মাটির তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২৫ ডিগ্রি হওয়া দরকার এবং বায়ুর তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির বেশি হলে গাছ সবচেয়ে ভালো বাড়ে।

জমি বাছাই ও প্রস্তুতি


জাগো নিউজ ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বেলে-দোআঁশ থেকে এঁটেল-দোআঁশ মাটি লালশাক চাষের উপযুক্ত, আর যে জমিতে পানি জমে না, সেটিই সবচেয়ে ভালো। অন্যান্য নির্দেশিকাও পানির বিষয়টিতে জোর দেয়। প্রেইরি ভিউ এঅ্যান্ডএমের তথ্যপত্র বলছে, শাকজাতীয় অ্যামারান্থ নানা ধরনের মাটিতে মানিয়ে নেয়, উর্বর ও ভালো নিষ্কাশনযুক্ত মাটিতে সবচেয়ে ভালো হয় এবং জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। এনআইএইচওআরটি জানায়, ভালো পানি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দোআঁশ বা পলি-দোআঁশ মাটিতে এটি সবচেয়ে ভালো জন্মায়, মাটির পিএইচ ৪.৫ থেকে ৮.০ পর্যন্ত সহ্য করে এবং বর্ষাকালে গাছ বাঁচিয়ে রাখতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা অপরিহার্য।

এ কারণে এনআইএইচওআরটির নির্দেশিকায় উঁচু বেড তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে: শুকনা মৌসুমে প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার চওড়া ও ২০ সেন্টিমিটার উঁচু, আর বর্ষায় ৩০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি উঁচু। পানি জমে না এমন জমি বেছে নেওয়ার যে পরামর্শ জাগো নিউজ ২৪ দিয়েছে, তা-ও একই কথা বলে।

জাগো নিউজ ২৪-এর নির্দেশিকায় বীজ বোনার আগে জমি ভালো করে চাষ দিয়ে মই দিয়ে সমান করতে বলা হয়। বিএসএমআরএইউর ২০২৩ সালের মাঠ গবেষণাতেও গবেষণা প্লট প্রায় একইভাবে তৈরি করা হয়েছিল: জমি তিন থেকে চারবার চাষ ও আড়াআড়ি চাষ দিয়ে মই দিয়ে ঝুরঝুরে করা হয় এবং বোনার আগে নাড়া ও আগাছা সরিয়ে ফেলা হয়। প্রেইরি ভিউ এঅ্যান্ডএম বলছে, সরাসরি বীজ বোনার জন্য মিহি ও দৃঢ় বীজতলাই ভালো।

বীজ বোনা: ধাপে ধাপে


জাগো নিউজ ২৪-এর নির্দেশিকায় বীজ বোনার দুটি পদ্ধতি, ছিটিয়ে বোনা ও সারিতে বোনা, বর্ণনা করা হয় এবং বীজের পরিমাণ ও ধাপগুলো এভাবে দেওয়া হয়:

  • প্রতি শতকে বীজের পরিমাণ: সারিতে বুনলে ১০০ গ্রাম, ছিটিয়ে বুনলে ১৫০ গ্রাম।
  • হেক্টরপ্রতি বীজের পরিমাণ: সারিতে বুনলে ১ থেকে ১.৫ কেজি, ছিটিয়ে বুনলে ২ থেকে ২.৫ কেজি।
  • জমি ভালো করে চাষ দিয়ে মই দিয়ে সমান করতে হবে।
  • ছিটিয়ে বোনার জন্য ১ ভাগ বীজের সঙ্গে ৯ ভাগ শুকনা ছাই মিশিয়ে জমিতে হালকাভাবে ছিটাতে হবে।
  • সারিতে বোনার জন্য ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে কাঠি দিয়ে নালা টেনে ১.৫ থেকে ২.০ সেন্টিমিটার গভীরে বীজ বুনে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
  • সব সার বীজ বোনার আগেই মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

নির্দেশিকায় বীজ সমানভাবে ছড়ানোর জন্য শুকনা ছাই মেশানোর কথা বলা হয়েছে। অ্যামারান্থের বীজ খুব ছোট বলে এনআইএইচওআরটিও আয়তনের হিসাবে ১ ভাগ বীজের সঙ্গে ১০ ভাগ বালু মিশিয়ে বোনার পরামর্শ দেয়, আর বোনার পর বীজ হালকা মাটি বা শুকনা ঘাস দিয়ে ঢেকে দিতে বলে, যাতে বীজ ভালোভাবে গজায়। এনআইএইচওআরটি আরও জানায়, বীজতলায় চারা তৈরি করে বোনার তিন থেকে চার সপ্তাহ পর, যখন চারায় চার থেকে সাতটি প্রকৃত পাতা আসে, তখন মূল জমিতে লাগানো যায়; এতে জমিতে ফসল কম সময় থাকে এবং চারা সমানভাবে দাঁড়ায়। জাগো নিউজ ২৪-এর নির্দেশিকায় শুধু সরাসরি বীজ বোনার পদ্ধতিই বর্ণনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের গবেষণা প্লটেও প্রায় একই ঘনত্ব ব্যবহার করা হয়েছে। বিএসএমআরএইউর ২০২৩ সালের ২০টি অ্যামারান্থ জিনোটাইপের পরীক্ষায় সারি থেকে সারির দূরত্ব ছিল ২৫ সেন্টিমিটার এবং সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৫ সেন্টিমিটার; সারিতে বোনা ফসলের জন্য জাগো নিউজ ২৪-ও সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৫ সেন্টিমিটার রাখার কথা বলেছে।

সার, চারা পাতলা করা, সেচ ও আগাছা দমন


জাগো নিউজ ২৪ পরিমাণমতো গোবর, ইউরিয়া, টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) ও এমওপি (মিউরিয়েট অব পটাশ) সার দেওয়ার এবং সব সার বীজ বোনার আগেই মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। নির্দেশিকায় সারের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। কোন জমিতে কতটুকু সার লাগবে, তা নির্ভর করে সেই জমির মাটির ওপর। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পরামর্শ দিতে পারেন, সম্ভব হলে মাটি পরীক্ষার পর।

এত কম বয়সে তোলা একটি ফসলের জন্যও মাটির উর্বরতা কেন গুরুত্বপূর্ণ, গবেষণা তা দেখায়। এফএওর ইকোক্রপ বিবরণের হিসাবে, আট সপ্তাহে হেক্টরপ্রতি ২৫ টন ফলন দেওয়া একটি ফসল মাটি থেকে প্রায় ১২৫ কেজি নাইট্রোজেন, ২৫ কেজি ফসফরাস, ২৫০ কেজি পটাশিয়াম, ৭৫ কেজি ক্যালসিয়াম ও ৪০ কেজি ম্যাগনেশিয়াম তুলে নেয়। এনআইএইচওআরটি বলছে, অ্যামারান্থ অনুর্বর মাটিতেও জন্মাতে পারে, তবে জৈব সার বা রাসায়নিক সার দিলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে; কী সার দিতে হবে, তা ঠিক করতে প্রতিষ্ঠানটি মাটি পরীক্ষার সুপারিশ করে। প্রেইরি ভিউ এঅ্যান্ডএমের তথ্যপত্র অনুযায়ী, শাক তোলার পর নতুন পাতা গজাতে উচ্চমাত্রার নাইট্রোজেন অপরিহার্য।

বাংলাদেশের দুটি মাঠ গবেষণায় এ ফসলে ব্যবহৃত পুষ্টি উপাদানের মাত্রা দেখা যায়। ২০১০ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজীপুরে বিএসএমআরএইউর খামারে পরিচালিত এক গবেষণায়, যা জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেসে প্রকাশিত হয়, বারি লালশাক-১ জাতে ইউরিয়ার মাধ্যমে হেক্টরপ্রতি শূন্য থেকে ১৫০ কেজি পর্যন্ত ছয়টি মাত্রায় নাইট্রোজেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয়; সর্বোচ্চ মাত্রাটি গাছের স্বল্পমেয়াদি বৃদ্ধি ও ফলনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বিএসএমআরএইউর ২০২৩ সালের জিনোটাইপ পরীক্ষায় শেষ চাষের সময় হেক্টরপ্রতি ১০ টন কম্পোস্ট এবং ইউরিয়া, টিএসপি, মিউরিয়েট অব পটাশ ও জিপসাম যথাক্রমে ২০০, ১০০, ১৫০ ও ৩০ কেজি দেওয়া হয়। এগুলো ছিল গবেষণা প্লটের ব্যবস্থাপনা, কোনো নির্দিষ্ট খামারের জন্য সুপারিশ নয়।

জাগো নিউজ ২৪-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, চারা গজানোর পর ঘন জায়গা থেকে চারা তুলে পাতলা করে দিতে হবে। ছিটিয়ে বোনা হলে প্রতি বর্গমিটারে ১০০ থেকে ১৪০টি গাছ রাখতে হবে; সারিতে বোনা হলে প্রতি সারিতে ৫ সেন্টিমিটার দূরে দূরে গাছ রাখতে হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়, ৪ থেকে ৫ দিন পরপর সেচ দিতে পারলে ভালো, আর সময়মতো আগাছা পরিষ্কার করে মাটি আলগা করে দিতে হবে। বিএসএমআরএইউর ২০২৩ সালের পরীক্ষায় প্রতি ৭ দিন পরপর নিড়ানি ও মাটি আলগা করা হয় এবং ৫ থেকে ৭ দিন পরপর সেচ দেওয়া হয়।

মৌসুমের শুরু ও শেষ, দুই সময়েই পানি গুরুত্বপূর্ণ। এনআইএইচওআরটি সতর্ক করে, পানির অভাবে অ্যামারান্থে আগাম ফুল আসে এবং বিক্রয়যোগ্য পাতার ফলন কমে যায়; আর ভালোভাবে চারা দাঁড়ানোর জন্য বোনা বা চারা লাগানোর পরপরই সেচ দেওয়া দরকার। প্রেইরি ভিউ এঅ্যান্ডএম বলছে, তীব্র খরায় আগাম ফুল আসে এবং পাতার উৎপাদন কমে। আগাছার প্রতিযোগিতা, মাটি শক্ত হয়ে যাওয়া ও ক্ষয় কমাতে এবং মাটিতে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এনআইএইচওআরটি মালচিং বা জমি ঢেকে রাখার পরামর্শ দেয়।

পোকামাকড় ও রোগের বিষয়ে প্রেইরি ভিউ এঅ্যান্ডএমের তথ্যপত্রে সম্ভাব্য শত্রু পোকার মধ্যে স্নাউট বিটল বা শুঁড়পোকা, মথের শূককীট, গন্ধি পোকা ও অ্যামারান্থ উইভিলের নাম রয়েছে। তথ্যপত্রে আরও বলা হয়, মাটিবাহিত ছত্রাক পিথিয়াম অ্যাফানিডারমাটাম ও রাইজোকটোনিয়া বীজতলায় গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। জাগো নিউজ ২৪-এর নির্দেশিকায় বালাই দমনের কথা বলা হয়নি। যেকোনো বালাইনাশক কেবল উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়েই বেছে নেওয়া উচিত।

বারি লালশাক-১ ও অন্যান্য জাত


বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশে পাতাজাতীয় ডাটাশাকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাতের নাম উল্লেখ করেছে: আলতাপাটি ও বারি লালশাক-১। দ্বিতীয়টি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবিত জাত। জ্ঞানকোষটির তথ্য অনুযায়ী, জাতভেদে ডাটাশাকের ফলন হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৫ টন পর্যন্ত হয়।

বাংলাদেশে লালশাক নিয়ে গবেষণায় বারি লালশাক-১ আদর্শ জাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত বিএসএমআরএইউর এক গবেষণায় ছয়টি দেশি পাতাশাকের তুলনা করা হয়। সেখানে বারি লালশাক-১-কে নিয়ন্ত্রণ বা তুলনার মানদণ্ড হিসেবে নেওয়া হয়, কারণ জাতটি ব্যাপকভাবে গৃহীত, পাতাশাক হিসেবে নিবন্ধিত জাত, এর রং আকর্ষণীয় এবং এর পুষ্টিগুণ ভালোভাবে নথিভুক্ত। ২০১০ সালে বিএসএমআরএইউর নাইট্রোজেন পরীক্ষাতেও একই জাত ব্যবহার করা হয়। গিফু বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯ সালের গবেষণায় প্রতিটি চাষকালেই বারি-১ জাত আলতাপাটির চেয়ে বেশি জৈবভর ফলন দেয়, অন্যদিকে আলতাপাটিতে লাল রঞ্জক বিটাসায়ানিন বেশি জমে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ফসলের প্রজনন গবেষণা চলছে। বিএসএমআরএইউর ২০২৩ সালের গবেষণায় পাতার ফলন, রঞ্জক ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদানের ভিত্তিতে ২০টি শাকজাতীয় অ্যামারান্থ জিনোটাইপ মূল্যায়ন করা হয় এবং এএ৫, এএ৬, এএ৮, এএ১০, এএ১১, এএ১৯ ও এএ২০, এই সাতটিকে উচ্চফলনশীল ও রঞ্জকসমৃদ্ধ লাইন হিসেবে বাছাই করা যেতে পারে বলে চিহ্নিত করা হয়। ২০১৯ সালের বিএসএমআরএইউ গবেষণাপত্রে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রঞ্জকসমৃদ্ধ দুটি লাল জিনোটাইপ, ভিএ৩ ও ভিএ১৩, অগ্রসর লাইন হিসেবে বাছাই করা হয়। এগুলো গবেষণা পর্যায়ের লাইন, চাষিদের জন্য অবমুক্ত জাত নয়। কোন এলাকা ও মৌসুমে কোন অবমুক্ত জাত উপযোগী, তা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়।

লাল পাতার একটি Amaranthus tricolor জাত; লালশাক এই প্রজাতিরই অন্তর্ভুক্ত। ছবি: Prenn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
লাল পাতার একটি Amaranthus tricolor জাত; লালশাক এই প্রজাতিরই অন্তর্ভুক্ত। ছবি: Prenn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

শাক তোলা ও ফলন


জাগো নিউজ ২৪-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, বীজ বোনার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে লালশাক খাওয়ার উপযুক্ত হয়। একসঙ্গে সব শাক না তুলে ধীরে ধীরে সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয় সেখানে। নির্দেশিকায় ফলন ধরা হয় প্রতি শতকে ৩০ থেকে ৪০ কেজি, অর্থাৎ হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে ৬ টন।

আন্তর্জাতিক তথ্যসূত্রেও শাক তোলার সময় প্রায় একই, আর তোলার পদ্ধতিভেদে মোট ফলন বদলে যায়। এফএওর ইকোক্রপ বিবরণ অনুযায়ী, বীজ বোনার ৩০ থেকে ৫০ দিন পর, বা চারা লাগানোর ১৫ থেকে ২০ দিন পর ফসল তোলা যায়। গাছ শিকড়সহ না তুলে কেটে দিলে তা ১২০ থেকে ৩০০ দিন পর্যন্ত বাড়তে থাকে এবং বারবার ফসল দেয়। পুরো গাছ একবারে তুললে হেক্টরপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টন, আর ডগা বারবার কেটে নিলে হেক্টরপ্রতি ৩০ থেকে ৬০ টন ফলন হতে পারে। এনআইএইচওআরটির হিসাবে জাত ও তোলার পদ্ধতিভেদে বোনার ৩৫ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ফসল তোলার উপযোগী হয়, আর ফাঁকা করে লাগানো ফসলে বারবার কেটে নেওয়াই ভালো পদ্ধতি। প্রেইরি ভিউ এঅ্যান্ডএম প্রায় ৩০ থেকে ৫৫ দিনের কথা বলে এবং তোলা পাতা বাতাস চলাচলের ছিদ্রযুক্ত ব্যাগে রেখে সেদিনই বিক্রি করার বা ফ্রিজে রাখার পরামর্শ দেয়।

ফসল খুব দ্রুত তৈরি হয় বলে এটি অন্য ফসলের ফাঁকে জায়গা করে নিতে পারে। বিএসএমআরএইউর ২০১৯ সালের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, শীত ও তীব্র গরমের মাঝখানে পাতাশাকের ঘাটতি অ্যামারান্থ পূরণ করে।

পাতায় কী আছে


মার্কিন কৃষি বিভাগের ফুডডেটা সেন্ট্রাল তথ্যভান্ডারে (এসআর লিগ্যাসি, ভুক্তি ১৬৮৩৮৫) কাঁচা অ্যামারান্থ পাতার প্রতি ১০০ গ্রামে শক্তি ২৩ কিলোক্যালরি এবং পানি ৯১.৭ গ্রাম ধরা হয়েছে। একই ১০০ গ্রামে আছে ২.৪৬ গ্রাম প্রোটিন, ৪.০২ গ্রাম শর্করা, ০.৩৩ গ্রাম চর্বি, ২১৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৩২ মিলিগ্রাম আয়রন, ৫৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম, ৬১১ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ৪৩.৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১৪৬ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ (রেটিনল অ্যাকটিভিটি ইকুইভ্যালেন্ট হিসেবে), ৮৫ মাইক্রোগ্রাম ফোলেট এবং ১ হাজার ১৪০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে। এগুলো সাধারণভাবে অ্যামারান্থ পাতার মান, বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট জাতের নয়।

লাল জাতগুলোতে বাড়তি রঞ্জক থাকে। বিএসএমআরএইউর ২০১৯ সালের গবেষণায় দেখা যায়, লাল রঙের Amaranthus tricolor জিনোটাইপগুলো বিটালেইন রঞ্জক, ক্যারোটিনয়েড ও ভিটামিন সির চমৎকার উৎস। যেমন, প্রতি ১০০ গ্রাম তাজা পাতায় ১২২.৪৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং ৫৫.৫৫ মিলিগ্রাম ক্যারোটিনয়েড পাওয়া যায়, আর পরীক্ষিত সবুজ জিনোটাইপের চেয়ে এগুলোতে ফেনোলিক অ্যাসিড ও ফ্ল্যাভোনয়েড বেশি ছিল। গবেষকেরা বলেন, এসব উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণ নিয়ে বিস্তারিত ঔষধতাত্ত্বিক গবেষণা দরকার। অর্থাৎ এগুলো পরীক্ষাগারের পরিমাপ, স্বাস্থ্যের ওপর কোনো প্রভাবের প্রমাণ নয়।

গবেষণা সাহিত্য থেকে দুটি সতর্কতাও পাওয়া যায়। ২০০৩ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের ভাতনির্ভর খাবারের আদলে তৈরি খাদ্য কম বয়সী ইঁদুরকে খাওয়ানো হয়। দেখা যায়, খাদ্যে অ্যামারান্থ পাতা (Amaranthus gangeticus) যোগ করলে ক্যালসিয়ামের শোষণ ও শরীরে ধরে রাখা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, সম্ভবত পাতার অক্সালেটের কারণে। গবেষকেরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, শুধু আলাদা আলাদা খাবারের পুষ্টিমান দেখে সুপারিশকৃত খাদ্যতালিকা ঠিক করা যায় না। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফুডস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় বলা হয়, পাতাজাতীয় অ্যামারান্থে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অক্সালেট থাকতে পারে, যা ক্যালসিয়ামের প্রাপ্যতা কমায় এবং সংবেদনশীল মানুষের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম-অক্সালেট কিডনি পাথরের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে। পাতায় কখনো কখনো নাইট্রেটও জমে, যা উচ্চমাত্রায় শিশুদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পর্যালোচনায় বলা হয়, সেদ্ধ করে রান্নার পানি ফেলে দিলে অক্সালেট ও নাইট্রেট কমে বলে দেখা গেছে, আর এসব উপাদান তুলনামূলক কম মাত্রায় থাকে, যা স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে সাধারণত ক্ষতি করে না।

পাতায় ভিটামিন কে-ও প্রচুর, যা শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রোটিন তৈরিতে লাগে। মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের স্বাস্থ্যতথ্য সেবা মেডলাইনপ্লাস পরামর্শ দেয়, রক্ত পাতলা করার ওষুধ ওয়ারফারিন যাঁরা খান, তাঁদের ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, আর তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিন মোটামুটি একই পরিমাণ খাওয়া, কারণ হঠাৎ পরিমাণ বদলালে ওষুধের কার্যকারিতা বদলে যেতে পারে। কিডনিতে পাথর থাকলে, ওয়ারফারিন খেলে বা বিশেষ খাদ্যতালিকা মেনে চললে কতটুকু পাতাশাক খাওয়া যাবে, সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রান্নার ক্ষেত্রে বাংলাপিডিয়া জানায়, পাতাজাতীয় ডাটাশাকের কচি পাতা সাধারণত ভাজি করে খাওয়া হয়, আর ডাঁটা সাধারণত মাছ বা অন্য সবজির সঙ্গে রান্না করা হয়।

বাঙালি ধরনে ভাজা লালশাক। ছবি: Atudu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাঙালি ধরনে ভাজা লালশাক। ছবি: Atudu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বসতবাড়ি থেকে বাজার: লালশাকের জায়গা


বাংলাপিডিয়া জানায়, বাংলাদেশে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ১০০ ধরনের সবজি চাষ হয় এবং উৎপাদনের তিনটি ধরন বর্ণনা করে। বসতবাড়ির পদ্ধতিতে বাড়ির চারপাশে নানা আকার, বৃদ্ধির ধরন ও চাহিদার সবজি একসঙ্গে জন্মানো হয়, প্রধানত দেশি জাত ও প্রচলিত পদ্ধতিতে, পরিবারের নিজের খাওয়ার জন্য, আর উদ্বৃত্ত বিক্রি করা হয়; এ পদ্ধতিতে নারীরাই প্রধান ভূমিকা রাখেন। বাণিজ্যিক উৎপাদনে মাঠের প্লটে উন্নত ও প্রচলিত পদ্ধতি মিলিয়ে উচ্চফলনশীল জাত, ঘন করে লাগানো, একাধিক ফসল চাষ এবং বিপণনের দিকে নজর দেওয়া হয়। তৃতীয় পদ্ধতিতে বীজ উৎপাদনের জন্য সবজি চাষ করা হয়।

বিএসএমআরএইউর ২০২৩ সালের গবেষকেরা উচ্চ ফলন ও কম উৎপাদন খরচের কারণে অ্যামারান্থকে অন্যান্য সবজির তুলনায় কম দামের সবজি বলে বর্ণনা করেন, আর ২০১৯ সালের গবেষণাপত্রে একে সস্তা ও জনপ্রিয় পাতাশাক বলা হয়। জাগো নিউজ ২৪-এর তথ্যমতো বীজ বোনার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে শাক তোলা যায় এবং যেকোনো মৌসুমে বোনা যায় বলে লালশাক বসতবাড়ির ছোট জমিতেও যেমন চাষ করা যায়, তেমনি বাণিজ্যিক মাঠেও।

ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া (ডাটাশাক; সবজি), এফএও ইকোক্রপ (Amaranthus tricolor), ইউএসডিএ ফুডডেটা সেন্ট্রাল (এসআর লিগ্যাসি ১৬৮৩৮৫), সায়েন্টিফিক রিপোর্টস (সরকার ও ওবা, ২০১৯; বিএসএমআরএইউ, ২০২৪), হেলিয়ন (বিএসএমআরএইউ, ২০২৩), জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস (বিএসএমআরএইউ, ২০১৩), জার্নাল অব সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান অ্যাগ্রিকালচার (গিফু বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০৯), ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশন (লারসেন ও অন্যান্য, ২০০৩), ফুডস (পর্যালোচনা, জানুয়ারি ২০২৬), নাইজেরিয়ার জাতীয় উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা ইনস্টিটিউট, প্রেইরি ভিউ এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়, মেডলাইনপ্লাস (মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

ফসল

এক বছরে পেঁয়াজ বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ টন, আলু কমেছে ৩ লাখ টন: বিবিএস

বিবিএসের কৃষি বিভাগের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেঁয়াজ, আমন, রসুন, শীতকালীন মরিচ, ভুট্টা ও সয়াবিনের উৎপাদন বেড়েছে, কমেছে আলু ও গম।

প্রথম আলো২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
রান্নাবান্না

আলু, কিডনি বিন আর মাশরুমে ঘন গরম স্যুপ: সহজ রেসিপি

পেঁয়াজ, মাশরুম, পুদিনা-রোজমেরি ভেজে কর্নস্টার্চ, সয়া সস, সর্ষে, ব্রথ ও আলুতে ফুটিয়ে শেষে সেদ্ধ কিডনি বিন আর দুধ; ফ্রিজে ৩-৪ দিন, ডিপ ফ্রিজে এক মাস রাখা যায়।

আজকের পত্রিকা১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

উল্লাপাড়ায় আগাম খিরা উঠতে শুরু, আড়তে মণ ১,২০০ থেকে ১,২৫০ টাকা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ৩৬০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২২৫ হেক্টরে খিরা বোনা হয়েছে; চরবদ্ধনগাছা ও চাকশা আড়তে আগাম খিরা চড়া দামে বিকোচ্ছে।

কৃষি সময়১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)